হোম > ইসলাম

ঈদুল আজহার নামাজের নিয়ত ও নিয়ম

ইসলাম ডেস্ক 

দুবাই মসজিদে ঈদের নামাজ। ছবি: সংগৃহীত

মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। এই পবিত্র দিনের আনন্দ ও ইবাদত শুরু হয় ঈদের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজের মাধ্যমে। নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আজকের দিনে আমরা সর্বপ্রথম ঈদের নামাজ আদায় করব, এরপর কোরবানি করব...।’ (সহিহ্ বোখারি: ৯৬৮)

বছরে মাত্র দুবার ঈদের নামাজ পড়া হয় বলে অনেকেই এর নিয়ম বা অতিরিক্ত তাকবিরের পদ্ধতি ভুলে যান।

ঈদুল আজহার নামাজের নিয়ত

নামাজের প্রধান শর্ত হলো মনে মনে ইচ্ছা বা নিয়ত করা। আপনি কোন নামাজ কার পেছনে পড়ছেন, তা মনে থাকাই যথেষ্ট। মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়, তবে মনের প্রশান্তির জন্য বাংলা বা আরবিতে নিয়ত করা যেতে পারে।

বাংলা নিয়ত:

‘আমি কেবলামুখী হয়ে ঈদুল আজহার দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ অতিরিক্ত ছয় তাকবিরের সঙ্গে এই ইমামের পেছনে আদায়ের নিয়ত করছি।’

আরবি নিয়ত:

نَوَيْتُ أنْ أصَلِّي للهِ تَعَالىَ رَكْعَتَيْنِ صَلَاةِ الْعِيْدِ الْأَضْحَى مَعَ سِتِّ التَكْبِيْرَاتِ وَاجِبُ اللهِ تَعَالَى اِقْتَضَيْتُ بِهَذَا الْاِمَامِ مُتَوَجِّهًا اِلَى جِهَةِ الْكَعْبَةِ الشَّরِيْفَةِ اللهُ اَكْبَرْ

উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা, রাকাআতাইনি সালাতিল ঈদিল আজহা, মাআ সিত্তাতিত তাকবিরাতি ওয়াজিবুল্লাহি তাআলা, ইকতাদাইতু বিহাজাল ইমামি, মুতাওয়াজজিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি, আল্লাহু আকবার।

ঈদুল আজহার নামাজ পড়ার সঠিক নিয়ম

ঈদের নামাজ দুই রাকাত এবং এতে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির দিতে হয়। নিচে ধাপ অনুযায়ী নিয়ম দেওয়া হলো:

প্রথম রাকাত

  • ১. ইমামের সঙ্গে ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বেঁধে ছানা (সুবহানাকা...) পড়তে হয়।
  • ২. এরপর ইমাম সাহেব অতিরিক্ত তিনটি তাকবির দেবেন।
  • প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দেবেন।
  • তৃতীয় তাকবিরের পর হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে নাভি বরাবর বেঁধে নেবেন।
  • ৩. এরপর ইমাম সাহেব আউজুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহ পড়ে সুরা ফাতেহার সঙ্গে অন্য একটি সুরা মেলাবেন। (সুরা আ ‘লা পড়া সুন্নত)।
  • ৪. এরপর সাধারণ নামাজের মতোই রুকু ও সিজদা করে প্রথম রাকাত শেষ করবেন।

দ্বিতীয় রাকাত

  • ১. দ্বিতীয় রাকাতের শুরুতে হাত বাঁধা অবস্থায় ইমাম সাহেব সুরা ফাতেহা ও অন্য একটি সুরা মেলাবেন। (সুরা গাশিয়াহ পড়া সুন্নত)।
  • ২. সুরা মেলানো শেষ হলে রুকুতে যাওয়ার আগে ইমাম সাহেব অতিরিক্ত তিনটি তাকবির দেবেন। তিনটি তাকবিরেই হাত কান পর্যন্ত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে হবে।
  • ৩. এরপর চতুর্থ তাকবির বলে হাত না উঠিয়ে সরাসরি রুকুতে চলে যেতে হবে।
  • ৪. এরপর সাধারণ নামাজের মতো সিজদা, তাশাহহুদ, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হয়।

নামাজের পর খুতবা ও তাকবিরে তাশরিক

ঈদের নামাজ শেষে ইমাম সাহেবের খুতবা শোনা মুসল্লিদের জন্য ওয়াজিব। খুতবা চলাকালীন কোনো কথা বলা বা উঠে চলে যাওয়া অনুচিত। নামাজ শেষে উচ্চ স্বরে এই তাকবিরটি পাঠ করা সুন্নত:

‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’

ঈদুল আজহার নামাজ কোরবানির দিনে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের অন্যতম প্রতীক। সঠিক নিয়ম ও শুদ্ধভাবে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে আমাদের কোরবানি ও উৎসব সার্থক হয়ে উঠুক।

কোরবানির মাংস বণ্টনের সঠিক নিয়ম কী

কোরবানির পশু জবাইয়ের দোয়া ও সঠিক নিয়ম

বিদায় হজের ভাষণ থেকে মুসলমানদের করণীয় কী

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৭ মে ২০২৬

যৌতুকের পশু দিয়ে কি কোরবানি জায়েজ হবে

আরাফার দিন রোজা রেখে দুই বছরের গুনাহ মাফের সুযোগ

হজ ও কোরবানি আমাদের যা শেখায়

আজকের নামাজের সময়সূচি: ২৬ মে ২০২৬

ঋণ নিয়ে কোরবানি করা কি জায়েজ

কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের উপায়