ভোলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা এক নারী রোগীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে হাসপাতালের নতুন ভবনের তিনতলার একটি নির্জন কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত আরিফকে (৩০) হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে উপস্থিত জনতা। অভিযুক্ত আরিফ স্থানীয় অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্টাফ হিসেবে কর্মরত বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী ওই নারী অভিযোগে জানান, আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন। এ সময় অ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্টাফ আরিফ তাঁকে নানা প্রলোভন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলে ভুল বুঝিয়ে এবং ফুসলিয়ে হাসপাতালের তিনতলার একটি নির্জন কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষের দরজা বন্ধ করে ভুক্তভোগীর হাত, পা ও মুখ চেপে ধরে তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়।
ধর্ষণের শিকার নারী রোগী ওই কক্ষ থেকে দৌড়ে নিচে নেমে আসেন এবং ডাকচিৎকার শুরু করেন। তাঁর চিৎকার শুনে সাধারণ মানুষ ও হাসপাতালের কর্মীরা দ্রুত তিনতলার ওই রুমে গিয়ে আলামতসহ অভিযুক্ত আরিফকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত আরিফকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আরিফ তাঁর অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ওই মুহূর্তে আমার ‘‘মাথা ঠিক ছিল না’’।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক তৈয়বুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় হাসপাতালের স্টাফরা অভিযুক্ত আরিফকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ভুক্তভোগীর ভাই বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আরিফকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে আগামীকাল বুধবার (৮ এপ্রিল) ভোলার আদালতে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, এর আগেও ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল এক অ্যাম্বুলেন্সচালকের বিরুদ্ধে।