উত্তর আমেরিকায় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ফ্রান্সের লক্ষ্য নিয়ে কোনো ধরনের ধোঁয়াশা রাখলেন না কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফরোয়ার্ড স্পষ্ট জানিয়ে রাখলেন, অন্য কিছু নয়—দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে ফরাসিদের একমাত্র লক্ষ্য থাকবে শিরোপা জেতা।
বিশ্বকাপে ‘আই’ গ্রুপে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ সেনেগাল, ইরাক ও নরওয়ে। সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আগামী ১৭ জুন বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে দুইবারের চ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপের মূল পর্ব শুরুর আগে প্রস্তুতিতে মিশ্র অভিজ্ঞতা হলো দিদিয়ের দেশমের দলের। গা গরমের প্রথম ম্যাচে আইভোরি কোস্টের কাছে ২-১ গোলে হেরে যায়। তবে ঘুরে দাঁড়িয়ে নর্দান আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানের জয় তুলে নিয়েছে গত আসরের রানার্সআপরা।
নর্দান আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে এমবাপ্পে গোল করতে পারেননি। তুলনামূলকভাবে নীরব পারফরম্যান্স সত্ত্বেও তিনি এখনো জাতীয় দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। বিশ্বকাপ চলাকালে ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা অলিভিয়ের জিরুর রেকর্ড ছুঁতে বা ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকছে এমবাপ্পে সামনে।
শেষ প্রীতি ম্যাচে জয়ের পর সাংবাদিকদের এমবাপ্পে বলেন, ‘আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো বিশ্বকাপ জেতা। আমরা যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছি বিশ্বকাপ জিততে। বাইরে থেকে যেভাবে বলা হচ্ছে—সেমিফাইনালে পৌঁছানোই নাকি লক্ষ্য। আমি এটা বুঝতে পারি না। যদি লক্ষ্য শুধু সেমিফাইনালই হতো, তাহলে কি আমরা সেখানে পৌঁছে খেলা থামিয়ে বাড়ি ফিরে আসতাম? না। লক্ষ্য হলো বিশ্বকাপ জেতা। এটা সবার স্বপ্ন।’
এমবাপ্পে এমন সময় এসব মন্তব্য করলেন, যখন ফরাসি সংবাদমাধ্যমে দলের লক্ষ্য ও পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন সেমিফাইনালে পৌঁছানোকে ন্যূনতম লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছে—যা খেলোয়াড়দের বোনাস কাঠামোর সঙ্গেও সম্পর্কিত। তবে এমবাপ্পে পরিষ্কার করে দিলেন, মাঝারি মানের লক্ষ্য নিয়ে বিশ্বকাপে যেতে চান না তিনি। সবশেষ দুই বিশ্বকাপে টানা ফাইনালে ওঠেছিল ফ্রান্স। রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ইউরোপের জায়ান্টরা। তবে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় দেশমের দলের।