Alexa
বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২১

সেকশন

 

২০০ খালের মরণদশা

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২১, ১০:২৯

‘খাল দখল দেশের একটা চিরাচরিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার গ্রাম-গঞ্জ থেকে শুরু করে পৌর শহরের আনুমানিক দুই শ ছোট-বড় খাল অস্তিত্ব সংকটে আছে । খালগুলোতে এক সময় চলাচল করত টাবুরে নাও, ইঞ্জিনচালিত ট্রলার ও মালবাহী ছোট নৌকা। প্রকৃতির নিয়মে নদীর জোয়ার ভাটা প্রবাহিত হতো খালগুলোতে। জেলেরা মাছ ধরত খালগুলোতে, যোগাযোগের মাধ্যম ছিল খালগুলো।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত দশ-পনেরো বছরের মধ্যে অবৈধ খাল দখল আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় ৮২টি মৌজার আনুমানিক ৪১০টি খালের অর্ধেকেরও বেশি উধাও হয়ে গেছে। এখন সরেজমিনে দখলকৃত ওই সব খালের অনেকগুলোর সন্ধান মেলা দুষ্কর। অবৈধ খাল দখলের ফলে বর্ষা মৌসুমে এলাকায় দেখা যাচ্ছে জলাবদ্ধতা। শুষ্ক মৌসুমে এলাকায় মানুষকে গোসল ও ব্যবহারের পানির অভাবে হাহাকার করতে হয়। এতে এক দিকে যেমনি নষ্ট হচ্ছে গ্রাম বাংলার পরিবেশ, তেমনি দেখা দিচ্ছে নানান সমস্যা।

গত কয়েক বছরে উপজেলার স্বরূপকাঠি পৌর এলাকারই ১০ টি খাল অন্ধত্ব সংকটে আছে। দখলের শিকার পৌরসভার খালগুলো হলো ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আশ্চর্য বাড়ির খাল, দক্ষিণ স্বরূপকাঠি খাল, উপজেলা সদর খাল, ফায়ার সার্ভিস খাল, পুরাতন তহশিল অফিস খাল, কামারকাঠি সীমানা খাল, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তাতেরবাড়ি সংলগ্ন খাল এবং মোদাচ্ছের বাড়ি সংলগ্ন খাল, সরদারবাড়ি খাল। এ খালগুলোর বিভিন্ন জায়গা বাঁশ দিয়ে দখল করে অনেকই বাড়িয়েছেন বসতবাড়ি পরিধি, কেউ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাড়িয়েছেন। এভাবে অবাধে খাল দখলে ওই সব এলাকায় বর্ষায় দেখা দেয় জলাবদ্ধতা। শুষ্ক মৌসুমে উল্টো থাকে পানি সংকট। তখন দুর্ভোগের সীমা থাকে না এলাকাবাসীর।

দখলবাজদের অধিকাংশই প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এলাকার সুধীজনদের অভিমত অচিরেই দখলবাজদের হাত থেকে খালগুলো উদ্ধার করে পুনঃখননের ব্যবস্থা না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনরে পর বিশে বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিতে পারে।

স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়ন তহশিলদার মো. আলতাফ হোসেন বলেন, ‘উপজেলার মোট ৮২টি মৌজায় আনুমানিক চারশত খাল রয়েছে। নদীর নাব্যত্য সংকটে অনেক খালে আগের মত জোয়ারভাটার পানি প্রবেশ করে না। অনেকেই খালের জায়গা দখল করে গাছপালা রোপনসহ বসতবাড়ির পরিধি বৃদ্ধি করছে। তবে অবৈধ খাল দখলের ব্যপারে খবর পেলেই আমরা ছুটে গিয়ে মাপজোপ করে খাল উদ্ধার করি।’

স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. মোস্তফা কামাল বলেন, আমাদের বাড়ির পাশের খালটির ওপর ৬০টি পরিবার নির্ভর করি। সেই খালটিও যে যার মত দখল করে সংকুচিত করে ফেলছে। কেউবা আবার সেই খালে নানান ময়লা আর্বজনা ফেলে পানি দূষিত করছে।

স্বরূপকাঠি পৌরসভায় এভাবে অবাধে খাল দখলের ব্যাপারে স্বরূপকাঠি পৌর মেয়র গোলাম কবরি বলেন, ‘খাল দখল আমাদের দেশের একটা চিরাচরিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। যে যেখান থেকে পারছেন খাল দখল করে চলছেন। আমি ইতিমধ্যে পৌরসভার মোট সাতটি খাল চিহ্নিত করে পুনঃখননের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। আশা রাখছি অচিরেই এ সমস্যার সমাধান হবে।’

নেছারাবাদ সহকারী কমিশনার(ভূমি) মো. বশির গাজী জানান, অবৈধ খাল দখলের ব্যাপারে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত আছে। তবে খাল উদ্ধার করতে গিয়ে সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের লোক থেকে নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হচ্ছি। এতে মাঝেমধ্যে উদ্ধার অভিযানে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    জাল সনদে ১০ বছর ধরে শিক্ষকতার অভিযোগ

    বৃষ্টিতে সরিষার ক্ষতির শঙ্কা

    রোল নম্বর লেখার পর পরীক্ষা স্থগিত

    সুন্দরগঞ্জে সাবেক ইউপি সদস্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

    মুরাদকে যারা সহযোগিতা করেছে তাদেরও বিচার চাইলেন নজরুল ইসলাম খান

    মিরপুরে ই-কারখানার যাত্রা শুরু

    মুরাদ হাসানের পদত্যাগ যথেষ্ট নয়: মঈন খান

    ভারতে ফের আফস্পা বাতিলের দাবি

    দুদকের মামলায় মানিকগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতা মট্টুসহ দুজন গ্রেপ্তার