Alexa
শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

চা বিক্রেতা থেকে ইউপি সদস্য মাজেদা

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:৫০

নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য চা বিক্রেতা মাজেদা খাতুন। ছবি: আজকের পত্রিকা মাজেদা খাতুন ও সোবাহান প্রামাণিক দম্পতির ছেলে সন্তান নেই। ১৮ বছর আগে দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। বয়োবৃদ্ধ সোবাহান প্রামাণিক ঠিকমতো কাজ করতে পারতেন না। কী করবেন ভেবে না পেয়ে স্টেশনের পাশে একটি চায়ের দোকান দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন মাজেদা। 

এরপর থেকে নিজের সংসারের ঘানি টেনে ধীরে ধীরে সচ্ছলতার মুখ দেখতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁর মনে উঁকি দেয় তিনি মহিলা মেম্বার হয়ে মানুষের সেবা করার। সেই ইচ্ছা থেকে দুবার নির্বাচন করে অল্প ভোটে হেরে যান। তবুও দমে যাননি তিনি। অবশেষে তৃতীয়বার নির্বচন করে পেলেন সফলতার মুখ। 

নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য চা বিক্রেতা মাজেদা খাতুন। ছবি: আজকের পত্রিকা গত ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে পাবনার চাটমোহর উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের ১,২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। চা বিক্রেতা থেকে কীভাবে জনপ্রতিনিধি হওয়া যায় তাঁর জ্বলন্ত উদাহরণ মাজেদা খাতুন। এ নিয়ে এলাকায় মানুষের মাঝে সাড়াও পড়েছে বেশ। 

আলাপকালে মাজেদা খাতুন জানান, তাদের সংসারে ছেলে সন্তান নেই। দুই মেয়ে হোসনে আরা রতনা ও ফরিদা পারভীনকে ১৮ বছর আগে বিয়ে দিয়েছেন। মেয়েদের বিয়ের পর থেকে একা হয়ে পড়েন স্বামী-স্ত্রী। বয়োবৃদ্ধ স্বামী সোবাহান প্রামাণিক কাজকর্ম তেমন করতে পারতেন না। সবার পরামর্শে চাটমোহর রেলস্টেশনের পাশে একটি ছোট্ট দোকান দিয়ে শুরু করেন চা বিক্রি। তারপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ৫ থেকে ৬ বছর আগে তাঁর স্বামী মারা যান। 

নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য চা বিক্রেতা মাজেদা খাতুন। ছবি: আজকের পত্রিকা মাজেদা বলেন, চায়ের দোকানে মানুষের মুখে মেম্বারদের নিয়ে অনেক কথা শুনেছি। আক্ষেপের কথা শুনেছি। সেই থেকে ইচ্ছা জাগে জনপ্রতিনিধি হওয়ার। পরে সবার উৎসাহে দুবার ভোটে দাঁড়াই। কিন্তু অল্প ভোটে হেরে যাই। কষ্ট লাগলেও থেমে যাইনি। এবার ইউপি নির্বাচনে দাঁড়ালে সবাই ভোট দিয়ে আমাকে জিতিয়েছে। এখন খুব ভালো লাগছে। চা বিক্রি করি বলে কেউ অবহেলা করেনি। 

ইউপি সদস্য মাজেদা খাতুন বলেন, মানুষের এই ভালোবাসার প্রতিদান আমি দিতে চাই। গ্রামের অবহেলিত নারীদের পাশে থেকে আমার সাধ্য অনুযায়ী তাদের সহযোগিতা করব। তবে আমার যে চা বিক্রির ব্যবসা, সেটি আমি বন্ধ করব না। সকল কার্যক্রম শেষ করে সময় পেলেই আমি চা বিক্রি করব। 

মাজেদা খাতুনের দুই মেয়ে হোসনে আরা রতনা ও ফরিদা পারভীন জানান, তাদের মা অনেক কষ্ট করেছেন। সব সময় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। তিনি মহিলা মেম্বার হওয়ায় তাঁরা খুব খুশি।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    ‘বাহে এবার জারোত থাকি মুই বাঁচিম বাবা’

    দক্ষিণখানে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

    সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে মেম্বর প্রার্থী গ্রেপ্তার 

    দক্ষিণখানে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

    অনশন পেরোলো ৩২ ঘণ্টা, হাসপাতালে ভর্তি ৬ শিক্ষার্থী

    চট্টগ্রামে অটোরিকশায় কিউআর কোড স্টিকার লাগানো ‍শুরু

    ‘বাহে এবার জারোত থাকি মুই বাঁচিম বাবা’

    গৃহযুদ্ধের কিনারায় যুক্তরাষ্ট্র!

    দক্ষিণখানে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

    সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে মেম্বর প্রার্থী গ্রেপ্তার 

    দক্ষিণখানে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

    রাবিতে সশরীরেই চলবে ক্লাস-পরীক্ষা