Alexa
বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১

সেকশন

 

চোখে ছানি পড়েছে

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২১, ১২:৩৬

 অনেকে মনে করেন, বৃদ্ধ বয়সে চোখে ছানি পড়ে। এটা ভুল ধারণা। যেকোনো বয়সেই চোখে ছানি পড়তে পারে। পারিবারিকভাবে এই রোগের ইতিহাস থাকলে এবং গর্ভাবস্থায় জীবাণুর সংক্রমণ ঘটলে জন্মগত ছানি নিয়েও শিশুর জন্ম হতে পারে। চোখের যত্নে প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করলে এ সমস্যা থাকে না। চোখে ছানি পড়া বয়স বাড়ার সঙ্গে একটি স্বাভাবিক পরিবর্তন। যেকোনো বয়সেই চোখের ছানির সমস্যা হতে পারে। তবে বয়স্ক ব্যক্তিদের এই রোগ বেশি হয়। যখন চোখে ছানি পড়বে, তখন আপনার চারপাশের সবকিছুই ম্লান হয়ে আসবে, সবকিছুই অস্পষ্ট বা কুয়াশাচ্ছন্ন দেখবেন। সাধারণত আমরা যাকে চোখে ‘পর্দা পড়া’ বলে থাকি, সেটিই ছানি পড়া। সারা বিশ্বে অন্ধত্বের অন্যতম কারণ এটি। চোখের ছানি দুই ধরনের—অর্জিত ও জন্মগত। শিশুদের ক্ষেত্রে ছানি রোগের কারণে চোখ ট্যারা হয়ে যেতে পারে।

চোখে ছানি পড়ার লক্ষণ

  • দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমে আসা
  • কোনো দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকার পর লাল-নীল অথবা রঙিন দেখা
  • চোখে ঝাপসা দেখা
  • চোখের কালো মণি ধূসর বা সাদা দেখা যাওয়া
  • চশমার পাওয়ার পরিবর্তন হওয়া 
  • একটি জিনিসকে দুই বা ততোধিক দেখা 
  • দৃষ্টিসীমানায় কালো দাগ দেখা
  • আলোয় চোখ বন্ধ হয়ে আসা ইত্যাদি।

ছানি রোগ কেন হয় 
বয়সজনিত কারণে লেন্সের গঠনগত পরিবর্তন ছানি রোগের প্রধান কারণ। এ ছাড়া চোখের আঘাত, ঘন ঘন চোখের প্রদাহ, অপুষ্টি, অনিয়ন্ত্রিত স্টেরয়েড বা হরমোন থেরাপি, ধূমপান ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস ইত্যাদি ছানি রোগের কারণ। 

প্রতিরোধে করণীয়
বয়সজনিত পরিবর্তনের কারণে চোখে ছানি হয় বলে এটি প্রতিরোধে তেমন কিছু করার নেই। তবে নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, চোখের প্রদাহের দ্রুত চিকিৎসা, অনিয়ন্ত্রিত হরমোনজাতীয় ওষুধ ও ধূমপান বর্জনের মাধ্যমে ছানি রোগের আশঙ্কা কমিয়ে আনা যায়। 
চিকিৎসা 
ছানি পড়লে একমাত্র চিকিৎসা হচ্ছে অস্ত্রোপচার। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অস্বচ্ছ লেন্সের বদলে কৃত্রিম লেন্স বসিয়ে দেওয়া হয়। সময়মতো অস্ত্রোপচার না করলে অন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আশার কথা, ছানি পড়া ছাড়া চোখের রেটিনা ও ভিট্রিয়াসে যদি আর কোনো সমস্যা না থাকে, তাহলে অপারেশনের মাধ্যমে আবার আগের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা অনেকাংশেই সম্ভব।

ছানি দূর করার সহজ উপায়
আপনার চোখের সার্বিক সুস্থ থাকা কিছু পুষ্টির ওপর নির্ভর করে। ভিটামিন এ, সি, ফ্ল্যাভোনয়েড, ক্যারটিনয়েড, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এগুলো আপনার চোখের দৃষ্টি সাবলীল রাখতে সাহায্য করবে। খাদ্যাভ্যাসে কিছু পুষ্টিকর খাবার রাখলে তা দীর্ঘ সময়ের জন্য আপনার চোখের বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারবে।
নিয়মিত রসুন, কাঁচা সবজির সালাদ, যেকোনো সবুজ শাক, বিশেষ করে পালং ও কচুশাক, দুধ, কাজুবাদাম, গ্রিন টি, গমের কচি চারা, জাম বা বেরিজাতীয় ফল, পেঁপে এবং ভিটামিন সি-জাতীয় ফলমূল খেতে হবে। তাতে চোখ সুস্থ থাকবে। ছানি পড়ার আশঙ্কা কমে যাবে।

লেখক: সাবেক ফ্যাকাল্টি মেম্বার ও প্রশিক্ষক, চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    ডাবের পানির উপকারিতা ও অপকারিতা

    দাঁত রক্ষায় রুট ক্যানেল

    শেরপুরে স্বেচ্ছাসেবক দলের মশাল মিছিলে পুলিশের বাধা

    ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে কলেজছাত্র নিহত

    উড়োজাহাজের ধাক্কায় কক্সবাজারে ২ গরুর মৃত্যু, রক্ষা পেলেন ৯৪ জন যাত্রী

    পটুয়াখালীতে ইউনিয়ন আ. লীগের কমিটি নিয়ে উত্তাপ, কাল অর্ধদিবস হরতাল

    তথ্যমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে অপপ্রচার: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা

    পরের ব্যালন ডি’অর বেনজেমার হাতে দেখছেন রিয়াল কোচ