বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

৪২০ মিটার রাস্তায় দুর্ভোগ

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:০৩

বান্দরবান-কালাঘাটা সড়ক সংস্কারের জন্য কার্যাদেশ দেওয়ার দুই মাসেও কাজ শুরু হয়নি। সম্প্রতি সড়কের সিসিডিবি এলাকা থেকে তোলা ছবি। আজকের পত্রিকা বান্দরবান শহরের মাত্র ৪২০ মিটার রাস্তা সংস্কারে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে দুই মাস আগে। কিন্তু বর্ষার ‘অজুহাতে’ এখনো কাজ শুরু হয়নি। এদিকে রাস্তার স্থানে স্থানে গর্তে পানি-কাদা জমে পথচারী ও যানবাহন চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে সড়কটি এখন কালাঘাটাবাসীর দুঃখে পরিণত হয়েছে।

বান্দরবান সদরের সাঙ্গু সেতু-২ (কালাঘাটা নতুন সের) এর নিচ থেকে সিসিডিবি-শিশু পরিবার-বড়ুয়ারটেক-রোয়াংছড়ি মুখ পর্যন্ত ৪২০ মিটার রাস্তাটি সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১ কোটি ৮ লাখ টাকার ওই কাজটি পায় বান্দরবানের মেসার্স এমএম ট্রেডার্স। এতে অর্থায়ন করছে বান্দরবান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। তবে কার্যাদেশ দেওয়ার পর প্রায় দুই মাস পার হলেও রাস্তায় কাজ শুরুই হয়নি এখনো।

গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, কালাঘাটা সাঙ্গু সেতুর নিচ থেকে বড়ুয়ার টেক-রোয়াংছড়ি মুখ পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত। এতে পানি জমে থাকা গর্তের গভীরতা চোখের দেখায় বোঝা যায় না। হাঁটতে গেলে লোকজন গর্তে পড়ে আহত হচ্ছেন, জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কের বাস, অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন এ সড়ক দিয়েই চলাচল করে। অনেক সময় এসব যানবাহন গর্তে পড়ে যায়। রিকশা, টমটম চলতেই পারে না।

ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বান্দরবান পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড কালাঘাটা। এখানে সরকারি শিশু পরিবার (শিশু সদন)। এ ছাড়া আশপাশের কয়েক হাজার লোক এ সড়ক দিয়েই চলাচল করে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি এখন ‘কালাঘাটাবাসীর দুঃখে’ পরিণত হয়েছে।

কালাঘাটা এলাকার বাসিন্দা মো. ফারুক, শাহেদ আলী, অধীর দাস, শেফালি তঞ্চঙ্গ্যাসহ কয়েকজন বলেন, বড় বড় গর্ত হয়ে যাওয়ায় সব সময়ই রাস্তায় কাদাপানি থাকে। রাস্তার পাশে ফুটপাত নেই, ড্রেনের কাজও অসমাপ্ত। এমন পরিস্থিতিতে তাদের বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে প্রতিনিয়ত তাদের ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

টমটম ও রিকশাচালকেরা বলেন, রাস্তা দিয়ে টমটম ও রিকশা চলতে না পারায় কালাঘাটার ভেতর দিয়ে বিকল্প সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে। এ ছাড়া ওই রাস্তাটি সরু হওয়ায় বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির কারণে তাদের রাস্তার পাশে থেমে থাকতে হয়। এতে সময় ও অর্থ বেশি যাচ্ছে।

এলাকাবাসী ও যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করেন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অজিত দাশ। গতকাল মঙ্গলবার তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কাজটি শুরু করার জন্য বলেছেন। ঠিকাদার দ্রুত কাজ শুরু করবেন বলে তাঁকে জানিয়েছেন।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম ট্রেডার্সের মালিক মং মং গতকাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, বর্ষায় রাস্তার দুই পাশ থেকে পানি ও মাটি রাস্তায় এসে জমে, এতে কাজ করা সম্ভব নয়। আগামী মাস থেকে রাস্তার কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

বান্দরবান এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন গতকাল আজকের পত্রিকাকে বলেন, দুই মাস আগে কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বর্ষার কারণে কাজ শুরু করা যায়নি। ৪২০ মিটার দীর্ঘ এই রাস্তা আরসিসি দ্বারা সম্পন্ন হবে। বর্ষায় কাজের গুণগত মান ঠিক রাখা যায় না। বর্ষা শেষ হলেই রাস্তার কাজ শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বলা হয়েছে।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    টাঙ্গাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ দুজন নিহত

    সাত মাসেও গ্রেপ্তার হননি স্বামী পিবিআইতে মামলা হস্তান্তর

    সেতু নেই, দুর্ভোগে লাখো মানুষ

    পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ: বিএনপির ১৫ নেতাকর্মী রিমান্ডে

    করোনায় আরও ৬ মৃত্যু, কমেছে শনাক্তের হার

    প্রেম থেকে প্রতারণা, প্রেমিকের বন্ধুসহ গ্রেপ্তার ২ 

    ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলামের মেয়াদ বাড়ল এক বছর 

    সারিয়াকান্দিতে ছাগল নিয়ে দু'পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১ 

    তিতাসের কড়িকান্দি ইউনিয়নে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান হলেন মুরাদ