Alexa
মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২২

সেকশন

epaper
 

স্মরণ : আলী যাকের

বাবা ছিলেন আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২১, ১০:৫৮

 দেখতে দেখতে চলে গেল বাবা ছাড়া একটি বছর। বাবার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে বড় কোনো আয়োজনের পরিকল্পনা নেই। গতকাল পরিবারের সবাই গ্রামের বাড়ি রতনপুরে গিয়েছিলাম। গ্রামের মানুষকে নিয়ে বাবার জন্য দোয়া করেছি। আজ পারিবারিকভাবেই বাবার জন্য দোয়া করব, বাবার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাব।

বাবার চলে যাওয়ার এক বছরের মধ্যে তাঁর স্মৃতিতে তৈরি হয়েছে সংগ্রহালয় ‘বাতিঘর’। এটা একটা ভালোলাগা। মঙ্গলদীপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে রাজধানীর বনানীতে এশিয়াটিক সেন্টারে স্থাপিত হয়েছে এটি। ৬ নভেম্বর বাবার ৭৭তম জন্মদিনে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করা হয় সংগ্রহশালাটি। বাবার ব্যবহার্য জিনিসপত্র, তাঁর গ্রন্থ ও চিত্রকর্মের নানা অনুষঙ্গ সজ্জিত আছে এখানে। বাবাকে নিয়ে একটা ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে। আলী যাকের ডটলাভ শিরোনামে।

আমাদের এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বছরে তিনজন শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তি দেওয়া হবে। আর তিনটি নাটক প্রযোজনা করা হবে। অফিসে বাবার যে ঘরটা, ওখানে মিউজিয়াম আর গ্যালারি হয়েছে। ওখানে প্রদর্শনীর সুযোগ করে দেওয়া হবে তরুণ ফটোগ্রাফারদের। সব মিলিয়ে আমরা বাবাকে সব সময়ই আমাদের মাঝে রাখার চেষ্টা করছি, চেষ্টা করব।

বাবা চলে যাওয়ার আগে তাঁর সঙ্গে অনেক সময় কাটানো হয়েছে। করোনার কারণে বাসাতেই থাকতাম। সারাক্ষণ নানা বিষয়ে কথা হতো। এই সময় আমিও বাবা হলাম, আমার বোন শ্রিয়ারও সন্তান হলো। দুই নাতি পেয়ে বাবা যেন জীবনে সবচেয়ে সুন্দর সময় কাটিয়েছেন। অসুস্থ ছিলেন; কিন্তু নাতিদের সঙ্গে তাঁর ভীষণ ভালো কিছু সময় কেটেছে। ছবি তুলতেন নিয়মিত। ছবি তোলার বিষয়টি ছিল বাবার শিশুসুলভ একটি ব্যাপার। অল্প বয়সে তাঁর মা-বাবা, বড় বোনসহ সবাইকে হারিয়েছেন। ছবিগুলো দেখলে বোঝা যায়, তিনি ছবির মাধ্যমে সময়টা ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন।

বাবা আমার জীবনের সবচেয়ে ভালো বন্ধু। এরপর ফিলসফার ও শিক্ষক। অনেকের আক্ষেপ থাকে, বাবাকে কোনো দিন ‘আই লাভ ইউ’ বলা হলো না। আমার আক্ষেপ নেই। আমি বাবাকে জীবনের প্রায় সব কটা দিনই আই লাভ ইউ বলেছি। এই জায়গাটা তিনিই তৈরি করেছেন। এখনো মনে হয়, বাবা সারাক্ষণই আমার সঙ্গে আছেন।

বাবার সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব তাঁর জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। আমাদের মধ্যে সব বিষয়ে কথা হতো, আড্ডা হতো। খেলা দেখা থেকে শুরু করে ঝগড়াঝাঁটি—সবই হতো। আমি আবার অপছন্দের মানুষের সঙ্গে ঝগড়া করতে পারি না। যাঁদের ভালোবাসি বা পছন্দ করি, তাঁদের সঙ্গেই ঝগড়া হয়। ক্রিকেট, রাজনীতি, সমাজ—সব নিয়ে বাবা আর আমাদের ঝগড়া হতো।

শেষের দিকে তিনি খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। তখন আমরা বেশির ভাগই মৌন সময় কাটিয়েছি।

অনুলিখন: মীর রাকিব হাসান

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয় চালু রাখার দাবি

    কবর খুঁড়ে কঙ্কাল চুরি

    এ যুগের কুম্ভকর্ণ

    ছয় দিন পর শিক্ষার্থীদের টিকাদান আবার শুরু

    শ্রীবরদীতে মই দৌড় প্রতিযোগিতা

    সড়কের অভাবে নিঃসঙ্গ সেতু

    কঠিন হলেও আগামী নির্বাচনে বিজেপিকে হারানো অসম্ভব নয়: প্রশান্ত কিশোর

    শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন দিল বাম গণতান্ত্রিক জোট

    শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের সংহতি জানাতে একাই দাঁড়ালেন চবি শিক্ষক মাইদুল ইসলাম

    পুলিশের ‘বাধায়’ ছাত্রদলের প্রতীকী অনশন পণ্ড করার অভিযোগ 

    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোতে চাকরি

    শক্তিশালী ইসি গঠনে আইন প্রণয়ন করছে সরকার: কাদের