
চাঁপাইনবাবগঞ্জের পশুর হাটে অবৈধভাবে আনা ভারতীয় গরু ও মহিষ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। পদ্মা নদী দিয়ে নৌকায় করে এসব পশু জেলার তত্তিপুর, রামচন্দ্রপুর ও সোনাচণ্ডী পশুর হাটে এনে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সরকার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের দাবি, ভারতের সীমান্তবর্তী মহলদারপাড়া, নূরপুর, চানপুর ও বাহুড়া এলাকার মাঠ থেকে গরুগুলো প্রথমে নদীর ঘাটে জড়ো করা হয়। এরপর ডলার নামের এক মাঝির নৌকায় করে গরুগুলো পদ্মা নদীর বাংলাদেশ অংশে আনা হয়। এ জন্য তিনি প্রতি জোড়া গরু বাবদ প্রায় ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেন।
জানতে চাইলে মোবাইল ফোনে ডলার মাঝি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আট বছর ভারত থেকে গরু এনে ব্যবসা করেছি। এখন দুই মাস ধরে আর করছি না। তবে সবাই আমার নাম ব্যবহার করে।’
ডলার মাঝি জানান, ভারত থেকে এক জোড়া গরু ১ থেকে ২ লাখ টাকায় কিনে এনে বাংলাদেশে ৪ থেকে ৮ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। হাটে বৈধতার ‘ছাড়পত্র’ নিতে জোড়াপ্রতি আরও ৭ হাজার টাকা লাগে।
সরেজমিনে তত্তিপুর পশুর হাটে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থান থেকে আনা ভারতীয় গরু সারিবদ্ধভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে। দরদাম শেষে সেগুলো দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সীমান্ত থেকে গরু আনা-নেওয়ার কাজে নিয়মিত জড়িত রাখাল ও সহযোগীর মধ্যে রয়েছেন—কুতুব উদ্দিন, খাইরুল, নয়ন, মোমিন, তোতা, মোক্তার হোসেন, বাবু, উসা গনি, টুটুল, টেক্কা ও সাইদুল। কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা হলেন—আবু, ফটিক, সেলিম, বাবু ও আলমগীর।
এ ছাড়া সদর উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মাহফুজ মেম্বার ওসব এলাকার চোরাকারবারিদের নিয়ন্ত্রণকারী। জানতে চাইলে মাহফুজ মেম্বার বলেন, ‘২০১৯-২০ সালের দিকে ভারত থেকে গরুর আনার ব্যবসা করতাম। এখন আর করি না।’
এদিকে ৫৩ ও ১৬ বিজিবির একাধিক বিজ্ঞপ্তির তথ্যে দেখা যায়, গত ২০ এপ্রিল থেকে ১৮ মে পর্যন্ত সময়ে অন্তত সাতটি বিওপি এলাকায় ভারতীয় গরু ও মহিষ পাচারের ঘটনা ধরা পড়েছে। এসব বিওপি হলো—বিভীষণ, জহুরপুর, হাকিমপুর, ফরিদপুর, মনাকষা, মাসুদপুর ও বাখের আলী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন ভারতীয় গরু সীমান্ত পেরিয়ে পশুর হাটে বিক্রি হলেও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো তৎপরতা নেই বললেই চলে। এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব মনিরুজ্জামান বলেন, প্রয়োজন হলে সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে গরু আমদানি করবে। কিন্তু সীমান্ত দিয়ে গরু পাচার হলে সরকার রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি চোরাচালান সিন্ডিকেট শক্তিশালী হয়ে উঠবে।
৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মোস্তাফিজুর রহমান মোবাইল ফোনে বলেন, গত এক বছরে প্রায় ১৯ কোটি টাকার পাচারকৃত সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। গরু পাচার বন্ধে বিজিবি শতভাগ চেষ্টা করছে।
তত্তিপুর হাটে ভারতীয় গরু বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সীমান্ত থেকে ৮-১০ কিলোমিটার ভেতরে অবস্থিত হাটে সরাসরি অভিযান পরিচালনা বিজিবির নিয়মের আওতায় পড়ে না। তবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মূসা জঙ্গী বলেন, ‘ভারত থেকে গরু এসে এসব হাটে বিক্রি হচ্ছে—এমন তথ্য তিনি পেয়েছেন এবং বিষয়টি বিজিবিকে জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘বিজিবি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে ম্যাজিস্ট্রেট চায়, তাহলে জেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

দেশীয় মোজাফফর জাতের লিচুর পাশাপাশি হাটবাজারে সুস্বাদু বোম্বে লিচুরও সরবরাহ বেড়েছে, দামও বেশ চড়া। তবে মিলছে না ক্রেতা। দুই-তিন দিন ধরে এ চিত্র লিচুর জন্য বিখ্যাত পাবনার ঈশ্বরদীর জয়নগর হাটে। এতে হতাশ লিচুচাষিরা।
২ ঘণ্টা আগে
পবিত্র ঈদুল আজহা আগামী বৃহস্পতিবার। তাই পশুর হাটের পাশাপাশি জমে উঠেছে কামারের দোকানগুলো। হাপরের বাতাসে জ্বলে ওঠা কয়লার আগুনে লাল টকটকে লোহায় পড়ছে হাতুড়ির সজোর আঘাত। কোথাও চলছে ছুরি-চাপাতি তৈরির কাজ, কোথাও আবার পুরোনো দা-বঁটিতে শাণ দেওয়া।
২ ঘণ্টা আগে
পবিত্র ঈদুল আজহার বাকি মাত্র তিন দিন। কিন্তু বন্দরনগরী চট্টগ্রাম ও বরিশাল নগরে কোরবানির পশু বেচাকেনা জমেনি। বরিশালের হাটগুলোয় গত বছরের তুলনায় এবার পশু কম উঠেছে। দর্শনার্থীদের অনেকে হাট ঘুরে গরু বা ছাগল দেখে দরদাম করেই ফিরে যাচ্ছে।
২ ঘণ্টা আগে
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বসা অস্থায়ী গরুর হাটগুলোতে আনুষ্ঠানিক কেনাবেচা শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে জমে উঠছে বাজার। হাটগুলোতে ছোট, মাঝারি, বড় গরু, মহিষ, ষাঁড়, খাসি, উট নিয়ে হাজির বিক্রেতারা। তবে অতিরিক্ত গরম এবং হঠাৎ বৃষ্টিতে ভুগছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
৩ ঘণ্টা আগে