মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১

সেকশন

 

মাদ্রাজি ওল চাষে সম্ভাবনা

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২১, ১৩:৪৭

টুঙ্গিপাড়ার দক্ষিণ বাঁশবাড়িয়া গ্রামের হেলাল উদ্দিনের প্রদর্শনী খেতে মাদ্রাজি ওলকচুর ফলন দেখছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাকিব জুবায়ের (ডানে)। সম্প্রতি তোলা ছবি। আজকের পত্রিকা বাড়ির পাশে শখের বশে স্থানীয় জাতের ওলকচু চাষ করেছেন অনেকে। কিন্তু গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় এই প্রথম পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ও লাভজনক মাদ্রাজি জাতের ওলকচু চাষাবাদ হয়েছে। উচ্চ ফলনশীল এ সবজি বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ করছেন উপজেলার সাতজন কৃষক। নতুন এ সবজি থেকে প্রায় তিনগুণ মুনাফার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জামাল উদ্দিন জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় উচ্চ ফলনশীল মাদ্রাজি জাতের ওলকচু চাষের বিষয়ে উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের ২৭০ জন কৃষককে প্রশিক্ষণ শেষে সাতজন কৃষককে প্রদর্শনীর জন্য চাষ করতে ওলকচু দেওয়া হয়েছে।

কৃষকদের মাদ্রাজি ওলকচুর বীজ (৬০ কেজি কন্দ), ২০ কেজি ডিএপি, ২০ কেজি ইউরিয়া, ১৫ কেজি এমওপি, ১ কেজি দস্তা, ১৫ কেজি জিপসাম সার দেওয়া হয়েছে। সাতজন কৃষক মোট ১৪০ শতক জমিতে ওলকচু চাষ করেছেন।

তিনি আরও জানান, মার্চ-এপ্রিল মাসে মাদা (বড় গর্ত) করে মাটির এক ফুট নিচে এই কন্দ লাগানো হয়। এই সবজি চাষে বেশি পরিচর্যা করতে হয় না। কৃষকের কষ্ট কম হয়, আর কম খরচে লাভও হয় বেশি। পতিত জমি ব্যবহার করার উত্তম ফসল এই ওলকচু।

ইতিমধ্যেই নতুন ফসলের চাষাবাদ করে কৃষকেরা খুশি। কারণ ফলন ভালো হয়েছে আর বাজারে দামও ভালো। ভবিষ্যতে কৃষি অফিসের ১০ বিঘা জমিতে মাদ্রাজি জাতের ওলকচু চাষাবাদের পরিকল্পনা রয়েছে।

উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের দক্ষিণ বাসুড়িয়া গ্রামের কৃষক বেল্লাল উদ্দিন বলেন, কৃষি অফিস থেকে প্রদর্শনীর জন্য উপকরণ পেয়ে ২০ শতক জমিতে এই নতুন ফসল চাষ করেছেন। ২৫০ গ্রাম ওজনের কন্দ রোপণ করে ৫-৬ মাস বয়সে এক একটির ওজন ৪-৫ কেজি হয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। স্বল্প খরচে বেশি লাভের সম্ভাবনার কথা শুনে অন্যান্য কৃষকেরাও তাঁদের কাছ থেকে কন্দ সংগ্রহ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

উপজেলার কুশলী ইউনিয়নের দক্ষিণ বাঁশবাড়িয়া গ্রামের কৃষক হেলাল উদ্দিন ও দক্ষিণ বাসুড়িয়া গ্রামের আসাদ শেখ বলেন, মাদ্রাজি জাতের ওলকচু নতুন সবজি হওয়ায় কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এইবার প্রথম চাষ করেছেন। কৃষি অফিস থেকে সার ও বীজ দেওয়ার পর ২০ শতাংশ জমিতে একজন কৃষকের ২-৩ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বিশ শতাংশ জমিতে ৩০-৩৫ মণ ওলকচু হবে। তাতে প্রায় ৪০ হাজার টাকা বিক্রি করতে পারবেন। এই সবজি চাষে যে টাকা খরচ হয় তাঁর থেকে প্রায় তিনগুণ বেশি লাভ হবে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলাম বলেন, ওলকচু একটি লাভজনক কন্দ জাতীয় সবজি। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে লাভবান হওয়া সম্ভব। তাই মাদ্রাজী জাতের ওলকচু চাষে কৃষকদের উৎসাহী করছেন ও নানাভাবে পরামর্শ দিচ্ছেন। ভবিষ্যতে এই ফসলের চাষাবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করেন তিনি।

মন্তব্য

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।
Show
 
    সব মন্তব্য

    ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

    এলাকার খবর

    সিমেন্ট বোঝাই ট্রাক পুকুরে

    টাঙ্গাইলে অপরাধ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

    সখীপুরে নিত্যসঙ্গী যানজট

    বাংলাদেশের সহিংসতায় পশ্চিমবঙ্গের বুদ্ধিজীবীদের উদ্বেগ

    এই অসুরকে বধ করতে হবে: মির্জা ফখরুল

    ঢাবিতে সাম্প্রদায়িক হামলার বিরুদ্ধে মশাল মিছিল 

    মহেশখালীতে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা

    খেয়াঘাটে দুই বোনকে শ্লীলতাহানি ও মারধরের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

    পূজামণ্ডপ সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় গ্রেপ্তার ৪৫০, মামলা ৭১