Alexa
শনিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

বাংলাদেশকে সেরা তিন-চারে দেখতে চাই

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:৪৮

বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ছবি: আইসিসি প্রথমবারের মতো ওয়ানডে বিশ্বকাপ নিশ্চিত হওয়ার আনন্দ। জিম্বাবুয়ে থেকে জটিল ভ্রমণ শেষে দেশে ফিরে হোটেলে কোয়ারেন্টিন। কোয়ারেন্টিন শেষ হতেই আবার করোনার হানা—অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতাই হচ্ছে বাংলাদেশ নারী দলের। গত পরশু রোববার আজকের পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ নারী ওয়ানডে দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি বললেন সাম্প্রতিক সাফল্যসহ মেয়েদের ক্রিকেট নিয়ে অনেক কিছুই। 

প্রশ্ন: অনেক ধকল পেরিয়ে দেশে ফিরেছেন। বিশ্বকাপ নিশ্চিত হওয়ার আনন্দ, জটিল ভ্রমণ, এখন কোয়ারেন্টিন-জীবন—সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতাটা কেমন? 
নিগার সুলতানা: আমরা জানতাম হয়তো দুই দিন লাগবে বাংলাদেশে আসতে। ওমানে এসে শুনলাম, আমাদের নাকি পাঁচ দিনের কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। আসলে মিশ্র এক অনুভূতি। দেশে ফেরার উত্তেজনা কিংবা বিশ্বকাপের মূল পর্বে ওঠার আনন্দ—ওমানে সবার মন খারাপ হয়ে গেছে। এখন যদি বাসায় যেতে পারতাম বা বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সময় কাটাতে পারতাম, অনেক ভালো লাগত।

প্রশ্ন: প্রথমবারের মতো আইসিসি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। এত বড় একটা অর্জনের অনুভূতি নিশ্চয়ই অন্য রকম? 
নিগার: সত্যি বলতে আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। জানতাম, আফ্রিকার অবস্থা ভালো নয় (করোনায়)। ভেবেছিলাম টুর্নামেন্ট বাতিল হবে কিংবা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে আমাদের অফিশিয়ালরা জানিয়েছিলেন, অবস্থা যেমনই হোক, খেলতে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে। সেদিন আমরা লাঞ্চ করছিলাম। যখন আমরা শুনলাম, তখন বুঝতে পারছিলাম না এটা সত্যি নাকি মজা হচ্ছে! হোটেলের লবিতে সবাই উত্তেজনায় চেঁচামেচি করছিল। এটার জন্য আমরা লম্বা অপেক্ষা করছিলাম। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে জেদ ছিল যে পরেরবার যখন বাছাই খেলতে যাব, যেন বাধা উতরে যেতে পারি। আমাদের স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। 

প্রশ্ন: এবার আপনারা কতটা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন? 
নিগার: আমরা যখন ওখানে (জিম্বাবুয়ে) যাই, সবার মুখে একটাই কথা ছিল—সুযোগটা কাজে লাগাতে হবে। আমাদের দলটা ভারসাম্যপূর্ণ ছিল। ভালো খেলার তাড়না ছিল সবার মধ্যে। 

প্রশ্ন: এই সাফল্য পেতে নতুন এমন কিছু ছিল, যেটা আপনাদের স্বপ্নপূরণে সহায়ক হয়েছে? 
নিগার: এবার সবাই অবদান রেখেছে। ২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার পর একটা লম্বা বিরতি ছিল (করোনার কারণে)। ওই সময়টায় সবাই নিজের ঘাটতি নিয়ে কাজ করেছে। জিম্বাবুয়ে যাওয়ার আগে আমরা অনেক ম্যাচ খেলেছি, অনুশীলন করেছি। এ কারণে ওখানে গিয়ে আমাদের সুবিধা হয়েছে। সব মিলিয়ে আমাদের প্রস্তুতিটা ভালো ছিল। 

প্রশ্ন: বড় দল পাকিস্তানকে হারানোর পর ড্রেসিংরুমের চিত্রটা কেমন হয়েছিল, আরেকবার শুনতে চাই। 
নিগার: আমাদের লক্ষ্য ছিল বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানকে হারাব। কেন যেন পাকিস্তানের বিপক্ষে আমরা একটু বেশি প্রতিদ্বন্দ্বী মেজাজে থাকি। সব ম্যাচেই থাকি। কিন্তু ওদের বিপক্ষে একটু বেশিই। পাকিস্তানের বিপক্ষে হারটা আমরা মানতে পারি না। আমরা জেতার পর কাঁদি, হারার পরও কাঁদি। গ্রুপের প্রথম ম্যাচ যখন জিতবেন, তখন ওই ম্যাচ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আরও ভালো করতে পারবেন। 

প্রশ্ন: মেয়েদের ক্রিকেটে আগেও বড় সাফল্য এসেছে। এবারও এল। এটা দিয়ে কি আপনাদের নতুন একটা শুরু হলো? 
নিগার: অবশ্যই। আমাদের বিশ্বকাপে যাওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখন আইসিসি আমাদের চার বছরের একটা ক্যালেন্ডার দেবে। আমরা অনেক ম্যাচ খেলতে পারব। যখন আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তখন ক্রিকেট বোর্ডও চাইবে যে ঘরোয়া ক্রিকেটে উন্নতি হোক। দলের পাইপলাইনে আরও খেলোয়াড় আসবে। আমাদের ক্ষোভ ছিল, আমরা বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ পাই না। যত বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলব, তত শিখব। 

প্রশ্ন: সুযোগ-সুবিধায় বাংলাদেশ ক্রিকেটে পুরুষ ও নারী দলের ব্যবধান নিয়ে আলোচনাটা পুরোনো। এই ব্যবধান এখন কতটা কমেছে? 
নিগার: ২০০৭ সালে যখন বাংলাদেশে মেয়েদের ক্রিকেট শুরু হয়, ওই সময়ের তুলনায় সুযোগ-সুবিধা বা আর্থিক বিষয়ে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ২০১৮ এশিয়া কাপের (চ্যাম্পিয়ন) পর থেকে আমাদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। সব সময়ই বিসিবির প্রতি পূর্ণ আস্থা আছে। এখানে তুলনার কিছু নেই যে ছেলেদের ক্রিকেট কী করছে, কোথায় যাচ্ছে...। 

করোনাবিধি মেনে মাঠে ফেরাটা একটু কঠিনই ছিল নিগারের। ছবি: ফেসবুক

প্রশ্ন: তুলনার কারণ, আপনারা সীমিত সুযোগের মধ্যেই বড় দুটি সাফল্য পেয়েছেন। সুযোগ-সুবিধা বাড়ালে আরও ভালো করার সুযোগ বাড়ত কি না? 
নিগার: তা তো অবশ্যই। দেখেন, এ পর্যন্ত আমাদের যতটুকু সাফল্য এসেছে, ততটুকুর জন্য বিসিবি সুযোগ-সুবিধা দিয়েই আসছে। হয়তো-বা কম আছে। কিন্তু তারা চেষ্টা করে। আমাদের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট হয় না এবং আমরা যে প্রিমিয়ার লিগ খেলি, তা থেকে অত টাকা পাই না। ক্রিকেট বোর্ডকে দায়ী করলে হবে না। কারণ, আমাদের পৃষ্ঠপোষক নেই। ক্রিকেট বোর্ড আমাদের পৃষ্ঠপোষক পেতে অনেক চেষ্টা করে। আমাদের কোনো লিগে বা খেলায় পৃষ্ঠপোষকেরা আগ্রহ দেখায় না। এমনকি সংবাদমাধ্যমও আমাদের খেলা নিয়ে খুব বেশি আগ্রহী নয়। এটা নিয়ে আমরা চিন্তিতও নই। আমরা দিনে দিনে ভালো করায় এটা (বৈষম্য) কমে এসেছে এবং আরও কমবে। আপনারা ভালোই জানেন, আমাদের ‘এ’ প্লাস ক্যাটাগরির বেতন কত আর ছেলেদের কত। সত্যি বলতে, তুলনায় বিশ্বাসী নই। আমার কাছে মনে হয়, কর্মই ফল। 

প্রশ্ন: মেয়েদের ঘরোয়া ক্রিকেট তো এখনো বলার মতো এগোল না। 
নিগার: দুই বছর ধরে প্রিমিয়ার লিগ হচ্ছে না। এটা নিয়ে বলার কিছু নেই। আমরা জাতীয় দলে খেলছি, আর যারা বাইরে (লিগে) খেলছে, তারা হয়তো আর্থিকভাবে সচ্ছল থাকতে পারছে। সবাই কিন্তু সচ্ছল পরিবার থেকে আসে না। তাদের জন্য প্রিমিয়ার লিগটা খুব জরুরি। আগে আমাদের তিনটা টুর্নামেন্ট হতো। জেলা ক্রিকেট, বিভাগীয় ক্রিকেট এবং প্রিমিয়ার লিগ ক্রিকেট। অনেক বছর ধরে জেলা ক্রিকেট হচ্ছে না। আমি নিজে জেলা পর্যায়ের ক্রিকেট খেলে বিভাগে এসে প্রিমিয়ার লিগ খেলে জাতীয় দলে সুযোগ পেয়েছি। হয়তো আমার মতো এমন আরও অনেকে আসতে পারে। এই টুর্নামেন্টগুলো যত হবে, ততই জাতীয় দলের পাইপলাইন সমৃদ্ধ হবে। 
 
প্রশ্ন: সামনে কমনওয়েলথ গেমস বাছাই, এরপর বিশ্বকাপ। দুই প্রতিযোগিতা নিয়ে আপনাদের লক্ষ্য কী থাকবে? 
নিগার: প্রত্যেকের প্রথম লক্ষ্য, ফিট থাকা। আপনি খেলতে পারবেন কি না, এটা আগে নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয় হচ্ছে, আমরা ইভেন্ট ধরে ধরে চিন্তা করছি। সামনে কমনওয়েলথ গেমসে কীভাবে পরিকল্পনা করলে আমরা ইতিবাচক ফল পাব, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করব। ওটা ঠিকঠাকভাবে হলে এরপর আমাদের প্রধান লক্ষ্য, বিশ্বকাপে ভালো কিছু করা। কমনওয়েলথে আমরা অবশ্যই কোয়ালিফাই করতে চাই। আর আমরা ইতিমধ্যে একটা ধাপ পেরিয়ে এসেছি। আমাদের লক্ষ্য এখন বিশ্বকাপেও ভালো করা। ওটা এমন একটা মঞ্চ, আমরা ভালো করলে অন্যরা আমাদের সঙ্গে খেলতে চাইবে। আমরা বেশি বেশি ম্যাচ পাব। 

প্রশ্ন: বাংলাদেশ নারী দলও টেস্ট মর্যাদা পেয়েছে। আপনাদের মধ্যে টেস্ট খেলার মানসিকতা কতটা গড়ে উঠেছে? 
নিগার: যখন আমরা টেস্ট মর্যাদা পাই, ওই মুহূর্তে আমরা অনেক রোমাঞ্চিত ছিলাম। সাদা পোশাকের চেয়ে সুন্দর ফরম্যাট আর নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবে টেস্ট খুব পছন্দ করি। ইচ্ছে আছে খেলার। যখন সুযোগ হবে, তখন টেস্টের জন্য প্রস্তুতি নেব এবং চিন্তা করব। 

প্রশ্ন: সাম্প্রতিক সাফল্যে আপনাদের ঘিরে প্রত্যাশা বেড়েছে। এটাকে কীভাবে দেখছেন? 
নিগার: আমরা ক্রিকেটের দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছি। যখন আপনি মন অন্য দিকে দেবেন তখন মূল জায়গা থেকে সরে আসবেন। আমরা এ বিষয় নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করি না। এতে পারফর্ম করতে সুবিধা হয় এবং বাড়তি চাপ আসে না। বিষয়গুলো মাথায় আনলেই চাপ বাড়তে থাকে। তখন আপনার মন এবং লক্ষ্য স্থরি থাকে না। পরে দুটোর কিছুই হয় না। এগুলো মাথায় নেওয়া উচিত না। 

প্রশ্ন: বাংলাদেশ দলকে অনেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাদের কয়েকজন এখন আপনার অধীনে খেলছে। এই অধিনায়কত্ব কতটা উপভোগ করছেন আর এটা কতটা চ্যালেঞ্জিং মনে হচ্ছে? 
নিগার: আমার মনে হয়, আমার কাজটা অনেক সহজ। দলে যখন সিনিয়ররা থাকবেন, যাঁরা সাবেক অধিনায়ক এবং অনেক অভিজ্ঞ, তাঁরা জানেন, তাঁদের কাজটা কী। যখন দলের খেলোয়াড়েরা আলাদাভাবেই জানে, কার কোন ভূমিকা রাখা দরকার, তখন আপনার কাজটা সহজ হয়ে যায়। যদি তাদের বল দিই, তাদের বলতে হবে না এই পরিস্থিতিতে তাদের করণীয় কী। এক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়াটা সহজ হয়ে যায়। আসলে নেতৃত্ব বিষয় না, একজন খেলোয়াড় আরেকজন খেলোয়াড়ের কাজটা সহজ করে দিচ্ছে। 

প্রশ্ন: বাংলাদেশ নারী দল নিয়ে আপনার স্বপ্নটা কী? 
নিগার: বাংলাদেশকে সেরা তিন-চারে দেখতে চাই। যেন বাংলাদেশকে কখনো বাছাইপর্ব খেলতে না হয়।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    ১৩ বছর পর আইপিএল হতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকায়

    অবশেষে কিংবদন্তির মেলায় যাচ্ছেন রফিক ও সুমন

    আইপিএলের নিলামে সাকিব-মোস্তাফিজের ভিত্তিমূল্য ২ কোটি রুপি

    সকাল থেকে সূর্যের দেখা নেই, হতে পারে বৃষ্টি

    ১৩ বছর পর আইপিএল হতে পারে দক্ষিণ আফ্রিকায়

    রাস্তা নিয়ে বিরোধ, সংঘর্ষে আহত ৫০

    রোববার সংসদে উঠছে ইসি নিয়োগের আইন

    কুষ্টিয়ায় তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ করোনা রোগী শনাক্ত

    রাজশাহী বোর্ডে ‘ফেল’ থেকে ‘এ প্লাস’ পেল ১৮ শিক্ষার্থী