Alexa
রোববার, ২৩ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

শীতের পিঠা

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১৩:৩৬

শীতের পিঠা চলছে অগ্রহায়ণ। তার মানে পৌষ-মাঘ এখনো খানিকটা দূরে। কিন্তু শীতের পিঠার আগমনীবার্তা শোনা যাচ্ছে এখনই। অঘ্রানেই ওঠে নতুন ধান, সেই ধান থেকে চাল হয় এবং সেই সুগন্ধি চাল থেকে তৈরি হয় পিঠা। সুতরাং শীতের পিঠার আগমনী সংগীত এ সময় থেকেই শুনতে পাওয়া যায়।

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের শীতের পিঠা নিয়ে যে সংবাদটি ছাপা হয়েছে আজকের পত্রিকায়, তা অনেককেই নস্টালজিক করে তুলবে। যাঁরা শীতের পিঠা খাওয়ার জন্য একসময় প্রতি শীতে পাড়ি জমাতেন নিজ গ্রামে, তাঁরা সেই সময়ের কথা মনে করে ফেলবেন দীর্ঘশ্বাস। যাঁরা গ্রামে শস্য ফলান, যাঁদের বয়স অর্ধশতাব্দী ছাড়িয়েছে, তাঁরাও এই অঘ্রানে ওঠা চালের মিষ্টি গন্ধে মনে করবেন, কোনো একসময় শীতের কুয়াশা পড়ার আগ থেকেই যেন গ্রাম-শহরের এক মিলনমেলা হতো। শহর থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ীরা ফিরতেন নিজ ভিটায়, যাকে নাড়ির টান বলা হয়। শিশুরাও শহুরে ও গ্রামীণ সংস্কৃতির মিলনে আপ্লুত হতো।

সে দিন হয়েছে বাসি। এখন পিঠার জন্য গ্রামের কথা না ভাবলেও চলে। কর্মক্লান্ত মানুষ শুধু শীতের পিঠা খাবেন আর পরিজনদের সঙ্গে দেখা করবেন বলেই গ্রামে যাবেন, সে রকম ঘটনাও এখন বিরল। বাজার সংস্কৃতি ধীরে ধীরে বাইরে থেকে যে পরিবর্তন এনেছে, তা একসময় ঢুকে গেছে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। যোগ হয়েছে ডিজিটাল জীবন। অনেকেই ব্যবসা খুলে বসে আছেন, যাঁদের কাছে অর্ডার করলেই দেশের যেকোনো জায়গা থেকে চলে আসবে যেকোনো ঐতিহ্যবাহী খাবার। এ জন্য সে জায়গায় যাওয়ারও প্রয়োজন নেই। ইচ্ছে আর অর্থ থাকলেই যেকোনো কিছুর আস্বাদ পাওয়া সহজ।

এই যে সবকিছু সহজলভ্য হয়ে উঠল, তা নিয়ে আক্ষেপ থাকতে পারে কিন্তু জীবন তো এগিয়ে চলে তার নিজের নিয়মে। অনেক বছর হয়ে গেল, খোদ রাজধানীতেই তো ভাপা পিঠা, চিতই পিঠার রমরমা চলছে। গত শতাব্দীর সত্তরের দশকের শেষের দিকে রাজধানীর স্টেডিয়াম অঞ্চলে গড়ে উঠেছিল পিঠার দোকান। একটু একটু করে তা এখন ছড়িয়ে গেছে সর্বত্র।

তবে হ্যাঁ, শীতের পিঠা যে শীত ঋতুটাকে অনন্য করে তোলে, সে কথা না বললেও চলে। দাদি-নানিরা শীতের পিঠা নিয়ে জীবনকে যে রকম অলৌকিক করে তুলতেন, তার হয়তো এখন খুব একটা অস্তিত্ব পাওয়া যাবে না, কিন্তু এখনো ঘন দুধে কিংবা খেজুরের রসে চুবিয়ে রাখা স্বর্গীয় স্বাদের চিতই পিঠা খেতে হলে কিংবা মিহি চাল আর রসে টইটম্বুর গুড়ের ধোঁয়া ওঠা ভাপা পিঠা খেতে হলে গ্রামবাংলার গভীরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। এ ছাড়া কত ধরনের পিঠা-পুলি যে আমাদের ঐতিহ্যশালী করে তুলেছে, সে কথা তো সবারই জানা।

শীতের পিঠার কথা শুনলে মনে হয়, নিজ সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করে তোলার এক উপাখ্যানের কথা, যা কেবল গড়ে ওঠে এবং বিন্যস্ত হতে থাকে নিজেরই আঙিনায়।

পিঠা-সংস্কৃতি চলুক।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    কুবিতে পরিক্ষা সশরীরেই

    বেহাল ৫ সড়কে দুর্ভোগ

    গৈলা স্কুল ১৩০ বছরে

    চাপ থেকে মুক্তি

    তামাক ছেড়ে টমেটো চাষে ঝুঁকেছেন কৃষক

    নাগরপুরে ৪ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১

    বিয়ের দাওয়াত খেয়ে বাড়ি ফেরা হলো না যুবকের

    ব্ল্যাকমেল চক্রের সদস্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

     ‘পুতিন সম্মান পাওয়ার যোগ্য’ বলার দায় নিয়ে জার্মান নৌবাহিনী প্রধানের পদত্যাগ

    যশোরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ 

    বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেলেন যারা

    বিয়ের জন্য এসেছিলেন দেশে, বাবার একদিন পর ছেলের মৃত্যু