গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে জনমত গঠন এবং শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে ফেনীতে কাওয়ালি সন্ধ্যার আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নজরুল-ফররুখ পরিষদ ফেনী জেলা শাখা।
অনুষ্ঠানে কাওয়ালি পরিবেশন করেন চট্টগ্রামের কাওয়ালি শিল্পীগোষ্ঠী ধ্রুবতারা ও সাফিনা। এ ছাড়া ফেনীর কাঁশফুল একাডেমিসহ স্থানীয় শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন। পুরো আয়োজনে আবৃত্তি, নাট্য প্রদর্শনী, বিপ্লবী গান ও কাওয়ালির পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী সৈয়দ আশরাফুল হক আরমান।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নজরুল-ফররুখ পরিষদের উপদেষ্টা ও জামায়াত নেতা অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, জেলা জামায়াতে আমির মুফতি আবদুল হান্নান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ফেনীর আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকতসহ অন্যরা।
নজরুল-ফররুখ পরিষদ ফেনী জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী জুবায়ের আল মুজাহিদ বলেন, ‘গণভোটে হ্যাঁর পক্ষে জনমত তৈরি এবং জুলাই আন্দোলনের অগ্রসেনানী শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে এই আয়োজন করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, ‘ইসলামী সংগীত তথা কাওয়ালি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির অংশ। দীর্ঘদিন ধরে এ সংস্কৃতি থেকে তরুণদের দূরে রাখা হয়েছে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে তারা আবারও সুষ্ঠু বিনোদন ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হতে পারবে।’ ভারতের আধিপত্যবাদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেই শহীদ ওসমান হাদিকে শহীদ হতে হয়েছে। আমরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবেশীকে মেনে নেব, তবে কেউ যদি আমাদের ওপর দাদাগিরি চাপিয়ে দিতে চায়, শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত তা মেনে নেওয়া হবে না।’