Alexa
বৃহস্পতিবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২১

সেকশন

 

চরমোনাই পীরের দুর্গ ভাঙতে আ.লীগ-বিএনপি এককাট্টা

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২১, ০৯:০০

জাতীয় রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ-বিএনপির সম্পর্ক সাপে-নেউলে হলেও একটি জায়গায় এসে এক হয়ে গেছে দুই দল। বরিশালে চরমোনাই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) আসন্ন নির্বাচনে পীরের আধিপত্য ঠেকাতে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি। সেই অনুযায়ী তৎপরতাও চালাচ্ছেন দলটির ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।  

কীর্তনখোলা নদীর পূর্ব তীরে চরমোনাই ইউনিয়ন। বরিশাল সদর উপজেলার আওতাধীন ইউনিয়নটি চরমোনাই পীর তথা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। ১৯ বছর ধরে এ ইউনিয়ন পরিষদের কর্তৃত্ব ধরে রেখেছে দলটি। এ নিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে অসন্তোষ দীর্ঘদিন ধরে। যে কারণে আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী না দিলেও চরমোনাই পীরের কর্তৃত্ব ঠেকাতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাতের ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় বিএনপি।

খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় সম্প্রতি চরমোনাইর রাজারচর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠানে চরমোনাই ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে থাকার জন্য নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন। চরমোনাই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম রাঢ়ী এ প্রসঙ্গে বলেন, চরমোনাই পীর-পরিবার বিএনপির চিরশত্রু। তাই জেলা বিএনপির নির্দেশে পীর-পরিবারের প্রার্থীকে পরাজিত করতে তাঁরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে থাকবেন।

ইউপি নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে আগামী ১১ নভেম্বর বরিশাল সদরের ৬টি ইউনিয়নে নির্বাচন হবে। গত রোববার মনোনয়নপত্র দাখিল সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে চরমোনাই ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে হাতপাখা প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীমের ছোট ভাই সৈয়দ জিয়াউল করীম। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের হয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন মাস্টার নুরুল ইসলাম। আর দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির হোসেন গিয়াস। এই নির্বাচনে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। তাঁরা আওয়ামী লীগকেই সমর্থন দিচ্ছে।

রাজনীতিতে দুই দলের বৈরী অবস্থানের মধ্যেও বিএনপি কেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছে—জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন সাংবাদিকদের বলেন, ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তখনকার প্রার্থী বিএনপির বর্তমান যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ারের ওপর হামলা করেছিল চরমোনাই পীর-পরিবার। ইউনিয়নটিতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা পীর-পরিবার দ্বারা নির্যাতিত। এ কারণে স্থানীয় বিএনপি এবারের নির্বাচনে নৌকার পক্ষে সমর্থন দেবে।

তবে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম শাহিন বলেন, দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠানে জেলা সভাপতি নির্বাচন ইস্যুতে যেভাবে কথা বলেছেন, তা তাঁর ব্যক্তিগত মত। জেলা বিএনপি আওয়ামী লীগ কিংবা চরমোনাই কাউকেই সমর্থন দেয়নি। 

কেননা, চরমোনাই আঞ্চলিকভাবে বিএনপিকে নির্যাতন করে। আবার আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্যাতন করে।

এ বিষয়ে কথা বলতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চেয়ারম্যান প্রার্থী সৈয়দ জিয়াউল করীমকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে তাঁর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রশাসনিক সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন টিটু বলেন, গত নির্বাচনে এই ইউনিয়নে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ মোট যে ভোট পেয়েছে, তার চেয়েও ১ হাজার ৩২০ ভোট বেশি পেয়েছেন হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আছে। তা ছাড়া এখানে বিএনপির ওপর ভর করে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হতে পারবে না।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে রিজভীর ‘শেষ কথা’ 

    স্বামী বদলানো যায় কিন্তু প্রতিবেশী না—ভারত সম্পর্কে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী    

    খালেদার চিকিৎসা নিয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে কোনো ইঙ্গিত আসেনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

    আলালকে ক্ষমা চাইতে বললেন কাদের 

    ভাঙ্গুড়ায় রোকেয়া দিবসে চার জয়িতাকে সংবর্ধনা

    ম্যানইউর জার্সিতে ইতিহাস গড়লেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত জিদান

    এই সরকার হটাতে আন্দোলনের প্রয়োজন হয় না: জিএম কাদের

    কড়াকড়িতেও ক্যাটরিনা-ভিকির বিয়ের ছবি ভাইরাল

    প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে রিজভীর ‘শেষ কথা’ 

    ওমিক্রন উদ্বেগজনক হলেও মোকাবিলা সম্ভব