হোম > প্রযুক্তি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় চিরতরে বদলে যাচ্ছে ইন্টারনেট

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

ছবি: সিএনএন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্রুত বদলে দিচ্ছে ইন্টারনেট ব্যবহারের ধরন। সার্চ ইঞ্জিন থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন কেনাকাটা—সবখানেই এখন এআই-এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল বলছে, মানুষের অনলাইন অনুসন্ধানের ধরন বদলে যাওয়ায় তাদেরও সার্চ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনতে হচ্ছে।

গুগল সার্চের প্রোডাক্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট রবি স্টেইন জানান, এখন ব্যবহারকারীরা আগের মতো ছোট বা সাধারণ শব্দ নয়, বরং দীর্ঘ ও জটিল প্রশ্ন করছেন। অনেক প্রশ্নের সরাসরি উত্তর ইন্টারনেটে কোথাও নেই। এ কারণেই গুগল নতুন এমন ফিচার আনছে, যা বিভিন্ন ওয়েবসাইটের তথ্য একত্র করে কাস্টম ভিজ্যুয়াল, ইন্টারঅ্যাকটিভ গ্রাফিকস এমনকি ছোট অ্যাপও তৈরি করতে পারবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষ এখন ক্রমেই চ্যাটজিপিটির মতো এআই অ্যাপ ব্যবহার করে তথ্য খোঁজা শুরু করছে। ফলে সার্চের ভাষাও বদলে যাচ্ছে। আগে যেখানে দুই বা তিনটি শব্দ দিয়ে সার্চ করা হতো, এখন অনেকেই পুরো বাক্য বা কথোপকথনের মতো প্রশ্ন লিখছেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান Semrush-এর তথ্য অনুযায়ী—১১ শব্দ বা তার বেশি দীর্ঘ সার্চ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে কথোপকথনধর্মী অনুসন্ধানের পরিমাণও দ্রুত বাড়ছে।

গুগল জানিয়েছে, গত ২৫ বছরে তাদের সার্চ বক্সে এটিই সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। নতুন সংস্করণে ব্যবহারকারীরা শুধু লেখা নয়, ছবি, ফাইল বা ব্রাউজারের ট্যাবও যুক্ত করে অনুসন্ধান করতে পারবেন। গুগলের তথ্যমতে, ছবি তুলে বা স্ক্রিনে কোনো কিছু চিহ্নিত করে করা সার্চ বছরে প্রায় ৬০ শতাংশ হারে বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চ্যাটজিপিটি মানুষের সার্চ করার অভ্যাসই বদলে দিয়েছে। এখন মানুষ শুধু তথ্য খোঁজে না; বরং তুলনা, বিশ্লেষণ ও সারাংশ তৈরির কাজেও এআই ব্যবহার করছে। তবে গুগল এখনো সরাসরি তথ্য বা কেনাকাটা সংক্রান্ত অনুসন্ধানে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।

এআই-এর প্রভাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বাড়ছে। ইনস্টাগ্রামের জনপ্রিয় এআই ইনফ্লুয়েন্সার আইতানা লোপেজের মতো চরিত্রগুলো বাস্তব মানুষ না হলেও লাখো অনুসারী অর্জন করেছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডও এখন এআই-নির্ভর কনটেন্টে বেশি বিনিয়োগ করছে। কারণ এসব ভার্চ্যুয়াল ইনফ্লুয়েন্সার তুলনামূলক সস্তা এবং সহজে বিভিন্ন প্রচারণার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া যায়।

অনলাইন কেনাকাটাতেও এআই বড় ভূমিকা নিতে শুরু করেছে। অ্যাডোবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রির ওয়েবসাইটগুলোতে এআই-সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক প্রায় ৩৯৩ শতাংশ বেড়েছে। গুগল, অ্যামাজন, মেটা ও ওপেনএআই ইতিমধ্যে এআইভিত্তিক শপিং টুল চালু করেছে।

তবে এআই যতই বিস্তৃত হোক, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন মানবনির্ভর মানসম্মত ওয়েবসাইটের প্রয়োজন এখনো শেষ হয়ে যায়নি। কারণ শেষ পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিশ্লেষণ ও সৃজনশীল কনটেন্টের জন্য মানুষের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পর্কের পরামর্শে মানুষের চেয়ে এআইতে বেশি ভরসা জাপানি প্রবীণ নারীদের: সমীক্ষা

শেয়ারবাজারে নাম লেখাতে আবেদন স্পেসএক্সের, ট্রিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে ইলন মাস্ক

প্রথমে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’, ভোর ৪টায় ই-মেইলে ৮০০০ কর্মী ছাঁটাই

এআই দিয়ে সর্বশেষ উপন্যাস লিখলেন নোবেলজয়ী লেখক

ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে করা মামলায় হারলেন মাস্ক

রোদে ত্বক পোড়ার অভিজ্ঞতা: শক্তি সংরক্ষণের নতুন প্রযুক্তি

ইনস্টাগ্রাম ‘ইনস্ট্যান্টস’ ফিচারে ছবি চলে যাওয়া ঠেকাতে যা করবেন

ম্যালওয়্যার ঠেকাতে নতুন ডিভাইস ‘সাইলেন্টগ্লাস’

স্মার্ট চশমা বাস্তব করছে ‘লেটিনএআর’

উদ্ভাবনে বিশ্বে ‘এক নম্বর’ ইসরায়েল: ইলন মাস্ক