Alexa
সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১

সেকশন

 

দুই শিশুসন্তান জানে না মা-বাবা বেঁচে নেই

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২১, ১০:৩১

শিশু অপূর্ব ও জ্যোতি। মামা আব্দুলা আল মামুনের ঘরে খেলায় ব্যস্ত। গত বুধবারের ছবি। আজকের পত্রিকা অবুঝ দুটি শিশু। একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। ছেলেটির বয়স সাত বছর আর মেয়েটির পাঁচ। মা-বাবার মৃতদেহ গত বুধবার রাতে দাফন করেছে পুলিশ। মা-বাবা যে আর কোনো দিন ফিরে আসবে না। তাদেরকে আর আদর কবে না। সে বিষয়টি এখনো বোঝে না কোমলমতি শিশু দুটি।

শোকে স্তব্ধ বাড়ি ভর্তি মানুষের মধ্যেও দিব্যি ছোটাছুটি করছে শিশু দুটি। খেলনা নিয়ে করছে খেলাধুলা। নেত্রকোনার মদন উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের বালালী গ্রামের সদ্য মা-বাবা হারায় শিশু অপূর্ব ও জ্যোতি আক্তার। এই শিশু দুটি বালালী গ্রামের নিহত নান্দু মীর ও হিমা আক্তার দম্পতির সন্তান। বর্তমানে শিশু সন্তান দুটি মামা আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে রয়েছে।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বসতঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় হিমা আক্তারের (৪৫) মৃতদেহ এবং একই ঘরের আঁড়ার সঙ্গে নান্দু মীরের (৫৫) ঝুলন্ত মৃতদেহ পুলিশ উদ্ধার করে। পরে লাশ দুটি নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে ওই দম্পতির লাশ গত বুধবার রাতে বালালী গ্রামের কবর স্থানে দাফন করা হয়। তবে এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।

শিশু দুটির মামা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ঘটনার দিন সকালে অবুঝ শিশু দুটি প্রথমে ঘরের দরজা খুলে দেয়।

এ সময় তার মা-বাবা কোথায় জিজ্ঞেস করলে তারা লোকজনকে জানায়, ‘তাদের মা শুয়ে আছে! আর বাবা দাঁড়িয়ে আছে! অথচ দুজনই তখন মৃত। ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশসহ এলাকার লোকজন এসে বাড়িতে ভিড় জমায়। এলাকা শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। গত বুধবার রাতে দুজনের লাশ দাফন করা হয়েছে।

কিন্তু এখন পর্যন্ত শিশু অপূর্ব ও জ্যোতি বুঝেইনি যে তাদের মা-বাবা মারা গেছেন। তারা বাড়িজুড়ে ছোটাছুটি করছে। ঘরে বসে খেলাধুলা করছে। এই অসহায় ও অবুঝ দুই শিশুকে লালন পালনের দায়িত্ব এখন থেকে আমিই পালন করব।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আলম বলেন, নান্দু মীর ও হিমা আক্তারের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে বালালী গ্রামের কবরস্থানে গত বুধবার রাতে দাফন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

নেত্রকোনা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আকবর আলী মুনসী জানান, আমি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্তের সুবিধার্থে পিবিআই ও সিআইডির দল ঘটনাস্থল ঘেরাও করে রেখে আলামত সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শাবল দিয়ে নান্দু মীর স্ত্রীকে হত্যা করে নিজে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নিয়েছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের আলমশ্রী গ্রামের মৃত শামছু মীরের ছেলে নান্দু মীরের সঙ্গে একই উপজেলার তিয়শ্রী ইউনিয়নের বালালী গ্রামের আব্দুল মন্নাফের মেয়ে হিমা আক্তারের বিয়ে হয়।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    রসায়নের মূল হলো সমীকরণ

    কোনো বাধ্যতামূলক প্রশ্ন থাকবে না

    পাঁচটি অধ্যায় থেকে প্রশ্ন হবে

    সময়টা কাজে লাগাতে হবে

    সময়ের দিকে লক্ষ রাখবে

    তোমরাই সফল হবে

    উত্তরখানে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও পুলিশ ক্যাম্প তৈরির নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

    ক্ষীণ আশা নিয়ে শুরু হচ্ছে ইরান পরমাণু আলোচনা

    তৃতীয় লিঙ্গের চেয়ারম্যান প্রার্থীর কাছে নৌকার ভরাডুবি

    নীলফামারীতে ভোট কেন্দ্রে সংঘর্ষে বিজিবি সদস্য নিহত

    ‘গায়ের রং কালো বলে আমাকে আক্রমণ করা হয়েছে’

    মুহুর্মুহু বোমাবাজিতে শেষ হলো গোসাইরহাটের ভোটগ্রহণ