Alexa
শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

কয়েক ছত্র

সাদাচোখে গল্প অন্তর চোখে বাস্তবতা

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১১:৪১

সাদাচোখে গল্প অন্তর চোখে বাস্তবতা পুকুরচুরি কথাটা আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ শুনে আসছি। এ কথাটা কোত্থেকে এল, সেটা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আমি যে গল্পটা শুনেছি, সেটা ছিল এ রকম:

অনেক দিন আগের কথা অবশ্য। কোনো এক জেলায় একজন নির্বাহী প্রকৌশলী পদায়ন হলেন। সেই সময় ওই জেলায় তেমন একটা কাজ ছিল না। প্রকৌশলী কমিশনের কোনো ব্যবস্থা না দেখে একদিন মনে মনে চিন্তা করলেন, এখানে সরকারি খালি জায়গায় জনস্বার্থে একটি পুকুর খনন করা যায়। যে চিন্তা সেই কাজ—সবকিছু রেডি করে একজন ঠিকাদারকে ডেকে, পুকুর কাটার কার্যাদেশ দিয়ে দিলেন। ঠিকাদারের মাধ্যমে বিল উঠিয়ে ঠিকাদারকে সামান্য কিছু টাকা দিয়ে, সম্পূর্ণ টাকাটা নির্বাহী প্রকৌশলী আত্মসাৎ করলেন।

কিছুদিন পরেই নির্বাহী প্রকৌশলী বদলি হয়ে গেলেন। এখানে পদায়ন হলেন বিশ্ববিদ্যালয়-জীবনের তাঁরই এক সহপাঠী। তাঁরও তখন কমিশনের মন্দা যাচ্ছিল। কাগজপত্র ঘেঁটে দেখেন আবাসিক এলাকায় একটি পুকুর আছে, কিন্তু বাস্তবে সেখানে পুকুর নেই। সহপাঠী বন্ধুকে টেলিফোন করে বললেন, ‘তিন বছর আগে এখানে একটি পুকুর ছিল কাগজে-কলমে। আসলে এখানে পুকুরের কোনো অস্তিত্ব নেই। এটা কেমন করে সম্ভব?’

সহপাঠী বন্ধু তখন তাঁকে উপদেশ দিয়ে বললেন, ‘জনস্বার্থে আমি পুকুর খনন করে টাকা নিয়েছিলাম। তুমি বুদ্ধিমান হও। তুমি এখন জনস্বার্থে পুকুর ভরাট করে টাকা তুলে নিয়ে নাও।’

অর্থাৎ জায়গার জমি জায়গায় থাকল, মাঝখান থেকে একটি পুকুর খনন এবং ভরাট করে সমস্ত পুকুরটাই চুরি হয়ে গেল। সেই থেকে মুখরোচক পুকুরচুরির গল্প প্রচারিত হয়ে গিয়েছিল।

কোনো এক জেলায় এক নির্বাহী প্রকৌশলীর বৃদ্ধ মা মারা গেলেন। প্রকৌশলীকে তেমন একটা আক্ষেপ, বিলাপ বা কান্নাকাটি করতে দেখা গেল না।

ওই নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিসের নিবন্ধিত একজন ঠিকাদার খুবই কান্নাকাটি ও বিলাপ করতে আরম্ভ করলেন। বলতে লাগলেন, ‘স্যার তো কিছুদিন পরে সুপারেনটেন্ড ইঞ্জিনিয়ার বা অ্যাডিশনাল চিফ ইঞ্জিনিয়ার হবেন। স্যারের মায়ের এই প্রমোশন দেখে যাওয়ার সুযোগ হলো না।’ এই বলে জোরে জোরে কান্নাকাটি করতে লাগলেন। তখন তাঁর বন্ধুবান্ধব বলতে লাগলেন, ‘মা মারা গেছে নির্বাহী প্রকৌশলীর, তুমি এত কান্নাকাটি করছ কেন?’

ঠিকাদারের জবাব, ‘প্রকৌশলী সাহেবের প্রমোশন হলে এখান থেকে চলে যেতেন। আমার কোনো খরচ লাগত না। এখন এই মহিলার সৎকারের যত খরচ, চল্লিশার যত খরচ—সবই তো আমাকে বহন করতে হবে। তাই এই দুঃখে কান্নাকাটি করতেছি।’

কোনো একজন ঠিকাদার প্রতিদিন ঘর থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে বের হন জুয়া খেলার জন্য। প্রতিদিন হেরে আসেন। একদিন তাঁর বউ জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি সারা বছর প্রতিদিন হারো কেন? কোনো একদিন কি লাভ করে আসতে পারো না?’ ঠিকাদারের উত্তর, ‘আমি তো জুয়া খেলি ইঞ্জিনিয়ার স্যারদের সঙ্গে। তাঁরা আমাকে কাজ দেন, কোনো কমিশন নেন না। এই কমিশনের বদৌলতে আমি প্রতিদিন তাঁদের সঙ্গে জুয়া খেলে ২০ হাজার টাকা লোকসান দিই আর তাঁরা প্রতিদিন ২০ হাজার টাকা লাভ করে নেন। কারণ বর্তমান স্যাররা কমিশনের বিরুদ্ধে। তাই জুয়া খেলে লাভ করে এটাকে ব্যবসার একটি ক্ষেত্র বানিয়ে নিয়েছেন।’

এ রকম মুখরোচক গল্প সমাজে প্রচলিত আছে, কিন্তু চোখ-কান খোলা রেখে একটু চারদিকে তাকালে মুখরোচক গল্পের সঙ্গে অনেকাংশেই মিলে যাবে বর্তমান সময়ের বিভিন্ন জায়গার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি, নতুন নতুন একই জায়গায়, একই রকম প্রজেক্ট—এই সবই ওই সব মুখরোচক গল্পের প্রতিচ্ছবি।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    দোয়া সফলতার হাতিয়ার

    ফ্যাশনেবল ফিউশন

    নিরাপদ অভিবাসন নিয়ে কর্মশালা

    ঘাটাইলে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ৩ অবৈধ ইটভাটা

    জরাজীর্ণ টিনের ঘরে ৩৮ বছর পাঠদান

    ৫ ইউপিতে আওয়ামী লীগের ৭ বিদ্রোহী

    ‘বাহে এবার জারোত থাকি মুই বাঁচিম বাবা’

    গৃহযুদ্ধের কিনারায় যুক্তরাষ্ট্র!

    দক্ষিণখানে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

    সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে মেম্বর প্রার্থী গ্রেপ্তার 

    দক্ষিণখানে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

    রাবিতে সশরীরেই চলবে ক্লাস-পরীক্ষা