ফরিদপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রহিমা নামে সাত মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটি মাদারীপুর জেলা সদরের কাউদিয়া গ্রামের রিয়াজ খাঁর মেয়ে। চলতি বছর ফরিদপুর জেলায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের উপসর্গ নিয়ে এটিই প্রথম শিশু মৃত্যুর ঘটনা। এ ছাড়া জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে ১৮ জন চিকিৎসা নিচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের কার্যালয় (সিভিল সার্জন) থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। তাতে উল্লেখ করা হয়, গতকাল বুধবার বিকেলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় শিশুটি। তাকে গত ২৭ মার্চ হাসপাতালটিতে ভর্তি করা হয়েছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ওই শিশুটি হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়। পরে আমরা ওর নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকার মহাখালীর রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠাই। যদিও আমরা ওর হামে আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট এখনো পাইনি। তবে উপসর্গ দেখে আমাদের চিকিৎসকেরা একে ক্লিনিক্যালি হামের কারণে মৃত্যু বলে মন্তব্য করেছেন।’
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হামের উপসর্গ নিয়ে ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল ১ এপ্রিল পর্যন্ত ৬৫ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে ৯ জন ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে দুটি হাসপাতালে ১৮ জন চিকিৎসাধীন।
সিভিল সার্জন মাহামুদুল হাসান বলেন, হাম আক্রান্ত উপসর্গের রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালে সিট সংকুলান না হওয়ায় হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে রোগীরা। তিনি বলেন, যেসব রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হচ্ছে, তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে হামে আক্রান্ত কি না তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে যারা চিকিৎসা নিচ্ছে, তাদের প্রত্যেকের হামের উপসর্গ রয়েছে।