Alexa
বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২

সেকশন

epaper
 

আয়কর রিটার্ন যাদের দিতেই হবে

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২১, ১৭:১৩

আয়কর রিটার্ন যাদের দিতেই হবে আয়কর কর্তৃপক্ষের কাছে করদাতার বার্ষিক আয়, ব্যয় ও সম্পদের তথ্য নির্ধারিত ফরমে উপস্থাপনের মাধ্যম হচ্ছে আয়কর রিটার্ন। আয়কর আইন অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্ধারিত ফরমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হয়।

কারা আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন: 
ক. যাঁদের করযোগ্য আয় রয়েছে: কোনো ব্যক্তি-করদাতার আয় যদি বছরে ৩ লাখ টাকার বেশি হয় তবে তাঁকে আয়কর রিটার্ন জমা দিতে হবে। তবে নারী ও ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের করদাতার আয় যদি বছরে সাড়ে ৩ লাখ টাকার বেশি হয় এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা করদাতার আয় যদি বছরে ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকার বেশি হয় তাহলে তাঁদের আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। 

খ. যাঁদের অবশ্যই রিটার্ন দাখিল করতে হবে: 
১. যাঁর ১২ ডিজিটের টিআইএন আছে; 
২. করদাতার মোট আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে; 
৩. আয় বছরের পূর্ববর্তী তিন বছরের যেকোনো বছর করদাতার কর নির্ধারণ হয়ে থাকলে; 
৪. করদাতা যদি কোনো কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার পরিচালক বা শেয়ারহোল্ডারের এমপ্লয়ি বা কর্মচারী হন; 
৫. করদাতা যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের অংশীদার হন; 
৬. করদাতা যদি সরকার অথবা সরকারের কোনো কর্তৃপক্ষ, করপোরেশন, সত্তা বা ইউনিটে বা প্রচলিত কোনো আইন, আদেশ বা দলিলের মাধ্যমে গঠিত কোনো কর্তৃপক্ষ, করপোরেশন, সত্তা বা ইউনিটের কর্মচারী হয়ে আয় বছরের যেকোনো সময় ১৬ হাজার টাকা বা এর বেশি মূল বেতন পান; 
৭. করদাতা যদি কোনো ব্যবসা বা পেশায় নির্বাহী বা ব্যবস্থাপনা পদে বেতনভোগী কর্মী হন; 
৮. করদাতার আয়কর অব্যাহতি পাওয়া বা হ্রাসকৃত হারে করযোগ্য হলে; 
৯. করদাতা যদি মোটর গাড়ির মালিক হন (মোটর গাড়ি বলতে জিপ বা মাইক্রোবাসকেও বোঝাবে) ; 
১০. করদাতা যদি কোনো সিটি করপোরেশন, পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ হতে ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করে কোনো ব্যবসা বা পেশা পরিচালনা করেন; 
১১. করদাতার যদি মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইনের অধীন নিবন্ধিত কোনো ক্লাবের সদস্যপদ থাকে; 
১২. করদাতা যদি চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট, প্রকৌশলী, স্থপতি অথবা সার্ভেয়ার হিসেবে বা সমজাতীয় পেশাজীবী হিসেবে কোনো স্বীকৃত পেশাজীবী সংস্থায় নিবন্ধিত হন; 
১৩. করদাতা যদি আয়কর পেশাজীবী হিসেবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিবন্ধিত হন; 
১৪. করদাতা যদি কোনো বণিক বা শিল্পবিষয়ক চেম্বার বা ব্যবসায়িক সংঘ বা সংস্থার সদস্য হন; 
১৫. করদাতা যদি কোনো পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের কোনো পদে বা সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হন; 
১৬. করদাতা যদি কোনো সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা কোনো স্থানীয় সরকারের কোনো টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেন; 
১৭. করদাতা যদি কোনো কোম্পানির বা কোনো গ্রুপ অব কোম্পানিজের পরিচালনা পর্ষদে থাকেন; 
১৮. করদাতা যদি মোটরযান, স্পেস বা স্থান, বাসস্থান অথবা অন্যান্য সম্পদ সরবরাহের মাধ্যমে শেয়ারড ইকোনমিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন; এবং
 ১৯. করদাতা যদি লাইসেন্সধারী অস্ত্রের মালিক হন। 

তবে বাংলাদেশে স্থায়ী ভিত্তি নেই—এমন অনাবাসী এবং যাঁরা কেবল জমি বিক্রি করতে বা ক্রেডিট কার্ড নিতে ১২ ডিজিটের টিআইএন নিয়েছেন, কিন্তু করযোগ্য আয় নেই, তাঁদের রিটার্ন দিতে হবে না। 

কখন দেবেন আয়কর রিটার্ন? 
ব্যক্তি করদাতাকে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত কর দিবসের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে। ৩০ নভেম্বর ২০২১ তারিখ হচ্ছে ২০২১-২২ করবছরের জন্য কর দিবস। অর্থাৎ, রিটার্ন দাখিলের সর্বশেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর। একজন ব্যক্তি করদাতা ১ জুলাই ২০২০ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২১ তারিখের মধ্যে ২০২১-২২ করবছরের রিটার্ন দাখিল করবেন। 

কোথায় দেবেন আয়কর? 
প্রত্যেক শ্রেণির করদাতার রিটার্ন দাখিলের জন্য আয়কর সার্কেল নির্দিষ্ট করা আছে। দেশব্যাপী ৩১টি কর অঞ্চলের ৬৪৯টি সার্কেলে অফিস চলাকালীন নিরবচ্ছিন্নভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যায়। করদাতাদের তাৎক্ষণিক প্রাপ্তি স্বীকারপত্রও দেওয়া হয়। 

পুরোনো করদাতারা তাঁদের বর্তমান সার্কেলে রিটার্ন জমা দেবেন। নতুন করদাতারা তাঁদের নাম, চাকরিস্থল বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানার ভিত্তিতে নির্ধারিত সার্কেলে ১২ ডিজিট টিআইএন উল্লেখ করে আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন। করদাতারা প্রয়োজনে নিকটস্থ আয়কর অফিস বা কর পরামর্শ কেন্দ্র থেকে আয়কর রিটার্ন দাখিল-সংক্রান্ত তথ্য জেনে নিতে পারেন। 

কীভাবে দেবেন আয়কর? 
একেক শ্রেণির করদাতার জন্য নির্ধারিত ভিন্ন ভিন্ন রিটার্ন ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে এবং যাবতীয় ও প্রয়োজনীয় সব প্রমাণপত্রসহ কর সার্কেল অফিসে ব্যক্তি নিজেই আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। তবে বিজ্ঞ আইনজীবী বা আয়কর প্র্যাকটিশনারের সাহায্যে নির্ভুলভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যায়। 

আয়কর রিটার্ন না দিলে কী হয়? 
কোনো করদাতা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন দাখিলে ব্যর্থ হলে তাঁর ওপর আয়কর অধ্যাদেশের ১২৪ ধারা অনুযায়ী জরিমানা, ৭৩ ধারা অনুযায়ী ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত সরল সুদ এবং ৭৩এ ধারা অনুযায়ী বিলম্ব সুদ আরোপ হবে। 

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল সম্ভব না হলে করদাতা রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য নির্ধারিত ফরমে উপযুক্ত কারণ উল্লেখপূর্বক উপ-কর কমিশনারের কাছে সময়ের আবেদন করতে পারেন। সময় মঞ্জুর হলে বর্ধিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করা যাবে। এ ক্ষেত্রে করদাতার ওপর জরিমানা আরোপিত হবে না, তবে অতিরিক্ত সরল সুদ ও বিলম্ব সুদ আরোপিত হবে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করা করদাতার জন্য সুবিধাজনক। 

লেখক: কর আইনজীবী

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

     
     

    বাজেটের ৬ চ্যালেঞ্জ

    রেমিট্যান্সে নগদ প্রণোদনা ২.৫ শতাংশে বহাল রাখার প্রস্তাব

    দাম কমতে পারে যেসব পণ্যের

    সর্বাধিক বরাদ্দ পাওয়া ১০ মেগা প্রকল্প

    বাজেট অধিবেশন চলবে ৪ জুলাই পর্যন্ত

    দাম বাড়তে পারে যেসব পণ্যের

    বিএম ডিপো থেকে পণ্যভর্তি অক্ষত কনটেইনার সরানো শুরু

    পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল চালু হচ্ছে এ মাসেই

    কিশোরী নেতৃত্ব এবং কর্মশালাবিষয়ক সেমিনার

    পুলিশের গুলিতে নিহত জেল্যান্ড ওয়াকারের মরদেহে পরানো হয়েছিল হাতকড়া

    পাবনায় স্বামীর বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ

    সিলেটে ব্লগার অনন্ত হত্যা: বেঙ্গালুরুতে গ্রেপ্তার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ফয়সাল