Alexa
বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

বন্ধ হওয়ার পথে সাভারের ট্যানারি

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২১, ০১:৫০

সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে দৈনিক ৪০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য উৎপাদন হয়। ছবি: ফাইল ছবি পরিবেশ দূষণের দায়ে সাভারের চামড়া শিল্প নগরী বন্ধ করতে শিল্প মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। সংসদীয় কমিটির সুপারিশের কারণে এ শিল্পনগরী বন্ধ করতে শিল্প মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠাবে। সংসদীয় কমিটি মনে করছে এই শিল্প নগরী বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। 

সোমবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আবারও আলোচনা হয়। বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন। 

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, 'সাভারে ট্যানারি যেটা আছে, আমরা তো তাদের চিঠি দিয়েছিলাম। সরকারের পক্ষ থেকে একটি টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে অতিরিক্ত সচিব এসেছিলেন। ওনার বক্তব্য শুনলাম। আমরা টাস্কফোর্সকে স্বাগত জানাই। টাস্কফোর্স তাদের কাজ করবে। তবে তারা নতুনভাবে আবার আবেদন করবে তাদের ছাড়পত্রের জন্য।' 

সংসদীয় কমিটি বলছে, পরিপূর্ণ ব্যবস্থা নিয়ে এই শিল্পনগরী চালাতে হবে। যত দিন তা না হয়, এটা বন্ধ থাকবে। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও সংসদীয় কমিটির সঙ্গে একমত পোষণ করা হয়। 

সাবের হোসেন বলেন, ‘আমাদের যে চাহিদাগুলো আছে সেগুলো তারা পূরণ করবে। আমরা তাদের সহযোগিতা করব, কীভাবে করলে এটা কমপ্লায়েন্ট হতে পারে। সেটা করার পর, তারা নিয়ম অনুযায়ী যদি ছাড়পত্র পায় তারা শিল্পনগরী চালু করতে পারবে। তার আগে এখনই এটা বন্ধ করতে হবে। এটা চলতে পারবে না।’ 

গত ২৩ আগস্ট পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে না হওয়ায় সাভারের চামড়া শিল্প নগরী আপাতত বন্ধ রাখার সুপারিশ করে। 

কমিটির সুপারিশের পর পরিবেশ অধিদপ্তর বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) কাছে চিঠি দেয়। চামড়া শিল্প নগরী কেন বন্ধ করা হবে না, তা বিসিকের কাছে জানতে চায় সংসদীয় কমিটি। 

এক প্রশ্নের জবাবে সাবের হোসেন বলেন, ‘কোনো ইনডিভিজুয়্যাল ইউনিট যদি ইটিপি করে, সেটার বিষয় আলাদা করে বিবেচনা করা হবে। আজকে ফাইনাল ডিসিশন হয়েছে, এটা বন্ধ হয়ে যাবে। এটা মিনিস্ট্রিরও সিদ্ধান্ত। আমরা জানিয়ে দিয়েছি। এটা চিঠি ইস্যু হয়ে যাবে।’ 

সাবের হোসেন বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে ছয়টা ডাইং কারাখানার ছাড়পত্র নেই। আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। এখানেও বন্ধ করে দেব। আগে শোকজ করা হয়েছিল। জবাব এসেছে। আপাতত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। মিনিস্ট্রি এখন শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বিসিককে চিঠি পাঠাবে।’ 

সাবের হোসেন আরও বলেন, ‘২০১১ সাল থেকে এটা আছে। ১০ বছর ধরে তারা কোনো ধরনের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেনি। এটা হতে পারে না। আবেদন করবেন না, ছাড়পত্র নেই, আবার চালাবেন। এটা হতে পারে না। এখানে জিরো টলারেন্স।’ 

সাবের হোসেন বলেন, ‘আমরা আজকেও বলেছি, আপনি যদি বর্জ্য খোলা জায়গায় রেখে দেন এটা অক্সিডাইস, ক্যান্সারাস। আমার এলাকায় বালু, নদীর পানি পচে গেছে। কয়লার মতো কালো। চর্ম রোগ হয়।’ 

সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে দৈনিক ৪০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য উৎপাদন হয়। যেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা রয়েছে ২৫ হাজার ঘনমিটার। অর্থাৎ দৈনিক ১৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য পরিবেশে মিশছে। গত তিন বছরে এক কোটি ৬৪ লাখ ঘনমিটার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বাইরে থেকে গেছে। এর বাইরে ক্রোমিয়াম শোধনের ব্যবস্থাও নেই সেখানে। এসব যুক্তিকে আগস্ট মাসে সাভারের ট্যানারি বন্ধ করার সুপারিশ করে সংসদীয় কমিটি। 

গত সেপ্টেম্বর মাসে চামড়া শিল্প খাতের উন্নয়নে সুপারিশ তৈরি ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত আন্তমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স এক বৈঠক করে বলেছে, তারা এই শিল্পের জন্য আলাদা কর্তৃপক্ষ চায়। চামড়া শিল্প নগরী বন্ধ না করে পরিবেশ সম্মত ও দূষণ মুক্ত করার পক্ষে টাস্কফোর্স। 

ট্যানারিগুলো হাজারীবাগ থেকে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা হলেও কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি) এবং অন্যান্য সব কাজ এখনো শেষ হয়নি। এ অবস্থায় কয়েকটি ট্যানারিকে পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হলেও এখন পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়নে সময় নেওয়া হচ্ছে। 

পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন বিলম্বিত হওয়ায় রপ্তানিকারক হিসেবে এক্সপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা ইআরসি, আমদানিকারক হিসেবে ইমপোর্ট রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা আইআরসি এবং শুল্কমুক্তভাবে পণ্য আমদানির বন্ড সুবিধার ছাড়পত্র পেতে জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে ট্যানারিমালিকদের ভাষ্য।  

সংবাদ সচিবালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিবেশ দূষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা রক্ষার্থে শিল্প মন্ত্রণালয়কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করে কোনো অবস্থাতেই পরিবেশ দূষণ না করার জন্য জোরালো মত প্রকাশ করা হয়। শিল্প রক্ষার পাশাপাশি মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর জীবনমান সচল রাখা এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে শিল্পকারখানা নির্মাণের ব্যাপারেও সুপারিশ করা হয়। 

এ ছাড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপকে ধূমপান মুক্ত এলাকা ঘোষণার সুপারিশ এবং দ্বীপের পরিবেশ রক্ষার উদ্দেশ্যে সুনির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যটক গমনাগমনের নীতিমালা তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয় বিজ্ঞপ্তিতে। 

এদিকে বন অধিদপ্তরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় জবর দখলকৃত বনভূমি উদ্ধারের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় প্রাণী হত্যা রোধের কার্যক্রম গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়। সর্বোপরি বন্যপ্রাণী নিধন নিরুৎসাহিত করার আহ্বান জানানো হয় এবং এ ব্যাপারে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের পরামর্শ রাখা হয়।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    ২০২২ সাল হবে রাজনীতির সংকটকাল: সুলতান মনসুর

    নিম্ন আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন ৮ বিচারপতি

    সেরে ওঠার এক বছর পরও শরীরে করোনার উপসর্গ থাকছে: গবেষণা

    আওয়ামী লীগ ইনডেমনিটির পথে হাঁটে না: আইনমন্ত্রী

    করোনায় আরও ১৫ মৃত্যু, শনাক্তের হার ৩১.৯৮%

    অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের দাফনের অনুদান বাড়ল ৩ গুণ

    প্রধানমন্ত্রীর এপিএস সেজে হাতিয়ে নিয়েছেন বিপুল টাকা  

    অভিজ্ঞতা ছাড়াই আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে চাকরির সুযোগ 

    স্বেচ্ছায় করোনায় আক্রান্ত হতে চান?  

    বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভূমি অধিগ্রহণে দুর্নীতির অভিযোগ বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক: শিক্ষামন্ত্রী   

    ৪২ বছর পর বার্টি...

    যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে মসজিদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা