মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

খাদ্যবান্ধব চালের কার্ড নবায়নে টাকা আদায়

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০২১, ১২:২৫

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল নিতে আসা মানুষের ভিড়। ছবিটি মাধবনগর বাজারের একটি বিতরণ পয়েন্ট থেকে গতকাল তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা নাটোরের নলডাঙ্গায় হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের দেওয়া খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চালের কার্ড নবায়নে টাকা আদায়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার যোগসাজশে কর্মসূচির উপজেলা ডিলার এ টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ করেন হতদরিদ্র উপকারভোগীরা।

জানা যায়, ২০১৬ সাল থেকে সারা দেশের ইউনিয়ন পর্যায়ে হতদরিদ্র মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালু করে সরকার। কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে পরিবারপ্রতি ৩০ কেজি চাল ৩০০ টাকায় বিক্রি শুরু করা হয়। নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ৬ হাজার ৮৩২ জন হতদরিদ্র উপকারভোগীর তালিকা তৈরি করা হয়। প্রতিবছর মার্চ, এপ্রিল, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর এই পাঁচ মাস ওই চাল বিতরণের জন্য উপজেলায় ১১ জন ডিলার নিয়োগ দেয় উপজেলা প্রশাসন। পাঁচ বছর ধরে এ সুবিধা পেয়ে আসছে উপজেলার হতদরিদ্র ৬ হাজার ৮৩২টি পরিবার। চলতি বছর উপকারভোগীদের কার্ডের লেখার ঘর শেষ হওয়ায় নবায়নের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কার্ড নবায়নের জন্য উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ডিলারদের নির্দেশ দেন। ডিলারেরা ওই সুযোগে কার্ড নবায়নের নামে কার্ডপ্রতি ১২০ থেকে ১৫০ টাকা আদায় করছেন বলে অভিযোগ করেন উপকারভোগীরা। আবার তালিকায় নাম থাকলেও চার বছর ধরে চাল না পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এ ছাড়া অনেক বিত্তবান এ সুবিধায় চাল উত্তোলন করে প্রতি কেজি ৩০ টাকায় হতদরিদ্রদের কাছে বিক্রি করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার বিপ্রবেলঘরিয়া ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের জায়েদা বেওয়া জানান, তালিকায় নাম থাকলেও তাঁকে কার্ড দেওয়া হয়নি। এতে চাল তুলতে পারেননি তিনি। তাঁর নামে বরাদ্দ দেওয়া চাল চার বছর ধরে সংশ্লিষ্ট ডিলার উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির বিপ্রবেলঘরিয়া ইউনিয়নের ডিলার সিদ্দিকুর রহমান জানান, এর আগে একজনের নামের কার্ডের চাল পরিবারের যে কেউ তুলতে পারতেন। খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার নির্দেশে উপকারভোগী কার্ডধারীর অনুপস্থিতিতে অন্য কাউকে চাল দেওয়া বন্ধ করা হয়। পরে মির্জাপুর গ্রামের জায়েদা বেওয়ার কার্ডের চাল আর কেউ তুলতে আসেননি। ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুকুল ফোন করলে জায়েদাকে আবার চাল দেওয়া শুরু করেন তিনি। তবে আগে কে বা কারা তাঁর (জায়েদা) চাল তুলেছেন, সে বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন ডিলার সিদ্দিকুর।

পশ্চিম মাধবনগর গ্রামের এরশাদ সরদার, বাচ্চু রহমান ও কালিপদ অভিযোগ করে জানান, ডিলারেরা চাল বিতরণের সময় কার্ড রেখে নবায়নের নামে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা আদায় করেন। টাকা দিতে না চাইলে তাঁরা কার্ড বাতিলের হুমকি দেন।

পাটুল হাফানিয়া গ্রামের উপকারভোগী রশিদা বেগমের স্বামী আশরাফুল ইসলাম রশিদ জানান, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্ত্রীর নবায়নকৃত কার্ড নিতে এলে তাঁর কাছ থেকে ১০০ টাকা আদায় করা হয়।

মাধবনগর ইউনিয়নের ডিলার মঞ্জুর আলম বাবু কার্ড নবায়নের জন্য টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমার কিছু কর্মচারী উপকারভোগীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে নবায়ন করা কার্ড দিয়ে ১২০ টাকা আদায় করেছেন। আদায় করা টাকা আমরা ভুক্তভোগীদের কাছে ফেরত দিচ্ছি।’

নলডাঙ্গা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা রওশানুল কাওছার বলেন, কার্ড নবায়নে কোনো টাকা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি জানার পর উপকারভোগীদের কাছ থেকে আদায়কৃত টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি প্রকল্পের সভাপতি ও নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আফরোজা খাতুন বলেন, ‘কার্ড নবায়নে কোনো টাকা আদায় করা যাবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    ১৩ চেয়ারম্যান প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা

    বিলপাড়ার সুস্বাদু চমচম

    ঘাটাইলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হোটেলে ট্রাক, আহত ২

    মেয়র আতিকুলের বিরুদ্ধে করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা খারিজ

    দুই মাস আগে মা হওয়া গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার 

    মামলার ভয় দেখিয়ে চিকিৎসক খালুর ৯৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ

    নন্দীগ্রামে বৃদ্ধি পাচ্ছে পরিবেশ বিপর্যয়কারী ইউক্যালিপটাস গাছের উৎপাদন ও বিপণন

    করোনার টিকা কি বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত

    সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের উসকানি ভারতের মুসলমানদের জীবন বিপাকে ফেলছে: কাদের