মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

মনোনয়ন নিয়ে আতঙ্কে বর্তমান চেয়ারম্যানেরা

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২১, ১১:১০

মিঠাপুকুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বর্তমান চেয়ারম্যানরা আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য নিজ দল আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাবেন কি না তা নিয়ে আতঙ্কে আছেন। পাশের পীরগঞ্জের বর্তমান পাঁচ চেয়ারম্যান নৌকার টিকিটবঞ্চিত হওয়ায় এই দুশ্চিন্তা আরও বেড়ে গেছে।

গত ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭ ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। তাঁদের মধ্যে এবার বালারহাট ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুছ নির্বাচন করবেন না বলে জানা গেছে। অপর ১৬ জন নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁরা দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশা করে এখন জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

তবে পীরগঞ্জের মনোনয়নের প্রভাব পড়েছে মিঠাপুকুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে। দ্বিতীয় দফার ইউপি নির্বাচনের জন্য পীরগঞ্জে আওয়ামী লীগের ১০ জনের মধ্যে পাঁচ নতুন মুখ মনোনয়ন পেয়েছেন। সেখানে বর্তমান পাঁচ চেয়ারম্যানকে মনোনয়ন না দেওয়ায় মিঠাপুকুরের ১৬ চেয়ারম্যানের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পুরোনো চেয়ারম্যানদের মধ্যে কতজন নতুন করে মনোনয়ন পেতে পারেন এ নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। এ ছাড়া মিঠাপুকুরে দলীয় কোন্দল থাকায় দুই গ্রুপই নিজেদের পক্ষের প্রার্থীদের মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে জোর চেষ্টা করবে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতা-কর্মীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, পাঁচ থেকে ছয়টি ইউনিয়নে নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকারের নেতৃত্বে রয়েছে দলের একটি গ্রুপ। এই গ্রুপের নেতা ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নিরঞ্জন চন্দ্র মহন্ত জানান, তাঁরা ১৭ ইউপিতেই চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য দলীয় মনোনয়ন দাবি করবেন।

অপর গ্রুপের অন্যতম নেতা উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ মেসবাহুর রহমান প্রধান জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগসহ সব সহযোগী সংগঠনের মূল কমিটি এবং নেতা-কর্মীরা দলের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ সাংসদ এইচ এন আশিকুর রহমানের পক্ষে আছেন। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য রাশেক রহমানের দিক নির্দেশনা মোতাবেক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। ইউপি নির্বাচনেও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক প্রার্থীর তালিকা তৈরি করা হবে।

মেসবাহুর রহমান বলেন, যেসব বর্তমান চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এবং করোনা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং যাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নেই তাঁরা আবারও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেতে পারেন।

মিলনপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হালিম চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাংসদ আশিকুর রহমান ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য রাশেক রহমানের দিক নির্দেশনা মোতাবেক কাজ করে জনগণের সঙ্গে আছি। গত ৫ বছর কোনো বদনাম স্পর্শ করতে পারেনি। এমন অবস্থায় আমি নৌকা প্রতীক পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।’

একই কথা বলেন ময়েনপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক। তিনি জানান, উন্নয়ন, ত্রাণ বিতরণ ও করোনা মোকাবিলাসহ সরকারের গৃহীত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে দলকে সুসংগঠিত করা হয়েছে।

আরও কয়েকজন চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মনোনয়ন নিয়ে যাতে দলাদলি ও কোন্দলের সৃষ্টি না হয় এ জন্য বর্তমান চেয়ারম্যানদের অধিকাংশই নৌকা প্রতীক পাবেন বলে তাঁরা আশা করছেন।

এ বিষয়ে গতকাল বুধবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যে সব ইউপি চেয়ারম্যান নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালিয়ে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিলেন, আসন্ন নির্বাচনে তাঁদের মনোনয়ন না দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাসহ নির্বাচনী বোর্ডের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

আসন্ন নির্বাচনে মিঠাপুকুরের জনপ্রিয় ও ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মনোনয়ন দেওয়ার জন্য চেষ্টা করা হবে বলে জানান জাকির হোসেন।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    ১৩ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা

    বিলপাড়ার সুস্বাদু চমচম

    ঘাটাইলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হোটেলে ট্রাক, আহত ২

    মামলার ভয় দেখিয়ে চিকিৎসক খালুর ৯৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ

    নন্দীগ্রামে বৃদ্ধি পাচ্ছে পরিবেশ বিপর্যয়কারী ইউক্যালিপটাস গাছের উৎপাদন ও বিপণন

    করোনার টিকা কি বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত

    সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের উসকানি ভারতের মুসলমানদের জীবন বিপাকে ফেলছে: কাদের

    আওয়ামী লীগকে গদি ছেড়ে রাস্তায় নামার পরামর্শ মির্জা আব্বাসের

    এ এইচ এম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার দায়িত্ব গ্রহণ