Alexa
শনিবার, ২০ আগস্ট ২০২২

সেকশন

epaper
 

শৌচাগার

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:৪১

শৌচাগার তাঁরা অপেক্ষা করছেন শৌচাগারে যাওয়ার জন্য। এমন একটি ছবি দেখে আপনার হাসি পেতে পারে; কিন্তু ছবিতে যাঁরা অপেক্ষমাণ, তাঁদের জন্য এ এক বড় ট্র্যাজেডি। যিনি বহু কাঠখড় পুড়িয়ে শেষ পর্যন্ত ঢুকতে পেরেছেন শৌচাগারে, তিনি ভাগ্যবান। তিনি শান্তিতে কর্তব্যকর্ম করুন, আর আমরা আপাতত দাঁড়াই শৌচাগারে যাওয়ার সারিতে। বোঝার চেষ্টা করি, কেন এই অসহ্য ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের মানুষ। নির্দিষ্ট করে বললে আমরা বলছি অরুয়াইল পাকশিমুল ব্রিজসংলগ্ন অরুয়াইল বাজারের কথা। এরপরে যে তথ্যটি দেব, তা শুনে অবাক হওয়ার ভান করবেন না। বলার চেষ্টা করবেন না, ‘বলেন কী? এ-ও সম্ভব?’

তথ্যটি হলো, যে বাজারে রয়েছে ছোট-বড় মিলিয়ে দেড় হাজার দোকান, যেখানে সওদাপাতি করতে আসে ৪০ গ্রামের মানুষ, সেই বাজারে শৌচাগারের সংখ্যা সাকল্যে একটি। আপনাকে অবাক হওয়ার সুযোগ দেব না শুধু এই কথা বলে যে, এমন অনেক পাবলিক প্লেস আছে আমাদের দেশে, যেখানে একটিও মোটামুটি ব্যবহারযোগ্য শৌচাগার নেই। শৌচাগারের প্রয়োজনীয়তাই সেসব জায়গার দণ্ডমুণ্ডের কর্তারা স্বীকার করেন না। যেন সেসব জায়গায় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।

সেই আদিকাল থেকেই যখন মানুষ বাসে, লঞ্চে গ্রামের বাড়ি যেত, তখন কোথাও নেমে প্রাকৃতিক ক্রিয়াকর্ম সারার কোনো জায়গা ছিল না। আমাদের অমিত তেজি পুরুষেরা রাস্তার ধারেই কোনো গাছের আড়াল নিয়ে সমাধা করতেন কাজ। নারীরা পড়তেন বিপদে। কারও বাড়িতে গিয়ে অনুমতি নিয়ে ঢুকতে হতো তাঁদের শৌচাগারে।

এখন পরিস্থিতি কিছুটা বদলেছে। শহরাঞ্চলের বাজার, শপিং মল প্রভৃতিতে তৈরি করা হয়েছে শৌচাগার। সেখানে লোক রেখে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু কয়টা জায়গায় সেই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে? ঢাকা শহরের পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা লজ্জাজনকভাবে কম, ঢাকার বাইরে আরও করুণ অবস্থা।

অন্যের বিড়ম্বনা দেখে যদি একটু তৃপ্ত হতে চান, তাহলে রাশিয়ার একটি শহর সারাতভের কথা বলি। ঘটনাটা অবশ্য বেশ কয়েক বছর আগের; কিন্তু বলতে তো দোষ নেই। আশা করি, এত দিনে সারাতভবাসী সেই সংকট কাটিয়ে উঠেছেন। শহরটির ভালো এক এলাকায় ম্যাকডোনাল্ডস আছে, পিৎজা হাট আছে, আছে সিনেমা হল পাইওনিয়ার। কিন্তু সেখানে পাবলিক টয়লেট নেই। প্রাকৃতিক চাপে আগে পথচারীরা ভালো মানুষের মতো ঢুকে পড়তেন বড় বড় খাবার দোকানে, হালকা হয়ে বেরিয়ে আসতেন। কিন্তু তাঁদের সে কৌশল ধরে ফেলেছেন দোকানমালিকেরা। এরপর দোকানে ঢোকার আগেই দারোয়ান জিজ্ঞেস করে নিশ্চিত হয়ে নেন, তাঁরা খেতে আসছেন নাকি হালকা হতে। হালকা হতে আসা মানুষের আর দোকানে ঢোকার অনুমতি মেলে না। সে কথা ভাবলে গায়ে কাঁটা দেয়।

সমস্যাটি আসলে রুচির। মুখে পাউডার মেখে সারা শরীর ময়লা রাখার মতো। রাস্তাঘাটে টয়লেটের বিপদ কাটানোর ব্যবস্থা করাটা জরুরি।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    সার সংকট নিরসনে ৩৩ ডিলারকে ৩ দিনের সময়সীমা

    ভবন থাকলেও আসবাব সংকটে টিনশেডে পাঠ

    ধর্ষণ মামলার বাদীকে হুমকির অভিযোগ

    এলাকাভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহে বৈষম্যের অভিযোগ

    নতুন ভাড়ায় ফেরিতে পারাপার

    ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, শিক্ষক বরখাস্ত

    অলিম্পিকেও নিষিদ্ধ হতে পারে ভারত

    ভোলার গ্যাস নিয়ে বড় পরিকল্পনায় সরকার

    দাম্মামে ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশ আ. লীগের শোক দিবস পালিত 

    কুমিল্লায় কাভার্ডভ্যানের চাপায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার মৃত্যু

    রুশদির ওপর হামলায় ইমরান খানের নিন্দা

    ফেসবুক লাইভে এসে নিজের দুর্দশার কথা জানালেন এক প্রবাসী