Ajker Patrika

চবি ছাত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা ছাত্রদল নেতা

চবি প্রতিনিধি 
চবি ছাত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা ছাত্রদল নেতা
ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) এক ছাত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়েছেন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান। নিজের এমন কর্মকাণ্ড আড়াল করতে অন্য দুই নির্দোষ শিক্ষার্থীর নাম জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। পরে এ ঘটনায় তাঁকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।

গতকাল শনিবার গভীর রাতে জোবরা এলাকার চৌধুরী পুকুর ২ নং রোড কে জে এম টাওয়ারের পাশের ভবন থেকে স্থানীয়দের হাতে আটক হওয়ার পর বিষয়টি সামনে আসে।

সাকিফ সর্বশেষ চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের প্যানেল থেকে আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছিলেন। এ ঘটনার আগে গত বৃহস্পতিবার চাকসুর উদ্যোগে পর্দানশিন নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন ক্যানটিনে ‘ছাত্রী কর্নার’ চালু করা হলে তা নিয়ে ফেসবুকে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করে শিক্ষার্থীদের সমালোচনার মুখে পড়েন।

জানা গেছে, ঘটনার পর ‘মিডিয়া অব জোবরা-ফতেহপুর’ নামের একটি ফেসবুক পেজে শনিবার রাত ২টার দিকে একটি পোস্ট করা হয়। পোস্টটির শুরুতে আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমানের নাম ‘সাকিব রহমান’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও পরে সেটি পরিবর্তন করে রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্র এবং প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক ছাত্রীর নাম যুক্ত করা হয়। কিন্তু দোষ চাপানো এই দুই শিক্ষার্থী ঘটনার আগেই ঈদের ছুটিতে নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাকিফ রহমান বলেন, ‘ও (মেয়ে) সকাল ৬টার বাসের টিকিট কেটেছিল। আমরা কয়েকজন মিলে রাতে ঘোরাঘুরি ও নাইট আউট করার পরিকল্পনা করেছিলাম। খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় প্রথমে হাটহাজারীতে খেতে যাই, পরে জোবরা এলাকার একটি দোকানের সামনে মারামারির পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সে ২ নম্বর গেট দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকার কথা বলে।’

সাকিফ আরও বলেন, ‘আমার বাসার সামনে আসার পর তাকে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে বলেছিলাম। কিন্তু সেখানে কয়েকজন ছেলে অবস্থান করছিল। তাই জায়গাটি নিরাপদ মনে হয়নি। পরে তাকে বাসার ভেতরে বসতে বলি এবং জানাই যে আমি গোসল করে ব্যাগ নিয়ে বের হয়ে যাব। আমি গোসলে ঢোকার কিছুক্ষণ পরই স্থানীয় কয়েকজন দরজায় নক করতে শুরু করে। দরজা খুললে তারা জানতে চায়, বাসার ভেতরে কোনো মেয়ে আছে কি না। আমি তাদের পুরো বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করি। গোসল থেকে বের হওয়ায় তখন আমার শরীর ভেজা ছিল। একপর্যায়ে তারা আমাদের মানিব্যাগ ও ল্যাপটপ নিয়ে যায়।

জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করছি। তার বিষয়ে কেন্দ্র ব্যবস্থা নিয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর ড. মো. কামরুল হোসেন বলেন, ‘এ রকম একটা ঘটনার খবর পেয়ে আমরা গিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে নিয়ে আসি। ঈদের ছুটি থাকায় পরে এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত