Alexa
শনিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

পটিয়ায় ১৪ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীকে বহিষ্কার, আ.লীগ-যুবলীগের মতানৈক্য  

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২১, ২২:২১

পটিয়া ইউপি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় উপজেলা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের বহিষ্কৃত ১৪ নেতা-কর্মী। ছবি: সংগৃহীত চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হওয়ায় উপজেলা এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের মোট ১৪ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।  

বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের এক জরুরি সভায় তাঁদের বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান। মফিজুর রহমান বলেন, নৌকার বিপক্ষে অবস্থান করে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করায় তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে। 

জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ আলহাজ মোসলেম উদ্দিন আহমদে। এ ছাড়া এ সভায় উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সহসভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।  

বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা হলেন আশিয়া ইউনিয়নের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বেলাল উদ্দিন চৌধুরী ও আশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মাঈনুল হক রাশেদ, হাইদগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বি এম জসিম, কুসুমপুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকারিয়া ডালিম ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুর উর রশীদ চৌধুরী এজাজ, কোলাগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি মাহবুবুল হক চৌধুরী ও কোলাগাঁও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য কাসেম রাসেল, কেলিশহর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নিখিল দে, জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি সাহাদাত হোসেন সবুজ ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক দিদারুল আলম, ধলঘাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক শফিউল আলম বাদশা, জিরি ইউনিয়নে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল কালাম ভোলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য আবুল কালাম বাবুল, ছনহরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী আবু জাফর।  

এদিকে এই বহিষ্কার নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় এই বহিষ্কারাদেশ। 

গত ২২ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ নির্দেশনায় চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মইনুল হোসেন খান নিখিল সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুবলীগের কোনো স্তরের নেতা-কর্মী যদি বিদ্রোহী প্রার্থী বা নৌকা প্রতীকের বিরোধিতা বা সরাসরি নৌকার বিপক্ষে কাজ করলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাঁদের কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করতে পারবেন। তবে কেন্দ্রীয় যুবলীগের নির্দেশনা ব্যতীত কোনো স্তরের নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার বা অব্যাহতি দেওয়া যাবে না বলে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে। 

যুবলীগের নেতা-কর্মীকে আওয়ামী লীগ বহিষ্কার করতে পারে কি? এমন এক প্রশ্নের জবাবে মফিজুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মাদার সংগঠন। যুবলীগ হলো অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। কাজেই মাদার সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ যেকোনো যুবলীগ নেতা-কর্মীকে নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজ করলে তাঁকে বহিষ্কার করতে পারে। তবে কেন্দ্রীয় যুবলীগ কি নির্দেশনা দিয়েছে তাদের, তা আমার জানা নেই। এর বাইরে আমি আর কিছু বলতে চাই না।’  

যুবলীগের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা। ছবি: সংগৃহীত এ ব্যাপারে পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় দলের গঠনতন্ত্র অনুসারে জেলা আওয়ামী তাদের বহিষ্কার করেছে। আমরা দফায় দফায় বৈঠক করে তাদের অনুরোধ করেছি যাতে তারা দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোটের মাঠে না নামে। কিন্তু তারা আমাদের কথা রাখেনি।’   

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের সভাপতি আ ম ম টিপু সুলতান চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুরব্বি সংগঠন হিসেবে বিদ্রোহী যুবলীগের প্রার্থীদের বহিষ্কারের নির্দেশনা দিতেই পারে। তবে কেন্দ্রীয় যুবলীগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক গত মাসে নির্দেশনা দিয়েছেন লিখিতভাবে। এর বাইরে আমি আর কিছু বলতে রাজি নই।’ 

পটিয়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হাসান উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যুবলীগের কোনো নেতাকে বহিষ্কার করতে পারে কি না, আমার জানা নেই। তবে আগামী শনিবার ১১ ডিসেম্বর উপজেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা আহ্বান করা হয়েছে। সে বৈঠকে আমরা তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিব।’  

এক প্রশ্নের জবাবে হাসান উল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘কোলাগাঁও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাহবুবুল হক চৌধুরী ও জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সাহাদাত হোসেন সবুজ ও দিদারুল আলম দলীয় নির্দেশ অমান্য করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আমরা তাদেরকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের মাধ্যমে বিদ্রোহী প্রার্থী হতে সরে আসতে অনুরোধ করেছিলাম।’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    দেশ উন্নত হলে কারওয়ান বাজারের চেহারা পাল্টাবে: মেয়র আতিক

    ক্ষেতলালে বাসের চাপায় পিকআপের চালক নিহত

    আনোয়ারায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত, আহত ২

    সিপিবি ময়মনসিংহের নতুন কমিটিতে সভাপতি মিল্লাত, সাধারণ সম্পাদক বাহার

    স্ট্রিমিং ব্যবসায় বাদ যাবে না কোনো শিশু

    দেশ উন্নত হলে কারওয়ান বাজারের চেহারা পাল্টাবে: মেয়র আতিক

    ইভিএম বক্স বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া হবে: গয়েশ্বর

    কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে চাকরি

    ক্ষেতলালে বাসের চাপায় পিকআপের চালক নিহত

    আনোয়ারায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত, আহত ২