শেরপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলবদ্ধ যুবকদের মারধরের ১০ দিন পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আল মুহতাছিম সাইফ (১৭) নামের এক পলিটেকনিক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে সাইফের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাইফ। নিহত সাইফ শহরের দমদমা কালিগঞ্জ মহল্লার আব্দুল মালেক ও রেবেকা সুলতানা দম্পতির একমাত্র সন্তান। তিনি শেরপুর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার টেকনোলজি বিভাগের প্রথম শিফটের দ্বিতীয় পর্বের শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ দুপুরে শেরপুর পলিটেকনিক্যাল কলেজে ছাত্রদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। সমাবেশ থেকে সাইফ হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
জানা গেছে, গত ২৯ মে ঈদুল আজহার পরদিন বিকেল ৪টার দিকে শেরপুরের তাতালপুর বিএম রোড এলাকায় ঘুরতে গিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন সাইফ। এ সময় পার্শ্ববর্তী দিঘারপাড় এলাকার নাঈম মিয়া (১৯), পাপ্পু (২০), স্বপন (২১) ও আরমান (২০) সেখানে ছবি তোলার জন্য সাইফকে সরে যেতে বলেন।
সাইফ সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে যুবকেরা তাঁকে মারধর করেন। পরে মোবাইল ফোনে আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে ডেকে এনে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সাইফকে মারধর করা হয় এবং রাস্তার পাশে জমে থাকা মাঠের পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা সাইফকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে পরে তাঁকে মমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।
আজ দুপুরে মমেক হাসপাতালের মর্গে সাইফের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
শেরপুর সদর থানার ওসি মো. সোহেল রানা বলেন, মারধরের ঘটনায় ৬ জুন সাইফের মা রেবেকা সুলতানা ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। ওই মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।