দরজায় কড়া নাড়ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। ১৮ দিন বাকি থাকলেও শুরু হয়েছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো আর্থ’ নিয়ে উন্মাদনা। এবার তো ফুটবল বিশ্বকাপের পরিসর আরও বড়। ৪৮ দল নিয়ে হবে ফুটবলের মহাযজ্ঞ। ৩৯ দিনের টুর্নামেন্টে হবে ১০৪ ম্যাচ।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শকেরা আসতে শুরু করেছেন বিশ্বকাপের শহরগুলোতে। স্টেডিয়ামে আসা দর্শকদের জন্য ফিফা নিয়ে এল ‘ফিফা ফ্যান আইডি’ নামে ডিজিটাল এক সিস্টেম। এটি এক বিশেষ স্মার্ট ফিজিক্যাল কার্ড। যা মাঠে আসা টিকিটধারী দর্শককে উপহার হিসেবে দেওয়া হবে।
ফিফা ফ্যান আইডির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো সমর্থকেরা এটি তাঁদের স্মার্টফোনে ট্যাপ করেই ডিজিটালি সংযুক্ত হতে পারবেন। এটি কাস্টমাইজযোগ্য ফিজিকাল কার্ড। এটার মাধ্যমে ভক্ত-সমর্থকেরা খেলা দেখার পাশাপাশি নিজেদের স্মৃতিগুলো ডিজিটাল মাধ্যমে আপলোড করতে পারবেন। দর্শকেরা চাইলে ম্যাচের এক্সক্লুসিভ অফিশিয়াল ছবি ব্যবহার করে পছন্দের স্মারক পণ্য তৈরির সুযোগ পাবেন।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো মিলে ১৬ দেশে হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। যেকোনো স্টেডিয়ামে ঢুকেই ফ্যান ইনফরমেশন বুথ থেকে ফিফা ফ্যান আইডি সংগ্রহ করতে পারবেন। দর্শকেরা যেন নিজেদের প্রথম ম্যাচেই আইডিটি সংগ্রহ করেন, সেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে ফিফার পক্ষ থেকে। একই সঙ্গে স্টেডিয়ামের তথ্য এবং ম্যাচের অভিজ্ঞতা আরও কীভাবে নিখুঁত করা যায়, সেই দিক নির্দেশনাও পাওয়া যাবে।
ম্যাচ শুরুর অন্তত কমপক্ষে তিন ঘণ্টা আগেই স্টেডিয়ামগুলোতে লাইভ এন্টারটেইনমেন্টসহ অনেক আকর্ষণীয় ব্যবস্থা থাকবে। ম্যাচের আগেই ফ্যান আইডি সংগ্রহ করার কথা বলা হচ্ছে। এমনকি ম্যাচ শেষেও কার্ডটি দর্শকেরা নিজের কাছে রেখে দিতে পারবেন।
ফিফা পরশু নিজেদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে ফ্যান আইডি নিয়ে বিশদ বর্ণনা দিয়েছে। দর্শকদের এই উপহার দিতে পেরে উচ্ছ্বসিত ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেন, ‘ ফিফা ফ্যান আইডির মাধ্যমে এক বিশেষ জগতে ঢুকতে পারবেন আপনারা। সেখানে রয়েছে এক্সক্লুসিভ কনটেন্ট, অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা এবং এমন সব স্মৃতি, যা আপনি নিজের কাছে রাখতে পারবেন। চাইলে অন্যদের সঙ্গে শেয়ারও করতে পারবেন। গর্বের সঙ্গে আপনার ফিফা ফ্যান আইডি ব্যবহার করুন। বিশ্বকাপের প্রত্যেক মুহূর্ত উপভোগ করুন।’
১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হবে ফুটবল বিশ্বকাপ। আর্জেন্টিনা এবার নামবে শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে। সবশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে ধ্রুপদী ফাইনালে হারিয়ে আলবিসেলেস্তেরা ৩৬ বছর জিতেছিল বিশ্বকাপ শিরোপা। এই বিশ্বকাপ জিতে লিওনেল মেসি তাঁর আজন্মলালিত স্বপ্নপূরণ করেছিলেন।