Alexa
বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১২:১৫

করোনা সংক্রমণ কমায় মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানায় সচেতনতা কমেছে। ছবিটি নগরীরে গীর্জামহল্লা এলাকা থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ‘ওমিক্রন’ নিয়ে বরিশালে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতিমধ্যে ১৫ নির্দেশনা মানাতে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে। জেলার সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছে। যদিও নগরীতে স্বাস্থ্যবিধি মানায় উৎসাহ চোখে পড়েনি সাধারণ মানুষের মধ্যে।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানবিদ আহসান কবির বলেন, গতকাল সোমবার বরিশাল ও পটুয়াখালীতে ২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত এক সপ্তাহে এভাবে আক্রান্ত থাকছেই। আক্রান্ত ১৭ জন এ মাসে সুস্থ হয়েছেন। করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন নিয়ে সকালে ভার্চুয়ালি সভাও হয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগের।

জানতে চাইলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক বাসুদেব কুমার দাস বলেন, করোনা পরিস্থিতির জন্য সব সিভিল সার্জনকে নতুন করে ১৫ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন দেশে এখনো ঢোকেনি। তবে তাঁরা এ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন। সতর্ক হতে পরিকল্পনাও নিচ্ছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৫ নির্দেশনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-জনসমাগম নিরুৎসাহিত করা, বাইরে বের হলেই মাস্ক পড়া, রেস্তোরাঁ-বিনোদন স্পট-সামাজিক অনুষ্ঠানে ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক মানুষ, গণপরিবহন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি মানা, সর্বত্র ব্যাপক প্রচার চালানো ইত্যাদি।

সোমবার বেলা ১২টায় সরেজমিনে নগরীর গীর্জামহল্লা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশের মুখে মাস্ক নেই। দুটি বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ ও রুপাতলীতেও পরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি মানায় খেয়াল নেই। একই অবস্থা বরিশাল নৌবন্দরে। স্কুল-কলেজগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে লোক দেখানো। বরিশাল বিএম কলেজ ও হাতেম আলী কলেজে ছাত্র-ছাত্রী এমনকি অনেক শিক্ষকেরও মাস্ক দেখা যায়নি।

সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) বরিশাল জেলা সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুইজারল্যান্ড সফর ওমিক্রনের খবরে বাতিল করেছেন। সুতরাং এ ব্যাপারে উদাসীনের সুযোগ নেই। স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য প্রশাসন, সুধীসমাজের থেকে নতুন করে ব্যাপক প্রচার করা জরুরি। আমরা তো স্বাস্থ্যবিধিতে ঢিলেঢালা ভাব এনেই ফেলেছিলাম। মাস্ক পড়াও একেবারে ছেড়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন যে ভ্যারিয়েন্ট আসছে তা নিয়ে চিন্তারই কথা।’

বরিশাল জেলা স্বাধীনতা প্রধান শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, রাস্তাঘাটে স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রবণতা ১০ ভাগও নাই। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানার চেষ্টা চলছে। কিন্তু ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে মাস্ক খুলে ফেললে শিক্ষকদের কী করার আছে। এটা তো অভিভাবক দেখবেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মানা নাগরিক দায়িত্ব। নতুন ভ্যারিয়েন্টের জন্য স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য সতর্ক করে দেওয়া হবে।’

বরিশাল জেলা সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার হোসেন জানান, করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন ঠেকাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৫ নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজে নেমে পড়েছেন তাঁরা। তিনি রোববারই চিঠি পেয়ে জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করেছেন। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে তাঁরা ব্যবস্থা নেবেন। আর স্বাস্থ্য বিভাগ এখন থেকেই মোটিভেশন করবে। তিনি বলেন, ‘করোনা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু একেবারে শেষ হয়নি। প্রতিদিনই ২-১ জন আক্রান্ত হচ্ছে পুরোনো ভেরিয়েন্টে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি না মানলে বেড়ে যেতে পারে। টিকা না দিলে করোনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব না। আর ওমিক্রন নিয়ে চিন্তা থেকেই যাচ্ছে। এটি যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, বিদেশিরা আসলে যাতে আইসোলেশনে থাকে সেটি কঠোরভাবে মানতে হবে।’ সিভিল সার্জন জনগণকে ৩টি বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। এগুলো হচ্ছে-মাস্ক পড়া, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হাত ধোয়া।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    অস্তিত্ব সংকটে বংশাই নদ

    আত্মনির্ভরশীল হচ্ছেন আশ্রয়ণের বাসিন্দারা

    হেলে পড়া সেতু সংস্কার হয়নি চার বছরেও

    দ্বিতীয়বার করোনায় আক্রান্ত আফ্রিদি

    করোনা আক্রান্ত সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, গুরুতর অসুস্থ

    মৃত্যুর ২ দশক পর আপিল নিষ্পত্তি

    সিরিয়া সীমান্তে জর্ডান সেনাবাহিনীর গুলিতে ২৭ মাদক পাচারকারী নিহত

    শিশু ধর্ষণ মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

    দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার নারীকে ন্যাড়া ঘুরানো হল বাজারে