Alexa
বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১

সেকশন

 

গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানালেন সেই ইকবালের মা

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২১, ১১:৪৭

ফাইল ছবি কুমিল্লার পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন রাখার ঘটনায় পুলিশের শনাক্ত করা সেই ইকবাল হোসেনকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন তাঁর মা। তবে তাঁর মায়ের ধারণা, নেশাগ্রস্ত ও মানসিক ভারসাম্যহীন ইকবালকে কেউ ব্যবহারও করতে পারে। ইকবালকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদেই সব জানা যাবে বলে দাবি করেছেন তাঁর মা। 

গতকাল বুধবার রাতে এসব কথা আজকের পত্রিকার কুমিল্লা প্রতিনিধিকে জানান অভিযুক্ত ইকবালের মা আমেন খাতুন। 

আমেনা খাতুন বলেন, `ইকবাল একসময় নেশা করত। বন্ধুদের সঙ্গে মারামারির পর সে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এ কারণে ইকবালের প্রথম স্ত্রী চলে যায়। পরে আবারও ইকবালকে বিয়ে দেওয়া হয়। দুই সংসারে তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সে বিভিন্ন সময় আমাকে ও তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের মারধর করত।' 

আমেনা খাতুন বলেন, `পূজামণ্ডপের ঘটনার পরপরই ইকবালের সঙ্গে আর দেখা হয়নি। সে যদি এ কাজ করে থাকে, আমরা তাকে ধরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করব। এর বিচার আমরাও চাই। তবে ইকবাল নেশাগ্রস্ত ও ভারসাম্যহীন হওয়ায় তাকে কেউ ব্যবহারও করে থাকতে পারে। তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করলে বিস্তারিত জানা যাবে।' 

ইকবালের বড় বোন ফারজানা আক্তার বলেন, `আমরাও চাই সে দ্রুত গ্রেপ্তার হোক। সে গ্রেপ্তার হলে আমাদের চাপ কিছুটা কমবে।' 

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, `সিসিটিভি ফুটেজ দেখে শনাক্ত ব্যক্তিকে সহসাই আমরা গ্রেপ্তার করব। তা ছাড়া আমাদের কাছে আরও অনেক ফুটেজ আছে, যা আমাদের তদন্তে আরও সহায়ক হবে এবং অপরাধীদের শনাক্তের কাজে আসবে। এ বিষয়ে পরে আমরা বিস্তারিত জানাব।' 

শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমীর দিন গত ১৩ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লা শহরের নানুয়াদীঘির উত্তর পাড়ে দর্পণ সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত অস্থায়ী পূজামণ্ডপে পবিত্র কোরআন দেখা যায়। এরপর কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগ তুলে ওই মণ্ডপে হামলা চালায় একদল লোক। সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতায় জেলার কোতোয়ালি, সদর দক্ষিণ, দাউদকান্দি থানায় এ পর্যন্ত আটটি মামলা হয়েছে। মামলায় ৭৯২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এসব মামলায় ৯২ জনের নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

জেলা পুলিশের সংগ্রহ করা রাতের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নগরীর নানুয়াদীঘির পূজামণ্ডপ এলাকায় এক যুবক গদা হাতে ঘোরাঘুরি করছেন। আরেক ফুটেজে দেখা যায়, নানুয়াদীঘি সংলগ্ন দারোগাবাড়ির শাহ আব্দুল্লাহ গাজীপুরির মাজার থেকে এক যুবক পবিত্র কোরআন শরীফ হাতে বের হচ্ছেন। এসব ফুটেজ দেখে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। পরে ইকবালের ছোট ভাইকে পুলিশের সংগ্রহ করা সিসি টিভি ফুটেজ দেখালে ফুটেজের ওই ব্যক্তি তার ভাই বলে নিশ্চিত করে সে। শনাক্তকারী ব্যক্তি নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের তেলিকোনা শাহপাড়া এলাকার নূর আহমেদ আলমের বড় ছেলে ইকবাল হোসেন। সে পেশায় একজন রংমিস্ত্রি বলে জানা যায়। ইকবালের পরিবার সাহাপাড়ার রবীন্দ্র চন্দ্র সূত্রধরের নবলক্ষ্মী কুটিরের তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকত।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    কুয়েট শিক্ষক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে রাবি শিক্ষকদের মানববন্ধন

    চবিতে ইমামকে গণপিটুনির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

    ভাঙ্গুড়ায় রোকেয়া দিবসে চার জয়িতাকে সংবর্ধনা

    ঘুমন্ত অবস্থায় এসআইয়ের ‘বিশেষ অঙ্গ’ কেটে দিলেন স্ত্রী

    ডিএনসিসিতে ৮ লাখের বেশি শিশুকে খাওয়ানো হবে ভিটামিন ‘এ’

    শনিবার শিক্ষার্থীদের সংহতি সমাবেশ

    কুয়েট শিক্ষক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে রাবি শিক্ষকদের মানববন্ধন

    চবিতে ইমামকে গণপিটুনির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

    ডাকাতির পর রাতভর ২ নারীকে ধর্ষণ, ৫ আসামির দুবার যাবজ্জীবন

    ভাঙ্গুড়ায় রোকেয়া দিবসে চার জয়িতাকে সংবর্ধনা