Alexa
বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১

সেকশন

 

জন্মনিবন্ধনে ভুলে ভোগান্তি

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৮:৫৩

মুলাদীতে জন্মনিবন্ধন নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। নিবন্ধনে নাম, পিতা মাতার নাম, জন্ম তারিখের গরমিলসহ নানান জটিলতায় ঝামেলায় পড়ছেন তারা। আবার জন্মনিবন্ধনের ভুল সংশোধনেও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ আছে।

জানা গেছে, জন্ম নিবন্ধনের সময় অনেক অভিভাবক এক নাম দিয়েছেন। আবার বিদ্যালয়ে ভর্তির সময়ে আরেক নাম ব্যবহার করেছেন। জন্ম তারিখেও গরমিল রয়ে গেছে। গ্রামাঞ্চলের অসচেতন অভিভাবকদের ক্ষেত্রে ভুল বেশি। এ ছাড়া জন্ম নিবন্ধক কার্যালয় থেকে অনলাইনে ভুল নিবন্ধন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

চরকালেখান আদর্শ কলেজের আইসিটি প্রভাষক আনিচুর রহমান জানান, চলতি বছর শিক্ষার্থীদের ইউনিক আইডি প্রদানের জন্য তথ্য সংগ্রহের নির্দেশনা দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। সেখানে শিক্ষার্থীর ১৭ সংখ্যার জন্ম নিবন্ধন, মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র, রক্তের গ্রুপসহ বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীদের সেভাবেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বেশ কিছু শিক্ষার্থীর মা-বাবার নাম কিংবা জন্ম তারিখে গরমিল রয়েছে। তাদের সংশোধন করতে বলা হয়েছে।

নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইতিমধ্যে জেএসসি এবং একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জেএসসি ও এসএসসি পাসের সনদ হয়ে গেছে। সেখানে মা-বাবার নাম ও জন্ম তারিখ দেওয়া হয়েছে। ইউনিক আইডির জন্য শিক্ষার্থীদের জন্ম নিবন্ধন সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর নাম, মা-বাবার নাম ও জন্ম তারিখে অমিল পেয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছে।

চরকালেখান আদর্শ কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিয়া জানান, জন্ম নিবন্ধনের কাগজ হারিয়ে গেছে। ইউনিয়ন পরিষদে কয়েকবার গিয়েও জন্ম নিবন্ধন করাতে পারিনি। এখন ইউনিক আইডির জন্য জন্ম নিবন্ধনের কাগজ কীভাবে জমা দেব বুঝতে পারছি না।

একই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সোনিয়া আক্তার জানায়, জেএসসি ও এসএসসি সনদে মা-বাবার নাম দেওয়া আছে। হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধনের কাগজেও ঠিক আছে। কিন্তু অনলাইন জন্ম নিবন্ধনে পিতার নাম ভুল এসেছে। সংশোধনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গেলে আবেদন করে দেয় তারা। সে কাগজ নিয়ে আবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে গিয়ে অনুমোদন করাতে হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমোদন হওয়ার পরে পুনরায় পরিষদ থেকে জন্ম নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করতে হয়েছে।

গাছুয়া আব্দুল কাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লামিয়া আক্তার জানায়, জন্ম নিবন্ধনের সময় জেএসসির সনদ দেওয়া হয়েছিল। এর পরেও ইউনিয়ন পরিষদ পিতা ও মাতার নামে ভুল করেছে। তাই পুনরায় আবেদন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে দিয়ে অনুমোদন করা হয়েছে। এ জন্য ১০/১২ দিন সময় লেগেছে। দুই বার ইউনিয়ন পরিষদে ও একবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যেতে হয়েছে।

চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা (কম্পিউটার অপারেটর) তাপস বলেন, অভিভাবকদের তথ্য এবং টিকা কার্ড দেখে জন্ম নিবন্ধন করা হয়। অনেকে বিদ্যালয়ে ভর্তির সময় তথ্য পরিবর্তন করে থাকেন। ফলে তথ্যে ভিন্নতা দেখা দেয়। জন্ম নিবন্ধন সার্ভারে সমস্যা এবং সব সময় বিদ্যুৎ না থাকায় জন্ম নিবন্ধন সংশোধনে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

চরকালেখান ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম সরদার জানান, একজন ব্যক্তি ইউনিয়ন পরিষদের সব জন্ম নিবন্ধনের কাজসহ বিভিন্ন কাজ করে থাকেন। সেখানে ২-১টি ভুল হতে পারে। কিন্তু কাউকে ভোগান্তিতে পরতে হয় না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ হোসাইনী জানান, জন্ম তথ্য সংশোধনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ হিসেবে অনুমোদনের দায়িত্ব তাঁর। ভোগান্তি কমাতে অনলাইনের আবেদন এবং কাগজ পেলে দ্রুত অনুমোদন করে দেওয়া হয়।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    পঠিতআলোচিতসর্বশেষ

    এলাকার খবর

    যেখানে সবার ওপরে বার্সেলোনা

    টেকনাফে ইয়াবা জব্দ, রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার

    তরুণীর মুখে বিষ গেল কীভাবে?

    প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দুটি বাল্যবিবাহ বন্ধ

    যেখানে সবার ওপরে বার্সেলোনা

    এখনই জাতিসংঘে দেখা যাবে না তালেবান-মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের

    জাককানইবি এলাকায় লাগামহীন ভাড়ায় ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

    আমিনবাজারে ছয় শিক্ষার্থীকে হত্যা মামলায় ১৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৯ জনের যাবজ্জীবন

    আলীকদমে নির্বাচনী সহিংসতা মামলায় ১৫ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

    আলেশা মার্টের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা