Alexa
বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১

সেকশন

 

জাতীয়করণের অপেক্ষা ফুরাচ্ছে না ১১ স্কুলের

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২১, ১০:৫৯

বান্দরবান সদরের কেংছড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি: আজকের পত্রিকা বান্দরবানের ১১টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৪ জন শিক্ষক এক যুগের বেশি সময় ধরে বিনা বেতনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে যাচ্ছেন। বিদ্যালয় জাতীয়করণ হবে, সে আশায় তাঁরা বিনা বেতনে এই শ্রম ও সময় দিচ্ছেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করার পরও বিদ্যালয় জাতীয়করণ না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আদৌ জাতীয়করণ হবে কি না সে বিষয়েও তাঁরা অনিশ্চয়তায়। বেতন না পেয়ে অনেকে অর্ধাহার-অনাহারে দিন যাপন করছেন। বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বান্দরবান জেলায় যে ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখনো জাতীয়করণ হয়নি, সেগুলোর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫টি, লামায় ৪টি এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় ২টি স্কুল রয়েছে।

সরকারিভাবে এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিনা মূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার সনদ ছাড়া আর কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে না।

বিদ্যালয়গুলো হলো, বান্দরবান সদর উপজেলার-খমঙখ্যাংওয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এম্পুপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মশাবনিয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হেব্রনপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রেনিপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। লামা উপজেলায়, নুনারবিল বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মিরিঞ্জা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধুইল্যাপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (সরই) এবং কমিউনিটি সেন্টার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার শৈল শক্তি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ক্যকরোপ জুমখোলা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

প্রত্যেকে বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক ও তিনজন সহকারী শিক্ষকসহ ৪৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে এক হাজার ১৯৩ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।

এর মধ্যে শুধু সদর উপজেলার সদর ইউনিয়নের হেব্রনপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা খ্রিষ্টান মিশনারির মাধ্যমে কিছু বেতন পেয়ে থাকেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়কমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বান্দরবানের ১১টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের জন্য ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বরাবর ডিও (চাহিদাপত্র) দিয়েছিলেন। পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা ১১টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণের জন্য ২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর চিঠি দেন। কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি।

সদর উপজেলার হেব্রনপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লালরাম নোয়াম বম বলেন, ২০০৭ সালে তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। জেলার অনেক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হলেও তাঁরটিসহ জেলার মোট ১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারি করা হয়নি। সামনের দিনগুলো নিয়ে তাঁরা অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নের ধুইল্যাপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, ২০১১ সাল থেকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বেতন-সম্মানী পাননি। স্কুলটি সরকারি না হলে তিনি পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়বেন।

এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, বিদ্যালয়গুলো সম্পর্কে নথিপত্র দেখে বিস্তারিত বলতে পারবেন।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    জাল সনদে ১০ বছর ধরে শিক্ষকতার অভিযোগ

    বৃষ্টিতে সরিষার ক্ষতির শঙ্কা

    রোল নম্বর লেখার পর পরীক্ষা স্থগিত

    সুন্দরগঞ্জে সাবেক ইউপি সদস্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    মুরাদকে যারা সহযোগিতা করেছে তাদেরও বিচার চাইলেন নজরুল ইসলাম খান

    মিরপুরে ই-কারখানার যাত্রা শুরু

    মুরাদ হাসানের পদত্যাগ যথেষ্ট নয়: মঈন খান

    ভারতে ফের আফস্পা বাতিলের দাবি

    দুদকের মামলায় মানিকগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা মট্টুসহ দুজন গ্রেপ্তার