নেত্রকোনার কৈলাটি ইউনিয়নে পাঁচ বছরের শিশু জান্নাত আক্তার হত্যার এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার না করায় নিহত শিশুর স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নিহত জান্নাত কৈলাটি ইউনিয়নের হুগলি জসিউড়া গ্রামের আসাদ মিয়ার মেয়ে।
এলাকাবাসী, পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মে বিকেলে জান্নাত বাড়ির উঠানে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। সেখান থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়। দুদিন পর সকালে আসাদ মিয়ার বাড়ির পেছনে প্রায় ৩০০ গজ দূরে ধানখেতের আলে শিশুটির খণ্ডিত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
পরে পুলিশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় শিশুটির দেহ, একটি পা ও মাথার কিছু অংশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে প্রতিবেশী মো. মজিবুর রহমানকে (৫০) প্রধান আসামি করে মো. সামসু মিয়া (৫২), মৃত ইসলাম উদ্দিনের ছেলে কাবিল মিয়া (২২) ও হাবিল মিয়ার (১৯) নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেন। তবে ঘটনার রহস্য এখন পর্যন্ত উদ্ঘাটন হয়নি।
শিশুটির বাবা আসাদ মিয়া বলেন, ‘আমি তো আর কোনো দিন আমার মেয়েরে পাব না। আমি চাই আমার মেয়ের খুনিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়া হোক। আমার এই মাসুম বাচ্চাটাকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই। মামলার প্রধান আসামিরে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার করতে পারছে না। তারে গ্রেপ্তার করলে অনেক রহস্য বেরিয়ে আসত।’
শিশুটির আত্মীয় পাশের সনুড়া গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ আমানুল হক বলেন, ‘একটা ফুটফুটে শিশুকে হত্যা করা হলো, অথচ এত দিন হয়ে গেলেও এখনো প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে আমরা হতাশ।’
পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কাজ করছে। আশা করা যাচ্ছে, শিগগির হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটনসহ জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ সক্ষম হবে।