Ajker Patrika

মৌলভীবাজার: ৪৫টি ইটভাটার মধ্যে, একটিরও ছাড়পত্র নেই

মাহিদুল ইসলাম, মৌলভীবাজার
মৌলভীবাজার: ৪৫টি ইটভাটার মধ্যে, একটিরও ছাড়পত্র নেই
জালালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেঁষে গড়ে ওঠা একটি ইটভাটা। গতকাল মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

মৌলভীবাজার জেলায় ৪৫টির ইটভাটার মধ্যে একটিরও পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। সরকারি অনুমোদন ছাড়াই এগুলোতে অবৈধভাবে কার্যক্রম চলছে। ইট তৈরি হচ্ছে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি দিয়ে। যদিও আইন অনুযায়ী, ইট তৈরিতে এভাবে কৃষিজমির মাটি ব্যবহারের সুযোগ নেই। কেননা জমির উপরিভাগের চার-ছয় ইঞ্চি মাটিতেই সবচেয়ে বেশি উর্বরতা শক্তি থাকে। ফলে এটি কেটে নিলে দীর্ঘ সময়ের জন্য কৃষিজমি অনুর্বর হয়ে পড়ে।

ইট প্রস্তুত নিয়ন্ত্রণ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাহাড়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং লোকালয় থেকে তিন কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে কোনো ইটভাটা নির্মাণ করা যাবে না বলে উল্লেখ রয়েছে। তবে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই জেলার বেশির ভাগ ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সড়কের পাশে। কুলাউড়া, কমলগঞ্জ, জুড়ী, বড়লেখা, রাজনগর, শ্রীমঙ্গল ও সদর উপজেলা—সর্বত্র একই চিত্র। এমনকি কোথাও এক কিলোমিটারের মধ্যে ৩-৪টি ভাটাও রয়েছে।

মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার সাতটি উপজেলায় ৪৫টি ইটভাটা রয়েছে। এর সবগুলোই চলছে অবৈধভাবে। ২৩টি ভাটার আগে পরিবেশগত ছাড়পত্র থাকলেও পরে সেটি বাতিল করা হয়েছে। তাতে অবশ্য সেগুলোর কার্যক্রমে ছেদ পড়েনি। ছয় মাস পরপর উচ্চ আদালতে রিট করে ভাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে মালিকপক্ষ। এ নিয়ে অসহায়ত্বের কথা জানালেন মৌলভীবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মাঈদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বেশির ভাগ ইটভাটাই আদালত থেকে রিট করে চালানো হচ্ছে।

ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এ বলা হয়েছে, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়নের স্বার্থে আধুনিক প্রযুক্তির ইটভাটা স্থাপন করতে হবে। কৃষিজমি, পাহাড়, টিলা থেকে মাটি কেটে ইটের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে বাস্তবে এই আইনের প্রয়োগ নেই বললেই চলে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, মৌলভীবাজারে প্রতিবছর আনুমানিক দুই থেকে আড়াই কোটি ঘনফুট ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ইটভাটায় নিয়ে যাওয়া হয়। এতে একদিকে ফসল উৎপাদন কমে যাচ্ছে; অন্যদিকে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন ইটভাটা ঘুরে দেখা গেছে, সেগুলোতে বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটি এনে স্তূপ করে রাখা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ মাটি আনা হয়েছে তিন ফসলি জমি থেকে। একেকটি ভাটায় বছরে ২০-৩০ লাখ ইট পোড়ানো হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) জাতীয় পরিষদ সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, অবৈধ ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নিয়ে কৃষি ও পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে। কোনোভাবেই পরিবেশের ক্ষতি করে ইটভাটাকে প্রাধান্য দেওয়া যাবে না।

বিভিন্ন ভাটার মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আইনি জটিলতা এড়াতে উচ্চ আদালতে রিট করে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। তবে এসব ভাটায় কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. জালাল উদ্দীন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তানভীর হোসেন বলেন, ‘আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযান পরিচালনা করব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত