নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে শাহীদা আক্তার (২১) নামের এক তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিচার দাবি করেছেন মৃত তরুণীর পরিবার ও এলাকাবাসী। আজ মঙ্গলবার দুপুরে মোহনগঞ্জ পৌর শহরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধনে শাহীদার বাবা শহীদ মিয়া, মা ময়না আক্তারসহ স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। তাঁদের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার হয়ে শাহীদা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।
জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারিতে মোহনগঞ্জ উপজেলার মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের শাহীদার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বাখরপুর গ্রামের মোনাইদ হোসেনের বিয়ে হয়। গত ২৯ মার্চ বিষপানে আত্মহত্যা করেন শাহীদা।
পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, শাহীদার আগেও একবার বিয়ে হয়েছিল। তবে তিনি বাবার বাড়িতে থাকতেন। পরে ধর্ষণের মামলা থেকে বাঁচতে মোনাইদ তাঁকে বিয়ে করেন। ইতিমধ্যে শাহীদার সঙ্গে তাঁর আগের স্বামীর বিচ্ছেদ হয়ে যায়। স্বজনদের দাবি, ৬ লাখ টাকা যৌতুক চেয়ে শাহীদাকে নির্যাতন করতেন মোনাইদসহ শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। নির্যাতন সইতে না পেরে গত ২৯ মার্চ বাবার বাড়িতে গিয়ে কীটনাশক পান করেন শাহীদা। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে ওই দিন রাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ১ এপ্রিল শাহীদার বাবা শহীদ মিয়া মোহনগঞ্জ থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি করা হয় শাহীদার স্বামী মোনাইদকে। এ ছাড়া শ্বশুর মো. শফিকুল ইসলাম, ভাশুর জুনাইদ হোসেন, ননদ চম্পা আক্তারসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার পর ৯ এপ্রিল মোনাইদকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রধান আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর ভুক্তভোগী তরুণীর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁরা অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, ওই মামলায় তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে।