Alexa
শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

টার্গেট করে হত্যা করছে তালেবান, ২২ দেশের উদ্বেগ

  • ১০০ জনের বেশি সাবেক সেনা খুন।
  • প্রায় ২১ জন হাজেরা গোষ্ঠীর মানুষকে হত্যা।
  • শিয়া মসজিদে বোমা হামলা বেড়েছে। 
আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:১৪

ফাইল ছবি প্রায় ২০ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে চলতি বছরে ১৫ আগস্ট দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসে তালেবান। এরপর তাদের হাতে সাবেক আফগান নিরাপত্তাবাহিনীর ১০০ জনের বেশি সদস্য নিহত বা গুম হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে গত মঙ্গলবার প্রকাশিত হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে। তালেবানের গুম-খুনের কর্মকাণ্ড নিয়ে গতকাল রোববার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ২২টি দেশ। 

তালেবানের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও জোরপূর্বক গুমের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ক্ষমতা গ্রহণের সময় ঘোষিত সাধারণ ক্ষমা মেনে চলতে তালেবানকে আমরা আহ্বান জানাই। তালেবানকে সব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং গুম হওয়ার ঘটনাগুলো তদন্ত করতে হবে। কথা নয়, তালেবানকে তাদের কাজের মাধ্যমে বিচার করা হবে।’ 

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ আগস্ট থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে আফগান নিরাপত্তাবাহিনীর অন্তত ৪৭ সদস্যকে হত্যা করে তালেবান। অথচ সাবেক আফগান সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আত্মসমর্পণ করলে, তাঁদের কোনো ক্ষতি হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তালেবান। 

এদিকে একই দিন প্রকাশিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন জানায়, আগস্টে হাজেরা অধ্যুষিত দইকোন্দি প্রদেশের দাহানি কুল গ্রামে সাবেক আফগান নিরাপত্তাবাহিনীর নয় সদস্যসহ মোট ১৩ জনকে হত্যা করে তালেবান। নিহতদের মধ্যে ১৭ বছরের এক মেয়েও রয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে ৩০০ তালেবান যোদ্ধা অংশ নেয়। 

এর আগে জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে হাজারা জনগোষ্ঠীর নয়জনকে তালেবান হত্যা করেছিল বলে জানিয়েছিল অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। 

তালেবানের এসব হত্যাকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং ‘গণহত্যা’ মন্তব্য করে অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন বলা হয়, তালেবানের ১৯৯৬-২০০১ সালের দৃষ্টিভঙ্গি যে পরিবর্তন হয়নি এসব হত্যাকাণ্ড তার প্রমাণ। 

তবে তালেবানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ক্বারী সৈয়দ কোস্তি বিবিসিকে বলেন, ‘অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন পক্ষপাতদুষ্ট। এসব প্রতিবেদন বিশ্বাসযোগ্য নয়। যথার্থ তদন্ত প্রতিবেদন করতে যে কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থাকে আমরা সাদরে আহ্বান জানাই।’ 

হাজেরারা শিয়া ধর্মাবলম্বী। সংখ্যালঘু হওয়ায় গতবার ক্ষমতায় থাকাকালে তাদের ওপর চরম নিপীড়ন চালায় তালেবান। এবার ক্ষমতায় আসার পরপরই তাঁদের ওপর আগের মতো জুলুম শুরু হয়। সম্প্রতি অনেকগুলো শিয়া মসজিদে বোমা হামলা হয়েছে। এতে প্রায় শ খানেক নিহত ও অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন। 

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, আফগানিস্তানের ৩৪টি প্রদেশের মধ্যে গাজনি, হেলমান্দ, কুন্দজ এবং কান্দাহারে তালেবান সবচেয়ে বেশি গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে। এর মধ্যে কান্দাহার তালেবানের আধ্যাত্মিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত। তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা মোহাম্মদ ওমরসহ তালেবানের বর্তমান নেতৃত্বের শীর্ষস্থানীয় অধিকাংশ নেতা দক্ষিণাঞ্চলের কান্দাহার প্রদেশের মানুষ। তবে আগস্টে ক্ষমতা দখলের আগে হাতেগোনা যে কয়টি প্রদেশে তুমুল যুদ্ধ হয়েছে তাদের মধ্যে হেলমান্দ ও কান্দাহার অন্যতম। আর বাকিগুলো হাজেরা অধ্যুষিত অঞ্চল।   

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    ভারতীয় কিশোরকে অপহরণের অভিযোগ চীনা সেনার বিরুদ্ধে

    শারজায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি অন্তঃসত্ত্বা ও তাঁর মেয়ে নিহত

    অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার জন্য চিকিৎসককে ভাড়া করার চেষ্টা

    সস্তায় করোনার খাওয়ার ওষুধ পাচ্ছে ১০৫ দেশ, তৈরি হবে বাংলাদেশেও

    লাহোরে বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৩ 

    ‘বাহে এবার জারোত থাকি মুই বাঁচিম বাবা’

    গৃহযুদ্ধের কিনারায় যুক্তরাষ্ট্র!

    দক্ষিণখানে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

    সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে মেম্বর প্রার্থী গ্রেপ্তার 

    দক্ষিণখানে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

    রাবিতে সশরীরেই চলবে ক্লাস-পরীক্ষা