নার্স তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন।

কিশোরগঞ্জের নার্স তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সকল আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ওজিএসবি হাসপাতালের সকল নার্স ও কর্মচারিবৃন্দ।

১৫ মে মঙ্গলবার সকালে ঢাকার মিরপুর ১ সনি সিনেমা হলের সামনে গোলচত্তরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ওজিএসবি হাসপাতালের চেয়ারম্যান জাতীয় অধ্যাপক শাহলা খাতুন, ওজিএসবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসার সালেহা বেগম চৌধুরী ও ট্রেজেরার প্রফেসার রাশেদা বেগম।

নার্স তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন।

এছাড়াও ওজিএসবি হাসপাতাল (মিরপুর ১ ও ১৩) এর সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন মানববন্ধনে।

নার্স তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন।

এ সময় বক্তারা ধর্ষণমুক্ত বাংলাদেশ চাই দাবি করে বলেন, শুধু নার্স তানিয়া নয়, সারাদেশে সকল নারী নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। অন্যথায় তারা কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন।

নার্স তানিয়া ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন।

প্রসঙ্গত, ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্স তানিয়া গত ৬ মে বিকেলে নিজ বাড়িতে আসার জন্য ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে স্বর্ণলতা পরিবহনের একটি বাসে করে রওনা হন। বাসটি কিশোরগঞ্জ-ভৈরব সড়কের বাজিতপুর উপজেলার পিরিজপুর ইউনিয়নের বিলপাড় গজারিয়া জামতলী নামক স্থানে পৌঁছার পর বাসের চালক ও সহকারীসহ অন্যরা শাহীনূরকে ধর্ষণ করে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেন। ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের ওই এলাকা থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধারের পর রাত পৌনে ১১টার দিকে তানিয়াকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

পরের দিন বিকেলে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে নার্স শাহীনূর আক্তার তানিয়ার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত শেষে জেলার সিভিল সার্জন ডা. হাবীবুর রহমান জানান, নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে, ধস্তাধস্তির কারণেই এই জখম হয়েছে। তা ছাড়া নিহতের যৌনাঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণের আলামত ও আঠাল পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যায়, ভিকটিমকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে।

ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে তানিয়ার বাবা গিয়াস উদ্দিন বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে বাজিতপুর থানায় একটি মামলা করেন।

আজকের পত্রিকা/এমএআরএস