মামলা না নেয়ায় বিক্ষোভ

রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার ডিসি সড়কের দু’ধারে নিলাম বিহীন গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি গাছের গুঁড়ি জব্দ করে থানায় নিলেও অজানা কারণে মামলা নিচ্ছে না পুলিশ। ফলে সোমবার রাজিবপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী।

এদিকে নিলাম বিহীন গাছ কাটার অভিযোগ পেয়ে জেলা পরিষদ থেকে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি

বর্তমানে রাজিবপুরে অবস্থান করছেন। কমিটির প্রধান জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মামুনুর রশিদ বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্যে আমরা ঘটস্থল পরিদর্শন করেছি। প্রতিবেদন দাখিলের পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবেন।

জানা গেছে, ডিসি সড়ক প্রসস্ত করণের লক্ষ্যে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ থেকে বিভিন্ন জাতের প্রায় ৩ হাজার পরিপক্ক গাছ নিলাম দেয়া হয়। রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা থেকে রাজিবপুরের শেষ সীমা পর্যন্ত খন্ড খন্ড করে ৩০টি লড এ ভাগ করা হয়। নিলাম কার্যক্রম এখনও অসমাপ্ত থাকায় টাকার অংকটা জানাতে পারেন নি জেলা পরিষদ। এর মধ্যেই তালিকার বাইরে গাছ কাটছেন নিলামকারীরা। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেমন বিব্রত হচ্ছেন তেমনি ফুঁসে উঠতে শুরু করেছে এলাকাবাসী।

এদিকে গত বুধবার খোদ জেলা পরিষদ সদস্য রাজিয়া সুলতানা রেনু’র বিরুদ্ধেই নিলামের বাইরের ৫টি গাছ কেটে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। যার আনুমানিক মূল্য দেড় লাখ টাকা। এলাকাবাসী ওই কাটা গাছ আটক করে থানায় জমা দেয়। এ বিষয়ে স্থানীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল ইসলাম বাবু বাদি হয়ে মামলার উদ্দেশ্যে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

গত ৫ দিনেও মামলা না হওয়ায় সোমবার সকালে বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে থানা মোড়ে এক পথসভায় মিলিত হয়। সভায় বক্তব্য দেন আজিবর রহমান মাস্টার, আশরাফুল ইসলাম বাবু, জুয়েল আহমেদ, মুরাদ হোসেন, সাইদুর রহমান সাঈদ, আতিয়ার রহমান সোহাগ প্রমূখ।

এ ব্যাপারে জেলা পরিষদের সদস্য রাজিয়া সুলতানা রেনু’র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি গাছ কাটার কথা স্বীকার করেন। মামলা না নেয়ার ব্যাপারে রাজিবপুর থানার ওসি রবিউল ইসলাম বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। টিম প্রতিবেদন দিলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার মহিবুল হক বলেন, আমি আজকে যোগদান করেছি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার পর দেখা হবে।

মাসুদ পারভেজ রুবেল/কুড়িগ্রাম