পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে উত্তরবঙ্গগামী মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব গোলচত্বর পর্যন্ত মহাসড়কে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, চলমান উন্নয়নকাজের মধ্যেও এবার ঈদযাত্রায় এই পথে যানজটের আশঙ্কা অনেকটা কমে এসেছে।
আজ রোববার বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২-এর অধীনে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব গোলচত্বর পর্যন্ত অংশে উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে। ঈদযাত্রাকে নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও যানজটমুক্ত রাখতে সেখানে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কের এই অংশে যানবাহন কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই চলাচল করছে।
সেতু কর্তৃপক্ষের দাবি, এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত অংশে বর্তমান অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও গৃহীত পদক্ষেপের ফলে এবারের ঈদযাত্রায় যানজট বা বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার আশঙ্কা নেই।
আসন্ন ঈদযাত্রায় যমুনা সেতু এলাকায় সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) ও যুগ্ম সচিব মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, বিগত বছরগুলোতে ঈদযাত্রায় এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত অংশটি উত্তরবঙ্গগামী মানুষের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। তবে এবার সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২-এর আওতায় কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্মিত দুই লেনের সার্ভিস সড়ক এবং বিদ্যমান দুই লেনের মূল সড়কের সমন্বয়ের মাধ্যমে পুরো অংশে কার্যত চার লেনের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে উত্তরবঙ্গ ও ঢাকামুখী উভয় প্রান্তের যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহন নতুন নির্মিত দুই লেনের সার্ভিস সড়ক ব্যবহার করছে। অন্যদিকে ঢাকামুখী যানবাহন চলাচল করছে বিদ্যমান দুই লেনের মূল সড়ক দিয়ে। এ ছাড়া যমুনা সেতুর পূর্ব গোলচত্বর থেকে ইব্রাহিমাবাদ রেলস্টেশন পর্যন্ত ৭০০ মিটার দীর্ঘ দুই লেনের রিজিড পেভমেন্ট সড়ক যান চলাচলের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
ঈদযাত্রার প্রস্তুতি নিয়ে পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) মো. ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী বলেন, এলেঙ্গা বাজার ফ্লাইওভার এলাকায় উভয় পাশে দুই লেন করে সড়ক চার লেনে প্রশস্ত করা হয়েছে। ফলে যত্রতত্র যানবাহন থামানো বা যাত্রী ওঠানামার কারণে যে যানজট তৈরি হতো, তা এবার অনেকটা এড়ানো সম্ভব হবে।
ভিখারুদ্দৌলা চৌধুরী আরও বলেন, গণপরিবহনগুলো যাতে এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে যানজট সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য এলেঙ্গা বাজার এলাকায় উত্তরবঙ্গমুখী ও ঢাকামুখী উভয় পাশে পৃথক দুটি স্থায়ী বাস-বে নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আরও কয়েকটি বাস-বে সচল রাখা হয়েছে।
বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা এড়াতে এলেঙ্গা বাজার এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
সড়ক নিরাপত্তার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্মাণাধীন নতুন সড়ক ও সচল সার্ভিস সড়কের মাঝখানে টেকসই কংক্রিটের সড়ক বিভাজক স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাঁক ও সংবেদনশীল এলাকায় উচ্চমানের রিফ্লেকটিভ স্টিকারযুক্ত বাঁশের খুঁটি বসানো হয়েছে, যাতে রাতের বেলায় চালকেরা সহজে দিকনির্দেশনা বুঝতে পারেন।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু এলাকায় আরও বেশ কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষ টোল কালেক্টর নিয়োগ, সার্বক্ষণিক টোল লেন চালু রাখা, মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা লেন বৃদ্ধি, নন-স্টপ ইটিসি চালু, সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক মনিটরিং, উচ্চপর্যায়ের মনিটরিং টিম গঠন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধব্যবস্থা, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা।
এ ছাড়া কর্ণফুলী টানেল থেকে আনা একটি ভারী রেকারসহ মোট তিনটি রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনা বা যানবাহন বিকল হলে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। টোল বুথে পর্যাপ্ত ভাঙতি টাকা রাখার পাশাপাশি কোরবানির পশুবাহী যানবাহনকে ওয়েইং স্কেল মেশিনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সেতুর প্রতি ৩০০ মিটার পরপর নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস, মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে ইমার্জেন্সি টোল লেন ও সুপেয় পানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।