কিশোরগঞ্জের ইটনা সরকারি কলেজকে ওয়াক্ফ করে দেওয়া জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে। ‘পৈতৃক সূত্রে সম্পত্তির মালিক’ উল্লেখ করে তাঁর ভাতিজা মাহমুদুল হাসান মাজহারুল কলেজের জায়গায় সাইনবোর্ড স্থাপন করেছেন। এ ছাড়া কলেজের পুকুরের মধ্যে বেষ্টনী তৈরি করে বিশাল অংশে নিজেদের দখল প্রতিষ্ঠা করেছেন।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কলেজ ছুটি থাকার সময়ে গত ২৩ মার্চ সাইনবোর্ড দিয়ে জায়গা ও পুকুর দখল করার পর গতকাল বুধবার সকাল থেকে জায়গাটিতে কংক্রিটের (রড, সিমেন্ট, বালুর তৈরি) পিলার বসানো হচ্ছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফুঁসছেন। বিষয়টি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তবে কেউ-ই মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
কলেজের ছাত্র-শিক্ষক সূত্র জানিয়েছে, প্রত্যন্ত হাওর উপজেলা ইটনায় ১৯৯৮ সালে স্থানীয় প্রচেষ্টায় ইটনা মহাবিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার সময় স্থানীয় বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তিরা প্রতিষ্ঠানটির জন্য জমি দান করেন। ২০১৬ সালে কলেজটি সরকারীকরণ করা হয়। কলেজটির জায়গার একটি অংশে একটি বিশাল আয়তনের পুকুর রয়েছে।
পুকুরটি ইজারা দিয়ে কলেজের কিছু টাকা আয় হয়। বর্তমানে শাহীন মিয়া নামের এক ব্যক্তি পুকুরটি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করছেন। বিগত ঈদুল ফিতরের ছুটির সময় ২৩ মার্চ পুকুরটির বেশির ভাগ অংশে বেষ্টনী তৈরি করে এবং পাড়ে সাইনবোর্ড স্থাপন করে অন্তত এক একরের মতো জায়গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেন দখলে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কলেজ-সংলগ্ন পুকুরপাড়ে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। এতে লেখা রয়েছে, ‘পৈতৃক সূত্রে নিম্ন তফসিলবর্ণিত সম্পত্তির মালিক অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান (মাজহারুল) গং।’ এর নিচের অংশে সম্পত্তির তফসিল, জমির পরিমাণ ৪১ শতাংশ এবং মোবাইল ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকা ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমি কলেজটির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে কর্মরত আছি। বিদ্যমান সম্পত্তি কলেজকে ভোগদখল করতে দেখে আসছি। এখন পুকুরের বেশির ভাগ অংশ নিজেদের দাবি করে আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মাজহারুল গংয়ের নামে সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছে।’
এলাকার শিক্ষানুরাগী ও সচেতন মহলের বক্তব্য অনুযায়ী, জায়গাটিতে কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইটনা সরকারি কলেজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এবং এটি ওয়াক্ফভুক্ত সম্পত্তি হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত। ফলে হঠাৎ করে ব্যক্তিগত মালিকানার দাবি তোলা এবং সাইনবোর্ড স্থাপনকে তাঁরা পরিকল্পিত দখলের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের পরিবারের অনেক জায়গা এখানে রয়েছে। আমাদের বসতবাড়িও এখানে। কলেজ হওয়ার পর দুইটা হোস্টেলও হয়েছে আমাদের জায়গায়। আওয়ামী লীগের আমলে নানাভাবে কলেজের নামে আমাদের এসব জায়গা ভোগদখল করা হয়েছে। যে জায়গা নিয়ে কথা উঠছে, সেটি আমার জায়গা না, আমার বড় ভাইয়ের জায়গা। তাঁর ছেলেরা মামলা-মোকদ্দমা করে রায় পেয়েছেন। সেভাবেই হয়তো তাঁরা জায়গাটিতে দখলে গেছেন। তবে বিষয়টি সম্পর্কে আমি জানি না। এর সঙ্গে আমি কোনোভাবে জড়িতও নই।’