গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চস্থ হয়েছিল বিবেকানন্দ থিয়েটারের ২৫তম প্রযোজনা ‘ভাসানে উজান’ নাটকের উদ্বোধনী প্রদর্শনী। এখন পর্যন্ত আটটি প্রদর্শনী হয়েছে নাটকটির। আবারও রাজধানীর শিল্পকলায় ফিরছে ভাসানে উজান। আগামীকাল বুধবার (১০ জুন) একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে প্রদর্শিত হবে নাটকটি।
দস্তয়ভস্কির বিখ্যাত ছোটগল্প ‘দ্য জেন্টেল স্পিরিট’ অবলম্বনে নির্মিত নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন অপূর্ব কুমার কুণ্ডু ও নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময়। একক অভিনয়ে মো. এরশাদ হাসান।
মানুষের অন্তর্গত নীরবতা, অপরাধবোধ, ভালোবাসা ও একাকিত্বের সূক্ষ্ম দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে নির্মিত ভাসানে উজান মূলত এক অন্তর্মুখী যাত্রা। একক চরিত্রের মধ্য দিয়েই উন্মোচিত হয় মানুষের অন্তর্লোকের জটিল মনস্তত্ত্ব। এখানে সংলাপের চেয়ে অনুভবের ভাষাই মুখ্য, নীরবতাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে শক্তিশালী উচ্চারণ।
নির্দেশক শুভাশীষ দত্ত তন্ময় বলেন, ‘দস্তয়ভস্কির গল্পের মনস্তত্ত্ব, অপূর্বদার সংবেদনশীল নাট্যরূপ এবং এরশাদ হাসানের শক্তিশালী একক উপস্থিতি—এই তিনের সমন্বয়ে ভাসানে উজান। আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল, কিন্তু আমরা সেই চ্যালেঞ্জকে সফলতার সঙ্গে জয় করেছি।’
নাট্যকার অপূর্ব কুমার কুণ্ডু বলেন, মানুষ সত্যিকারে ভালো হয়ে শেষ পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে কি না—এই প্রশ্নের অনুসন্ধানই ‘ভাসানে উজান’-এর মর্মস্থল। এরশাদ হাসানের মতো অভিজ্ঞ অভিনেতার অভিনয়ে এই প্রশ্ন আরও স্পষ্ট ও গভীরভাবে দর্শকের কাছে ধরা দিয়েছে, সেটা এখন প্রমাণিত।
নাটকটির মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনায় রয়েছেন পলাশ হেনড্রী সেন, সংগীত পরিচালনা করেছেন হামিদুর রহমান পাপ্পু, পোশাক পরিকল্পনায় এনাম তারা সাকি, প্রপস পরিকল্পনায় ফজলে রাব্বি সুকর্ণো এবং কোরিওগ্রাফি করেছেন রবিন বসাক। নির্মাতা জানান, নাটকটি ইতিমধ্যে দেশি ও আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি নাট্যোৎসবে আমন্ত্রণ পেয়েছে। শিগগির এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।