কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে সংবাদ প্রকাশের জেরে ‘মিথ্যা’ মামলায় ২৪ দিন ধরে কারাবন্দী খায়রুল ইসলাম ফকির (৪০) নামের এক সাংবাদিক। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তাঁর পরিবার। আজ বুধবার খায়রুলের মুক্তি ও মামলা থেকে অব্যাহতির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্বজনেরা।
কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খায়রুল ইসলামের বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও সন্তানেরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তাঁরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক প্রভাবশালীর প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন খায়রুল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ গোবিন্দপুর গ্রামের পোল্যান্ডপ্রবাসী আসাদুজ্জামান কিরণের সঙ্গে প্রতিবেশী নজরুল ইসলামের জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় দুপক্ষের মারামারি ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ২৭ ফেব্রুয়ারি খায়রুল ওই সংবাদ একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশ করেন। এতে তাঁর ওপর ক্ষিপ্ত হন আসাদুজ্জামান কিরণ।
গত ২ মার্চ প্রতিপক্ষ নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কিরণসহ আটজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। এর তিন দিন পর ৫ মার্চ কিরণের বোন আনুরা বাদী হয়ে একটি পাল্টা মামলা করেন।
সেই মামলায় খায়রুল ইসলাম ফকিরকে প্রধান আসামি করে ভাঙচুর, লুটপাট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়। পরিবারের দাবি, বিত্তশালী কিরণ পুলিশকে প্রভাবিত করে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে খায়রুলকে এই মামলায় জড়িয়েছেন।
পরে ৯ মার্চ খায়রুল ইসলাম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সেই থেকে তিনি কারাবন্দী।
সংবাদ সম্মেলনে খায়রুলের স্ত্রী খোশনাহার আক্তার (৩৩) বলেন, ‘আমার স্বামী ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। কেবল সংবাদ প্রকাশের অপরাধে তাঁকে অপরাধী বানানো হয়েছে।’
খায়রুলের সত্তরোর্ধ্ব মা নূরজাহান বলেন, ‘আমার ছেলে নির্দোষ। সত্য লিখে যদি তাকে জেলে যেতে হয়, তবে আমরা বিচার পাব কার কাছে?’ তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মামলা থেকে খায়রুলের নাম প্রত্যাহার এবং তাঁর মুক্তির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।