Alexa
মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট ২০২২

সেকশন

epaper
 

স্বপ্নে যাওয়া হবে কবে

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২১, ১৭:১৩

স্বপ্নে চেনা-অচেনা এক ধূম্রজালে প্রবেশ করে মানুষ। ছবি: এক্সপ্লোরিং ট্র্যাডিশন ‘তবু এই পৃথিবীর সব আলো একদিন নিভে গেলে পরে,/পৃথিবীর সব গল্প একদিন ফুরাবে যখন,/মানুষ র’বে না আর, র’বে শুধু মানুষের স্বপ্ন তখনঃ/সেই মুখ আর আমি র’বো স্বপ্নের ভিতরে’—জেগে থাকার স্বপ্ন নাকি ঘুমিয়ে দেখার স্বপ্ন? জীবনানন্দ দাশের কবিতার সেই স্বপ্ন আজও ভাবিয়ে তোলে কবিতাপ্রেমীদের। যে স্বপ্নের জন্য আমরা বেঁচে থাকি, সেই স্বপ্নের পথে হাঁটতে গিয়ে ঘুমিয়ে দেখি স্বপ্নের ভাঙন কিংবা গড়ন। তবে বিজ্ঞানীদের আগ্রহ বাস্তব স্বপ্নের দিকে নয়, ঘুমিয়ে দেখা স্বপ্নে।

সহস্র আলোকবর্ষ দূরের তারাদের গায়ে কী রয়েছে? এ প্রশ্নের উত্তর এখন হাতের মোয়া। মহাকাশের সীমাহীন পথ এখন চোখের সামনে। কিন্তু হাতের কাছেই থাকা সবচেয়ে বিচিত্র রহস্যের কিনারা করতে পারছেন না বিজ্ঞানীরা। সে রহস্যের নাম ‘স্বপ্ন’। হ্যাঁ, হররোজ ঘুমিয়ে দেখা আমাদের স্বপ্ন। 

বহু বছর ধরেই স্বপ্ন নিয়ে দ্বন্দ্বে দ্বন্দ্বে কাটিয়েছে মানুষ। ধর্মীয় ব্যাখ্যার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ নিয়ে ভেবেছেন কত জ্ঞানীরা। অ্যারিস্টটল থেকে শুরু করে হালের সিগমুন্ড ফ্রয়েড। কিন্তু মানুষের স্বপ্নে প্রবেশ করা কি সম্ভব হয়েছে?

না, এতকাল পেরিয়ে গেলেও স্বপ্নে প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। তবে বিবিসির সায়েন্স ফোকাস সাময়িকীর এক প্রতিবেদন বলছে, আধুনিক গবেষণা সেই পথেই হাঁটছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে ‘লুসিড ড্রিমিং’। স্বপ্নে প্রবেশের আগে প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক টার্মটা আসলে কী।

কখনো স্বপ্নে একটা ব্যাপার খেয়াল করে দেখেছেন? স্বপ্নে কোনো কাজ করার সময় হঠাৎ মনে হলো, আরে আমি তো স্বপ্ন দেখছি! সেই ভাবনা নিয়েই স্বপ্নে এগিয়ে গেলেন। যাঁরা নির্মাতা ক্রিস্টোফার নোলানের ‘ইনসেপশন’ (২০১০) সিনেমা দেখেছেন তাঁরা ব্যাপারটা সহজে ধরতে পারবেন। একেই বৈজ্ঞানিক ভাষায় বলা হচ্ছে লুসিড ড্রিমিং বা বাংলায় ‘স্বচ্ছ স্বপ্ন’।

আমাদের মধ্যে অর্ধেকের জীবনের কোনো না কোনো সময় এ অভিজ্ঞতা হয়। এঁদের মধ্যে ২০ শতাংশ এমন স্বপ্ন দেখেন মাসে একবার।

স্বপ্নে প্রবেশের পথে এই দরজাটাকেই বেছে নিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কেন প্যালার এবং কারেন কোনকোলির নেতৃত্বে ইতিমধ্যেই পরীক্ষা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের একদল বিজ্ঞানী। লুসিড ড্রিমিংকে যখন দরজা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে, তখন সোপান বা সিঁড়ি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে ‘র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট (রেভ)’-কে। স্বপ্ন দেখার সময় আমাদের চোখের গোল অংশটা একটু নড়াচড়া করে। একেই বলা হচ্ছে র‍্যাপিড আই মুভমেন্ট (রেভ)।

নিয়মিত স্বচ্ছ স্বপ্ন দেখেন এমন কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। ঘুমন্ত অবস্থায় তাঁদের সঙ্গে বিশেষ পদ্ধতিতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে সফলও হয়েছেন তাঁরা। গণিত নিয়ে সহজ প্রশ্ন করার পর উত্তরও পাওয়া যায়। প্রশ্ন করা হয়েছিল, ‘৮ থেকে ৬ বাদ দিলে কত হয়’। উত্তর আসে ‘২’। তবে সেটি মুখে নয়, চোখের র‍্যাপিড আই মুভমেন্টে। ঘুমের আগেই এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

ছোট্ট এ সফলতা এখন হয়তো বড় কিছু নয়। কিন্তু এমন দিন বেশি দূরে নয়, যখন স্বপ্নে থাকা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে। আর মানসিক রোগের চিকিৎসা পাবে নতুন দিগন্ত।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

     
     

    ৪ হাজার বছর আগেও ছিল টাইফয়েড ও প্লেগ, মিলল জিনগত প্রমাণ

    মৃত্যুর পর কী হয় কোষের, আশা দেখাচ্ছে গবেষণা

    নিয়ান্ডারথালদের থেকে মস্তিষ্ক বিকশিত হতে বেশি সময় নেয় আধুনিক মানুষ

    মঙ্গলে হেলিকপ্টার পাঠানোর নতুন পরিকল্পনা করছে নাসা

    আসছে পাইলটের ‘মন পড়তে পারা’ যুদ্ধবিমান

    চীনে পাওয়া গেল ১০ কোটি বছরের পুরোনো ডাইনোসরের পায়ের ছাপ

    রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনার উপায় খুঁজতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

    পরমাণু যুদ্ধ হলে দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হবে বিশ্বের ৫০০ কোটি মানুষ 

    ৪০ এসপিকে নির্দেশনা: পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হবে, এটা ভেবেই মাঠে নামতে হবে

    রোনালদো চলে গেলে ম্যান ইউনাইটেডে গোল করার কেউ থাকবে না

    সাংবাদিকদের ওপর হামলা: ডা. উসমানীর জামিন আবেদন খারিজ

    চকবাজারের আগুন: প্রবাস নয়, স্বপন গেলেন পরলোকে