মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় কারাগারে গেলেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিনা বেগম। বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. শরীয়ত উল্লাহ আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একাধিক বিয়ে, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দৃষ্টিকটু সম্পর্ক ও প্রতারণাসহ নানা অভিযোগে সেলিনা দীর্ঘদিন ধরে ববিতে আলোচিত।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সেলিনার সাবেক স্বামীর করা সাইবার আইনের মামলার আসামি ববি কর্মকর্তা সেলিনা বেগম। তিনি মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেছেন। এই অভিযোগে আগের দেওয়া জামিন আদেশ বাতিল করে তাঁকে আজ কারাগারে পাঠানো হয়।
বাদীর আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ ইমন জানান, সেলিনার বিরুদ্ধে গত ৩ ডিসেম্বর সাইবার আইনে মামলা করেছেন সাবেক স্বামী ভোলা জেলা শিল্পকলা একাডেমির কর্মকর্তা মো. হাসানুর রশিদ। বাদীর অভিযোগ, দাম্পত্যসম্পর্ক থাকাকালে তাঁর কিছু আপত্তিকর ছবি সেলিনার মোবাইল ফোনে ছিল। বিচ্ছেদের পর ওই ছবি সেলিনা ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। গত ডিসেম্বরে সাইবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দিলে বিচারকের নির্দেশে কোতোয়ালি থানায় এজাহার হিসেবে নেওয়া হয়। সেলিনা আদালত থেকে জামিনে মুক্ত ছিলেন।
অ্যাডভোকেট ইমন আরও জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত সেলিনার মোবাইল ফোনের দুটি সেট জব্দ করতে চান। তখন সেলিনা জানান, সেট দুটি হারিয়ে গেছে। এ-সংক্রান্ত একটি জিডির কপি দেন তদন্ত কর্মকর্তাকে।
বরিশাল কোতোয়ালি থানায় গত ১১ ডিসেম্বর ওই জিডি করা হয়। তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২৭ নভেম্বর তাঁর দুটি মোবাইল ফোন সেট চুরি হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে নিশ্চিত হয়, ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত সেট দুটি ব্যবহার করে সেলিনা তদন্ত কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলেছেন। আদালতকে এসব বিষয় অবহিত করা হলে আজ সেলিনার জামিন বাতিল হয়।
উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগে লালমনিরহাট জেলা শিল্পকলায় কর্মরত ছিলেন মামলার বাদী হাসানুর রশিদ। তখন লালমনিরহাটে অফিসকক্ষে ঢুকে তাঁকে বেদম মারধর করেন সেলিনা। ওই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এর আগে সেলিনা বরিশাল আমর্ড পুলিশের সাবেক এসপি মাহমুদুল হাসান ফেরদৌসের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ মামলা করেছেন। ওই মামলা বরিশাল নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. তৌফিক আলম সাংবাদিকদের জানান, সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে মামলা আদালতে বিচারাধীন। তাই আদালতের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সে অনুযায়ীই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।