মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:৫১

আগামী ১১ নভেম্বরের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে যশোরের চৌগাছা ও ঝিকরগাছা। উপজেলা দুটিতে দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ২২টি ইউনিয়নে ভোট হবে। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ প্রত্যেক ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

কিন্তু দৌড়ঝাঁপের পরেও যারা নৌকা প্রতীক পাননি তাঁরাই সরব হয়ে উঠেছেন নিজ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়তে প্রচারও চালাচ্ছেন দুই উপজেলার অন্তত দেড় ডজন নেতা নেতা। মনোনয়নে যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা উপেক্ষিত হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে কেউ কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্রও জমা জমা দিয়েছেন। আর এসব সম্ভাব্য বিদ্রোহী প্রার্থীরাই ঘরের শত্রু বিভীষণ হয়ে উঠতে পারেন আওয়ামী লীগের জয়–পরাজয়ের ক্ষেত্রে।

চৌগাছা: উপজেলার ১১ ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটিতেই বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে পদ-পদবিধারী আওয়ামী লীগের নেতারা। এরই মধ্যে অধিকাংশ বিদ্রোহী প্রার্থী তাঁদের মনোনয়নপত্র স্ব-স্ব রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট জমা দিয়েছেন।

চৌগাছার ফুলসারা ইউপিতে নৌকা পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী মাসুদ চৌধুরী। তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম হাবিবুর রহমানের বেয়াই (ছেলের শ্বশুর) উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক ও ইউনিয়নের সাবেক আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান। তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ একজন দাবি করেছেন।

পাশাপোলে নৌকা পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অবাইদুল ইসলাম সবুজ। তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী হচ্ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মতলেব এবং ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাবেক চেয়ারম্যান শাহিন রহমান। আব্দুল মতলেব তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে ‘স্বতন্ত্রতার সিদ্ধান্ত নিলাম’স্টাটাস দিয়ে প্রার্থী হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

সিংহঝুলীতে নৌকা পেয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক রেজাউর রহমান রেন্দু। তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও গতবারের বিদ্রোহী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ইব্রাহিম খলিল বাদল, সাবেক যুবলীগ নেতা ও ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরপুর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্পাদক শামিম কবীর এবং উপজেলা যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল হামিদ মল্লিক।

ধুলিয়ানীতে নৌকা পেয়েছেন ঠিকাদার এস এম আব্দুস সবুর। তাঁর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন তাঁরই আপন চাচাতো ভাই গতবারের বিদ্রোহী এস এম মোমিনুর রহমান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক চেয়ারম্যান এবং গতবারের নৌকার প্রার্থী আলাউদ্দীন। এস এম মোমিনুর রহমান নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার বিষয় নিশ্চিত করেছেন।

আলাউদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, ‘নৌকা প্রতীক চেয়েছিলাম, দেওয়া হয়নি। আমি নির্বাচন করছি।’

চৌগাছা সদরে নৌকা পেয়েছেন উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। সেখানে বিদ্রোহী হয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসম্পাদক শামীম রেজা।

জগদীশপুরে নৌকা পেয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক তবিবর রহমান খান। সেখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মাস্টার বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

স্বরুপদাহে উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদক সানোয়ার হোসেন বকুল নৌকা পেয়েছেন। সেখানে গতবারের বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শেখ আনোয়ার হোসেন বিদ্রোহী প্রার্থী হচ্ছেন। এ ছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান উপজেলা জাপার সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল কদর এবং রফিকুল ইসলাম খোকনও স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন।

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যাকে প্রার্থী করা হয়েছে তিনি আগের বার দুই হাজার সাত শ ভোট পেয়েছিলেন।’

নারায়ণপুরে নৌকা পেয়েছেন উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর রহমান শাহিন। তা*র বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন গতবারের বিদ্রোহী আবু হেনা মো. মোস্তফা কামাল বিদ্যুৎ। তিনি বলেন, ‘আমার জনপ্রিয়তা রয়েছে। আমি প্রার্থী হচ্ছি।’

সুখপুকুরিয়ায় নৌকা পেয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক জেলা পরিষদ সদস্য হবিবর রহমান হবি। সেখানে বিদ্রোহী হচ্ছেন গতবারের বিদ্রোহী প্রধান শিক্ষক নূরুল ইসলাম।

হবিবর রহমান হবি বলেন, ‘মনোনয়নপত্র তুলেছি। প্রার্থী হচ্ছি। দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তিনি গতবার বিদ্রোহী। তিনি ২০১৯ সালে উপজেলা নির্বাচনসহ সব সময়ই নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করেছেন।’

ঝিকরগাছা: ঝিকরগাছায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিতরা অধিকাংশ নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আভাস পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার পর্যন্ত দুটি ইউনিয়নে তিনজন মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন।

দুই ইউনিয়নে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত নেতারা রীতিমতো কর্মীদের নিয়ে সভা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

গত সোমবার বিকেলে উপজেলার নাভারণ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বুলি স্থানীয় কুন্দিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সভা করেন। এতে ছয়টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাদেও ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় নেতারা দাবি করেন, মনোনয়নে যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা উপেক্ষিত হয়েছে।

একই দিন গদখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত দলের ইউনিয়ন সভাপতি শাহজাহান আলী মোড়লও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নিয়ে সভা করেছেন। সভায় শাহজাহান আলী মোড়ল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    ১৩ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা

    বিলপাড়ার সুস্বাদু চমচম

    ঘাটাইলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হোটেলে ট্রাক, আহত ২

    সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের উসকানি ভারতের মুসলমানদের জীবন বিপাকে ফেলছে: কাদের

    আওয়ামী লীগকে গদি ছেড়ে রাস্তায় নামার পরামর্শ মির্জা আব্বাসের

    এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার দায়িত্ব গ্রহণ

    কাউখালীতে অগ্নিকাণ্ডে ৯ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ৩ বসতঘর পুড়ে ছাই 

    সহিংসতায় জড়িতদের ধরতে প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ 

    ইউরোপীয় পরাশক্তিদের চোখ রাঙাচ্ছে ‘পুঁচকেরা’