Alexa
শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

বৃষ্টিতে দুর্ভোগে নিম্ন আয়ের মানুষ ও কৃষকেরা

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬:১২

টানা তিন দিনের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ফাঁকা। বিপাকে পড়েছেন ভ্যান চালকেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদের’ প্রভাবে চারঘাটে তিন দিনের টানা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে নিম্ন আয়ের মানুষ ও কৃষকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন। বৃষ্টিতে শ্রমজীবী মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়ে আছে কৃষকের পাকা আমন ধান ও সবজির খেত। সঙ্গে বিপর্যস্ত গবাদিপশু ও প্রাণীকুল। 

ভোগান্তির শিকার মানুষেরা জানিয়েছেন, গত শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে উপজেলার নিম্ন আয়ের মানুষকেই বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। তবে কর্মজীবী মানুষদেরও কম ভোগান্তি হয়নি। নিম্ন আয়ের মানুষ বৃষ্টিতে ভিজে অটো, নছিমন, ভটভটি, ভ্যান কিংবা অন্যান্য কাজে ঘর হতে বের হয়েছেন। 

তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে অনেক কৃষকই এখনো আমন ধান ঘরে তুলতে পারেননি। এতে অনেকেরই শুকনো ধান ভিজে গেছে। শেষ সময়ে কষ্টের ফলানো ধান ঘরে তোলা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন তাঁরা। 

এদিকে গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন গ্রামের কৃষকেরা। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে ঘর থেকে গরু-ছাগল বের করা সম্ভব হয়নি। এমন অবস্থায় এসব পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে শ্রমজীবী মানুষের অলস সময় কেটেছে বলেও জানা গেছে। 

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার সকাল থেকেই জেলায় থেমে থেমে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। রোববার ও সোমবার পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। সকাল থেকেই কখনো মাঝারি, কখনোবা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। এ অবস্থা আজ মঙ্গলবারও অব্যাহত থাকতে পারে। 

উপজেলার মিয়াপুর গ্রামের ভ্যান চালক বজলু মিয়া বলেন, দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে আমরা নাকাল অবস্থায় পড়েছি। আমাদের আয়ের ওপরই সংসার চলে। তাই রুজির ধান্দায় বৃষ্টিতে ভিজে ঘর হতে বের হয়েছি। সামান্য কিছু আয়ও হয়েছে। এ দিয়ে চাল, ডাল ও নুন নিয়ে ঘরে ফিরব। তবেই রান্না-খাওয়া। 

উপজেলার রাওথা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে অনেকেই ধান বাড়িতে তুলেছেন। তবে কারও কারও ধান কাটার পর শুকানোর জন্য রেখে দিয়েছেন খেতে। আবার কেউ কেউ শুকনো ধানের মুঠো বেঁধে গাদা করে রেখেছেন। এ অবস্থায় শনিবার ও রোববার গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে দেখা দিয়েছে বিপত্তি। বৃষ্টিতে ভিজেই ধান কাটা, বাঁধা ও নেওয়ার কাজ করছেন কিষানিরা। এতে বেগ পেতে হচ্ছে। সময় লাগছে বেশি। আর বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ায় তা নষ্ট হওয়ার উপক্রমও হয়েছে। 

নিমপাড়া গ্রামের কৃষক বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, গরু বাছুর ও ছাগল নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। এগুলো ঘর থেকে বের করতে পারছি না। প্রাণী গুলোর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। 

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মদ বলেন, উপজেলায় এবার ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করা হয়েছে। এর প্রায় ৭০ ভাগ ধান কাটা হয়ে গেছে। বাড়ি তোলা হয়েছে অন্তত ৫৫-৬০ ভাগ ধান। যারা দেরিতে আবাদ করেছিলেন তাঁদের কিছু ধান এখনো মাঠে থেকে গেছে। তিন দিনের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে সেই ধান নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকেরা। 

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক লতিফা হেলেন জানান, সমুদ্রে ঘূর্ণিঝড় ‘জাওয়াদের’ প্রভাবে সারা দেশই গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। রাজশাহীতে তিন দিন ধরে এ পরিস্থিতি বিরাজমান। তবে মঙ্গলবারের পর থেকে আবহাওয়া অনেকটা স্বাভাবিক হতে পারে। মেঘ কেটে গেলে শীতের আগমন বেশি ঘটবে। 

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    রূপপুর প্রকল্প থেকে ৬৫ লাখ টাকা মূল্যের ক্যাব্‌ল চুরি

    লোহা কুড়াতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু

    রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি

    শজিমেকে পড়ে আছে অজ্ঞাতনামা যুবকের মরদেহ

    করোনায় আক্রান্ত খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার

    দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাওয়ায় বাবাকে গলা কেটে হত্যা

    ‘বাহে এবার জারোত থাকি মুই বাঁচিম বাবা’

    গৃহযুদ্ধের কিনারায় যুক্তরাষ্ট্র!

    দক্ষিণখানে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

    সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে মেম্বর প্রার্থী গ্রেপ্তার 

    দক্ষিণখানে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

    রাবিতে সশরীরেই চলবে ক্লাস-পরীক্ষা