ভালো কাজের প্রলোভন ও বিদেশ যাত্রার প্রথম ধাপ হিসেবে গিয়ে পাচারের শিকার সাতজন বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে ভারত। অনুপ্রবেশের দায়ে সেখানে দুই বছরসহ বিভিন্ন মেয়াদে সেখানকার জেলে আটক ছিলেন তারা। সাজা খেটে অবশেষে আজ শনিবার পশ্চিমবঙ্গের হরিদাসপুর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট (আইসিপি) দিয়ে তাদেরকে বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ফেরত আসা বাংলাদেশিরা হলেন– বরিশাল হিজলা উপজেলার আবদা গ্রামের আলতাব হোসেন মাঝির মেয়ে জেসমিন আক্তার, পটুয়াখালীর মাদানপুর এলাকার মাঝপাড়া গ্রামের শাহআলমের ছেলে আরমান হোসাইন, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর এলাকার রামগোবিন্দ হিসাবিয়া গ্রামের মৃত নুর আলীর মেয়ে রুপা ইসলাম (ওরফে নেহা), গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলার ভাঙ্গারহাট এলাকার কোনেরবিটা গ্রামের চিন্ময় বড়াইয়ের ছেলে জিতেন্দ্র বড়াই (ওরফে জ্যোতির্ময় বড়াই), যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া গ্রামের নবিসউদ্দিনের ছেলে আব্দুল্লা আলী, বরিশাল জেলার কোতোয়ালি মডেল থানার দপ্তরখানা রোডের স্বরূপ ম্যানসনের বঙ্কিম চন্দ্র হালদারের ছেলে রাজু হালদার (ওরফে সৌরভ হালদার) এবং পটুয়াখালীর সদর থানার ইসলামাবাদ এলাকার পাচাকোরালিয়া গ্রামের ফারিকুল ইসলামের ছেলে আবু তাহের।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, ফেরত আসা বাংলাদেশিদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার ছয়জন এবং মহিলা আইনজীবী সমিতি একজনকে গ্রহণ করেছে।
মানবাধিকার সংগঠনের কর্মকর্তা রেখা বিশ্বাস জানান, ফেরত বাংলাদেশিরা বিদেশে যাওয়ার আশায় দালাল ও অনলাইনের মাধ্যমে প্রতারকদের প্রলোভনে পড়ে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিল। পরে ভারতের কলকাতায় ঘোরাফেরার সময় পুলিশ তাদের আটক করে এবং অনুপ্রবেশের অভিযোগে দমদম জেলে পাঠায়। দুই দেশের মানবাধিকার সংস্থার হস্তক্ষেপে ভারত ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্রায় দুই বছর সাজাভোগের পর তাদের কলকাতার একটি শেল্টার হোমে রাখা হয়। পরবর্তীতে দেশে ফেরার অনুমতি পেয়ে তারা বাংলাদেশে ফিরে এসেছে। বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।