Ajker Patrika

থানায় অভিযোগের পরও থামছে না চুরি-ডাকাতি, আতঙ্কে সাভারের উত্তরপাড়ার বাসিন্দারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
থানায় অভিযোগের পরও থামছে না চুরি-ডাকাতি, আতঙ্কে সাভারের উত্তরপাড়ার বাসিন্দারা
ঢাকার সাভার থানা। ছবি: সংগৃহীত

সাভার পৌর এলাকার উত্তরপাড়ায় গত দুই সপ্তাহ ধরে চুরি ও ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো বাড়িতে হানা দিয়ে নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী লুটে নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, থানায় একাধিকবার জানানো হলেও এখনো কার্যকর ব্যবস্থা চোখে পড়েনি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা সাধারণত বাড়ির বারান্দা বা রান্নাঘরের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর আলমারি ও শোকেসের ড্রয়ার ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে বাসার সদস্যরা জেগে উঠলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেওয়া হয়।

উত্তরপাড়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত শনিবার রাতে দুর্বৃত্তরা তাঁদের বাড়ির নিচতলার রান্নাঘরের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢোকে। এরপর তাঁর মা মনোয়ারা বেগমের শয়নকক্ষ থেকে ১ লাখ টাকা, দুটি সোনার কানের দুল ও একটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘থানায় অভিযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যায় না। তাই এবার বিষয়টি পুলিশকে জানাইনি এবং কোনো অভিযোগও করিনি।’

একই রাতে পাশের বাড়ির বাসিন্দা আজিজুর রহমানের দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া ফরহাদ হোসাইনের বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ফরহাদ জানান, চার থেকে পাঁচজন দুর্বৃত্ত রান্নাঘরের জানালার গ্রিল কেটে বাসায় প্রবেশ করে। পরে তারা তাঁর মামাতো বোন রুমির কক্ষের দরজা ভেঙে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করে এবং ৫ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে।

ফরহাদের ভাষ্য, এরপর ডাকাতেরা তাঁর কক্ষে ঢুকে প্রায় এক ভরি স্বর্ণালংকার, তিন ভরি রুপা, দুটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১২ হাজার টাকা নিয়ে যায়।

ফরহাদ হোসাইন বলেন, ‘ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে থানার উপপরিদর্শক এসআই আব্দুস সালামকে। তাঁর সঙ্গে আমার ফোনে কয়েকবার কথা হয়েছে। এ ছাড়া আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত মামলা রুজুসহ থানা থেকে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম বলেন, ‘অভিযোগটির তদন্তের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই রাতে উত্তরপাড়ার মসজিদের পাশের হাবিবুর রহমানের বাড়িতেও গ্রিল কেটে প্রবেশ করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

সাভার লাইব্রেরির মালিক হোসেন আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া নেপাল চন্দ্র সাহা জানান, গত বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁর বাসার বারান্দার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে ৫ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা।

নেপাল চন্দ্র সাহা বলেন, ‘ঘটনার সময় আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। সকালে উঠে দেখি বারান্দার গ্রিল কাটা এবং টাকা ও মোবাইল ফোন নেই।’

একই এলাকার বাসিন্দা রিপন জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে সাত থেকে আটজন দুর্বৃত্ত গ্রিল কেটে তাঁদের বাড়িতে ঢুকে তাঁর মা জাহানারা বেগমকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে তারা ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ২৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

রিপন বলেন, ‘ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত পুলিশ তদন্ত করতেই আসেনি।’

গত রোববার গভীর রাতে উত্তরপাড়ার নৈশপ্রহরীরা সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করে স্থানীয় বাসিন্দাদের খবর দেন। পরে এলাকাবাসী তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মারধর করে। খবর পেয়ে সাভার থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এনামুল হক ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসা শেষে কোনো অভিযোগ না থাকায় তাঁদেরকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নৈশপ্রহরী আব্দুল কাদের দাবি করেন, ‘রোববার রাতে তিন যুবক এলাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী মুন্নার বাসায় আসেন। এ কারণে তাঁদের সন্দেহ করা হয়। পরে মুন্নার বাসায় তল্লাশি চালিয়ে সাত থেকে আটটি মানিব্যাগ ও গাঁজা পাওয়া যায়, যা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

আব্দুল কাদের আরও বলেন, ‘মাঝেমধ্যে গভীর রাতে চার থেকে পাঁচজন সশস্ত্র যুবক এলাকায় মহড়া দেন। তাঁরা কেউই এই এলাকার নন। বিষয়টি থানা-পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে; কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

এএসআই এনামুল হক বলেন, ‘চোর সন্দেহে আটক করার পর এলাকাবাসী তাঁদের মারধর করে। এতে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরে কোনো অভিযোগ না থাকায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

ধারাবাহিক চুরি-ডাকাতির বিষয়ে সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘উত্তরপাড়া এলাকার চুরি ও ডাকাতির অভিযোগগুলো আমাদের নজরে এসেছে। ওই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই আব্দুস সালামকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত