পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাঠি ইউনিয়নের বিনয়েকপুর গ্রামের যুবক আব্দুর রহমান। পড়ালেখা শেষ করে ভালো চাকরির জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন; কিন্তু চাকরি জোটাতে ব্যর্থ হন তিনি। তবে বেকার বসে না থেকে শুরু করেন হাঁস-মুরগি পালার কাজ। নিজের বাড়িতেই হাঁস, মুরগি, কবুতর, গরু ও ছাগলের সমন্বিত খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। তিনি বলেছেন, ইউটিউবে ইনকিউবেটরে হাঁস-মুরগির বাচ্চা ফুটানো শিখে তাঁর কাজে বড় সাফল্য এনেছেন।
আব্দুর রহমান বলেন, ‘ছাত্রজীবন থেকেই মুরগি পালার অভ্যাস ছিল। শুরুতে কয়েকটি দেশি মুরগি পালা শুরু করি। লাভ আসতে শুরু করলে ধীরে ধীরে যোগ হয় গরু, ছাগল ও কবুতর। তবে বড় পরিবর্তন আসে ইউটিউবে ইনকিউবেটরে হাঁস-মুরগির বাচ্চা ফুটানোর ভিডিও দেখার মাধ্যমে। এই ভিডিও দেখে মাথায় আসে নতুন ভাবনা। বাজারে একটি মুরগির বাচ্চার দাম ৫০-৬০ টাকা। সিদ্ধান্ত নিই নিজে ইনকিউবেটর কিনে হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন করব।’
আব্দুর রহমান জানান, মাত্র ৩০ হাজার টাকায় একটি ইনকিউবেটর কিনে খামারের ব্যবসার নতুন অধ্যায় শুরু করেন। প্রথমে ২৮০টি ডিম দিয়ে পরীক্ষা চালান। সফলতা আসে প্রায় ৬০ শতাংশ। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তাঁর ইনকিউবেটর থেকে প্রতি দেড় মাসে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ হাঁস-মুরগির বাচ্চা ফোটে। মুরগির ডিম ফুটতে সময় লাগে ২১ দিন, হাঁসের ডিমে ৩০ দিন। তিনি বলেন, ‘এখন ৮-১০ টাকায় ডিম কিনে নিজেই বাচ্চা তৈরি করতে পারছি। এতে খরচ কম, লাভ বেশি।’
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, আব্দুর রহমানের পুরো বাড়িটি একটি সমন্বিত খামারে রূপ নিয়েছে। এক পাশে দেশি গরুর ছোট খামার, পাশে ছাগল, দুই শতাধিক কবুতর, হাঁস-মুরগির শেড এবং আলাদা কক্ষে ইনকিউবেটর। একজন কর্মচারী নিয়মিত তাঁর খামারের পরিচর্যা করছেন।
ইনকিউবেটরে হাঁস-মুরগির বাচ্চা ফুটিয়ে আব্দুর রহমানের মাসিক আয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে খামার থেকে মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করেন তিনি। কয়েক হাজার টাকা দিয়ে শুরু করা এই উদ্যোগে এখন তাঁর মূলধন ১০ লাখ টাকার বেশি।
আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমি চাই খামারটা আরও বড় করতে। পাশাপাশি গ্রামের শিক্ষিত বেকার তরুণদের এই কাজ শেখাতে চাই, যাতে তাঁরাও উদ্যোক্তা হতে পারেন।’