সুনামগঞ্জের শাল্লায় হিন্দু-পল্লীতে হামলা, লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনায় হওয়া দুই মামলায় আরও দুটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। প্রথমে যে ধারায় মামলা হয়েছিল তাকে আইনজীবীরা ‘অতি-দুর্বল এবং অপরাধী রক্ষার মামলা’ আখ্যা দেন। পরে গতকাল দুটি মামলায়ই দণ্ডবিধির ৫০৫ (ক) এবং ৩৮২ সংযোজন করে পুলিশ। সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত বুধবার শাল্লার নোয়াগাঁও গ্রামের হিন্দু-পল্লীতে ৮৮ বাড়ি ও ৫টি মন্দির ভাংচুর করা হয়। এলাকাবাসী বলছেন, হেফাজত নেতা মামুনুল হকের সমর্থকরা এ হামলা চালিয়েছে। নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস আপন নামের এক তরুণের ফেসবুক আইডি থেকে মামুনুল হককে কটাক্ষ করায় এ হামলা হয়েছে বলেও ধারণা তাঁদের। ফেসবুক লাইভেও হামলাকারীরা হামলার কথা স্বীকার করেছে।
১৮ তারিখের এ ঘটনায় এ পর্যন্ত দুটি মামলা হয়েছে। একটি মামলা করেছেন নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা বিবেকানন্দ মজুমদার বকুল। এ মামলার নামসহ ৮০ এবং অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ শ’ জনকে আসামী করা হয়েছে। পুলিশের উপ পরিদর্শক মো. আব্দুল করিম বাদী হয়ে করা মামলার আসামী অজ্ঞাতনামা ১৪-১৫ শ’ জন। মামলা দুটির ধারা যথাক্রমে ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩৭৯/৩৮০/৪২৭/২৯৫/৫০৬, ৩৪ এবং ১৪৩, ৪৪৭/ ৪৪৮/ ৩৭৯/৩৮০/২৯৫/৪২৭, ৩৪।
মামলা হওয়ার সময় পুলিশ বলেছিল প্রয়োজনে নতুন ধারা যুক্ত করা হবে। এই কথা অনুযায়ী আইনজীবীদের সমালোচনার পর দণ্ডবিধির ৫০৫ এ এবং ৩৮২ ধারা যুক্ত হল। ৫০৫ (ক) ধারায় উসকানির কথা বলা আছে। মৌখিক এবং লিখিত উভয় প্রকার উসকানি এ ধারায় পড়বে। ৩৮২ ধারায় পড়বে চুরি, লুটপাট।
উল্লেখ্য, এ পর্যন্ত মামলার প্রধান আসামি শহীদুল ইসলাম স্বাধীন মিয়াসহ ৩৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।