বৃহস্পতিবার, ২৮ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

কাজ না করেই শেষের গল্প

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২১, ১১:০৬

রাজস্থলীর রাবার বাগান থেকে তরগুমুখপাড়া পর্যন্ত সড়কের পাইথংপাড়ার এই গোসলঘাট পাকা হওয়ার কথা। কিন্তু এখনো কাজ শুরু হয়নি। tআজকের পত্রিকা কাগজ-কলমের হিসাবে রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলায় দুটি রাস্তা বদলে দিয়েছে পাহাড়িদের ভাগ্য। এতে সরকারের বরাদ্দ ছিল ৪ কোটি টাকা।

এদিকে বাস্তবে এই কাজ শেষ না হওয়ায় উন্নয়নের ওই প্রচার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। বিব্রত উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, রাস্তাটি নির্মাণকাজ চলমান আছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ১ নভেম্বর রাস্তার কাজের জন্য টেন্ডার বিজ্ঞাপন দেয় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ। এর ১ নম্বরে ছিল রাবার বাগান থেকে পাইন্দং পাড়া, শ্মশানঘাট যাত্রী ছাউনি হয়ে তরগুমুখপাড়া পর্যন্ত সড়ক।

তালিকার ২ নম্বরে ছিল ইসলামপুর বালুমুড়া থেকে কেচিপাড়া-কমলছড়িপাড়া পর্যন্ত পাকা রাস্তা নির্মাণ। প্রায় ২ কোটি করে দুটি রাস্তার বরাদ্দ দেওয়া হয় ৪ কোটি টাকা। রাস্তা দুটি নির্মাণকাজ পায় রফিকুল আলম লিটনের মালিকানাধীন লিটন এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

এ দিকে সরেজমিন পরিদর্শনে রাবার বাগান থেকে পাইন্দং পাড়া, শ্মশান ঘাট যাত্রী ছাউনি হয়ে তরগুমুখপাড়া সড়কে কাজের কোনো নজির পাওয়া যায়নি।

তরগুমুখপাড়া বাসিন্দা ইসলামপুর বাজারে ফার্মেসি ব্যবসায়ী ক্রইচিংমং মারমা জানান, ‘রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করার জন্য দামি মোটরসাইকেল নিয়ে অনেকজন আসা-যাওয়া করছে। কিন্তু এখনো কোথাও কাজ শুরু করেনি।’

পাইন্দংপাড়া কার্বারি মংচখয় মারমা বলেন, ‘আমাদের গ্রামের রাস্তা তরগু ছড়ার ওপর কালভার্ট পর্যন্ত কোথাও সলিং, কোথাও পাকা রাস্তা ৩ বছরের আগে নির্মাণ করা হয়েছে। এই রাস্তাটি পাকা করার জন্য রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের অনেক লোকজন ঘুরে গেছে। এখনো নতুন কোনো রাস্তা নির্মাণকাজ হয়নি।’

ইসলামপুর বালুমুড়া থেকে কেচিপাড়া হয়ে কমলছড়ি রাস্তা পাকা নির্মাণ বিষয়ে আওয়ামী লীগ দলের সাধারণ সম্পাদক পুচিংমং মারমা বলেন, ‘আমার গ্রামের বাড়ি কমলছড়িপাড়া। এই ধরনের রাস্তা নির্মাণ হয়ে থাকলে আমি অবশ্যই জানব।’ এই রাস্তা নির্মাণ বিষয়ে তিনি কিছুই জানে না।

ইসলামপুর বাজার এলাকা বাঙ্গালহালিয়া ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য মো. মোতালেব হোসেন জানান, গত কয়েক বছর আগে রাস্তা নির্মাণকাজ হয়েছিল। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে কারণে লকডাউন আগে থেকে এখনো পর্যন্ত উন্নয়নকাজ হয়নি।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এ বিষয়টি কথা বলতে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. এরশাদুল হক মণ্ডল, নির্বাহী প্রকৌশলী বিরল বড়ুয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি। পরে মেসেজ পাঠিয়েও তাঁদের সাড়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে ওই দুই কর্মকর্তাসহ ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক লিটন এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করেন, রাস্তা দুটি নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। আবার রাস্তাগুলো পাকা হওয়ায় স্থানীয় ৭-৮টি গ্রাম সুফল হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবিও করছেন।

নাম প্রকাশ না শর্তে উপজেলায় আওয়ামী লীগের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, হাজারো প্রশ্নবিদ্ধ রাস্তা নির্মাণকাজ নিয়ে বিব্রত অবস্থা মধ্যে আছেন।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    আগাম শীতের সবজি চাষ

    হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি

    পুকুর থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

    চাকরির জন্য যৌতুকের টাকা না দেওয়া অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মারধর

    ভারতকে বিশ্বকাপ এনে দেওয়া কোচকেই নিয়ে আসছে পাকিস্তান! 

    বিধবা নারীর বাড়িতে ঢুকে হামলার অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

    আনোয়ারায় চার দিনে ৮টি গরু চুরি

    বাগাতিপাড়ায় নৌকার বিপক্ষ প্রার্থী সংসদ সদস্যের দুই ভাই

    যশোরে রাজাকারের ছেলেকে মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগ, নেতাকর্মীদের ক্ষোভ